দুর্নীতি অবশ্যই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৩৭ পিএম, ১৩ মে ২০১৯

ফরহাদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসনের উন্নয়ন, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে সম্প্রতি মুখোমুখি হন জাগো নিউজ-এর। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলোচনা করেন নিজের মন্ত্রণালয় প্রসঙ্গে। এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন বলে উল্লেখ করেন। প্রশাসনকে দক্ষ করে তুলতে সময়োপযোগী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তবে সরকারের জন্য দুর্নীতিই বড় চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনের মধ্যেও দুর্নীতি আছে বলে মত দেন এ রাজনীতিক। বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন করতে পারলেই জনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। দুই পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি।

জাগো নিউজ : দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে। কতটুকু জনবান্ধব হতে পারল প্রশাসন?

ফরহাদ হোসেন : জনকল্যাণে সেবা নিশ্চিতের কথা আমাদের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে আছে। শপথের পর প্রধানমন্ত্রী ১৭ জানুয়ারি যখন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে আসেন, তখন তিনি ইশতেহারের বিষয়টি পুনঃব্যক্ত করেন এবং তার সেই বার্তা আমরা সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছি।

আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রশাসন এখন অনেকটাই জনবান্ধব হয়েছে। তবে আজকের এ পরিবেশ ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল। বিশেষ করে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস নেয়। এ সময়ে প্রশাসনের সব কার্যালয়গুলো অনিয়মমুক্ত এবং জনগণ যাতে সেবা পেতে পারেন সেজন্য বিশেষ তাগিদ ছিল।

আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, জনগণ তার সেবা যেন মাঠপর্যায় থেকে পেতে পারেন এবং তার নিশ্চয়তা দেয়া। রাষ্ট্র, সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে অবশ্যই প্রশাসনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মানুষের প্রতি সহানুভূতি থাকতে হবে। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। প্রথমত, প্রশাসনের ব্যক্তিদের মনে রাখতে হবে তারা জনগণের সেবক।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুও প্রশাসনের ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘যারা সময়ের ডাকে সাড়া দেবেন, তারাই চাকরিতে থাকুন।’ সংবিধানে বলা আছে, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। জনগণের কাঙ্ক্ষিত অধিকার পূরণে সচেষ্ট থাকার ওপরই আমরা অধিক জোর দিচ্ছি। এ কারণে আমাদের আরও বিবেকবান ও দক্ষ প্রশাসন প্রয়োজন।

জাগো নিউজ : দক্ষ প্রশাসন তো সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন?

ফরহাদ হোসেন : গোটা দুনিয়া প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। যে দেশ যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর সে দেশ তত বেশি শক্তিশালী। আমরা প্রশাসনকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ডিজিটালাইজেশন করে তুলছি।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়গুলোতে সপ্তাহে একদিন গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যা নিয়ে সেখানে কথা বলবেন। প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান করবেন।

সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়া। প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তার কাছে এ বার্তা এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে বিশ্বাস করি।

আমরা আহ্বান জানিয়েছি, প্রশাসনের প্রতিটি ব্যক্তি স্ব-স্ব জায়গা থেকে যেন দায়িত্ব পালন করেন। তাহলে একটা জনবান্ধব ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে উঠবে।

জাগো নিউজ : রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে এমন আশাবাদ সবসময় ব্যক্ত করা হয়। কিন্তু অভিযোগ আছে, প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে…

ফরহাদ হোসেন : আমি ঠিক এ অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করতে পারছি না। বাংলাদেশ আর আগের জায়গায় নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশাল বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ। টেকসই উন্নয়নের মধ্য দিয়ে আমরা উচ্চ-মধ্যম আয় ও উন্নত বিশ্বে যেতে চাই।

এ কারণে প্রশাসনের প্রতিটি ব্যক্তিকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যেতে হচ্ছে। সবার মাঝে বিশেষ গতি এসেছে। যে ব্যক্তি যে কাজের জন্য উপযুক্ত তাকে সেখানেই দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের গতি বাড়াতে জনপ্রশাসন থেকে দক্ষ কর্মকর্তা দেয়ার চেষ্টা করছি আমরা।

কর্মকর্তাদের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। তাদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বড় অঙ্কের অর্থও বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

জাগো নিউজ : দক্ষতার প্রশ্নে তবুও নানা অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ যিনি যে সেক্টরের জন্য উপযুক্ত নন, তাকে সেই সেক্টরে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে এবং সেটা বিশেষ বিবেচনায়…

ফরহাদ হোসেন : এ অভিযোগও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বিশেষ পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করি। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন।

আমার এখন কোনো কর্মকর্তার পদায়নের সময় তার অভিজ্ঞতা, একাডেমিক বিষয় যাচাই-বাছাই করি। একই সঙ্গে তার মতামতও গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নেয়া হয়। জোর করে কাউকে কোথাও পদায়ন করা হচ্ছে না। আমরা যুগোপযোগী ক্যারিয়ার প্ল্যান নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছি।

একজন সৎ ও যোগ্য অফিসারের কাজের মূল্যায়ন দিয়েও আমরা এখন পদায়নে গুরুত্ব দিচ্ছি। ক্যারিয়ার প্ল্যানিং ও ব্যক্তিগত মূল্যায়নের বিষয়টি নির্ধারিত হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে। অফিসাররা নিজেই এখন নিজ কাজের দক্ষতা যাচাই করতে পারবেন- এমন সফটওয়্যার সংযুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন অফিসারদেরও।

মূল্যায়নের ব্যাপারে আমরা বিশেষ সমতা আনছি। যেমন- একজন ইউএনও মূল্যায়ন করে থাকেন এসিল্যান্ড বা সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তাদের। আবার ইউএনও মূল্যায়িত হন ডিসি দ্বারা। ডিসি মূল্যায়িত হন বিভাগীয় কমিশনার দ্বারা। এখন একজন এসিল্যান্ডও তার ইউএনওকে মূল্যায়ন করার অধিকার রাখবেন এবং সেটা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরেই থাকবে। প্রতি দুই মাস অন্তর এ মূল্যায়ন আমাদের মেইন সার্ভারে চলে আসবে।

কোন কোন বিষয়ে মূল্যায়ন করা হবে তার ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। একজন ক্যাডার যোগ দিয়েই তার নিজের কাজের ব্যাপারে অবগত হতে পারছেন। এ কারণেই ভালোর প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে প্রশাসনে। কারণ নিজের কাজের মূল্যায়ন খারাপ করে কেউই তার পদোন্নতি প্রলম্বিত করতে চাইবেন না। এছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতি না করার যে তাগিদ দেয়া হয় তারও আর দরকার পড়বে না। প্রত্যেকে প্রত্যেকের ব্যাপারে মূল্যায়নের অধিকার রাখলে সবাই সতর্ক থাকার চেষ্টা করবেন।

জাগো নিউজ : এসব করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জও আছে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে কী বলবেন?

ফরহাদ হোসেন : বিশেষ একটি সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে অনিয়ম দূর করাই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করি। বাংলাদেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সামনে আমাদের সুদক্ষ আমলার প্রয়োজন পড়বে। সরকারি কর্মকর্তারা যত দক্ষ হবেন, বাংলাদেশ তত এগিয়ে যাবে। কারণ সংসদে নেয়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো মূলত আমলারাই বাস্তবায়ন করেন। আমলারা দক্ষ হলে কাজের গতি বাড়বে কয়েক গুণ। পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের বিষয়টি আমালে নিলে বর্তমান জনপ্রশাসনই দক্ষ জনসম্পদে রূপ নেবে।

জাগো নিউজ : আমলারা অধিক শ্রম দেবেন। তাদের চাহিদাও বাড়তে পারে। এটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে কিনা?

ফরহাদ হোসেন : দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে। কাউকে পেছেনে রেখে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। যেমন- আগে ইউএনওকে যে গাড়ি দেয়া হতো, তা টেকসই ছিল না। ৬০-৬৫ লাখ টাকার গাড়ি দেয়া হতো। এখন তাদের ৯১ লাখ টাকার গাড়ি দেয়া হচ্ছে। আমরা আমলাদের অধিক সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছি। তারা যেন দ্রুত মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে পারেন, সেজন্য সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। ডিসিদের অফিসগুলোও আধুনিক মানের হচ্ছে। প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে নতুনত্ব আনা হচ্ছে, যাতে আমলারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের বেতন প্রায় ১২৩ গুণ বাড়িয়েছেন। বেতনকাঠামো নিয়ে তারা এখন সন্তুষ্ট। প্রতি বছর প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা করে বাজেটের আকার বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অবকাঠামো বানাচ্ছি আমরা। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এসবে বরাদ্দ কমে আসবে। রাজস্বব্যয় বাড়বে অন্য ক্ষেত্রে। যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, বিমানবন্দর নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের আরও আধুনিকমানের করতে রাজস্বব্যয় নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। তারা ভালো থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী চাইছেন, আগামীতে আমরা যেন একটি বিশ্বমানের জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে পারি, যারা উন্নত বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ দিতে পারবে। আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আধুনিকমানের জনপ্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই।

জাগো নিউজ : বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন। কিন্তু এ অগ্রযাত্রার প্রধানতম অন্তরায় দুর্নীতি। আমলাতন্ত্র ঘিরেই দুর্নীতির যত অভিযোগ। এ প্রশ্নের জবাবে কী বলবেন?

ফরহাদ হোসেন : দুর্নীতির সেই আগের অবস্থা কিন্তু এখন আর নেই। এরপরও আমরা চাই, দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের জোরালো ভূমিকা রাখুক। কারণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সবকিছু তদারকির সক্ষমতা হয়তো এখনও গড়ে ওঠেনি।

তবে জোর দিয়ে বলতে পারি, সব ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন হলে দুর্নীতি অনেকটাই কমে যাবে এবং আগামীতে আরও কমবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতিই থাকবে না।

আমরা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছি। এখন সমাধানের সময়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এখন সেটা বুঝতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেতন-ভাতাসহ সব সুবিধাই বাড়ানো হয়েছে। এখন দুর্নীতি হবে কেন?

জাগো নিউজ : বেতন বাড়ানো হয়েছে বেশ আগেই। এরপরও দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে…

ফরহাদ হোসেন : দুর্নীতি অবশ্যই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্নীতি আছে। তবে তা দূর করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

প্রশাসনে দুর্নীতি আছে বলেই মানুষ শতভাগ সেবা পাচ্ছে না। প্রশাসনের কেউ যদি মনে করেন যে, আমাকে তো বাড়তি অর্থ দেয়া হচ্ছে, তাহলে বাড়তি অর্থ আদায় করতে হবে কেন? জনগণের সেবার জন্য আমাকে এখানে বসানো হয়েছে এবং জনগণের দেয়া অর্থ থেকেই আমার বেতন হয়, তাহলে তো দুর্নীতি আর থাকার কথা নয়। সরকারি অফিসারদের বেতন এখন সন্তোষজনক। আসলে বেতন আর সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে মানসিকতার। এটারও পরিবর্তন প্রয়োজন।

জাগো নিউজ : দুর্নীতি রোধে আপনার নিজস্ব কোনো ভাবনা আছে কিনা?

ফরহাদ হোসেন : আমি চাই, কাজের এমন একটা পরিবেশ তৈরি হোক, যেখানে চাইলেও দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। আমরা সেই পরিবেশটা তৈরি করতে যাচ্ছি। যেমন- ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ে সবাই অবগত। জমির খারিজ নিয়ে হয়রানি হতে হয়। জমির খারিজ এখন অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এসিল্যান্ড দুর্নীতি করছে কিনা- সেটা তদারকির জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এমন ব্যবস্থা প্রতিটি অফিসেই তৈরি করা হবে। আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে দুর্নীতি কমে আসবে।

সরকার প্রতিটি কর্মক্ষম মানুষের আয়ের পথ বাতলে দিচ্ছে। একশটি অর্থনৈতিক এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব এলাকায় লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বাইরের বিনিয়োগও প্রত্যাশা করছি। দেশের মধ্যেই যেন বিশ্বমানের কোম্পানি তৈরি হয়, তার পরিবেশ করে দিচ্ছে সরকার।

সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশেষ পরিবর্তন আসবে অর্থনীতি আর উন্নয়নে। সবাই আয়ের পথে থাকবে। বেকারত্ব না থাকলে, মানুষ আয় করতে পারলে অন্যকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিজের সেবা নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাই তখন সজাগ হবে।

এএসএস/এমএআর/পিআর

বেকারত্ব না থাকলে, মানুষ আয় করতে পারলে অন্যকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে নিজের সেবা নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাই তখন সজাগ হবে

এখন একজন এসিল্যান্ডও তার ইউএনওকে মূল্যায়নের অধিকার রাখবেন এবং সেটা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরেই থাকবে। প্রতি দুই মাস অন্তর এ মূল্যায়ন মেইন সার্ভারে চলে আসবে

অফিসাররা নিজেই এখন নিজ কাজের দক্ষতা যাচাই করতে পারবেন- এমন সফটওয়্যার সংযুক্ত হচ্ছে। বিভিন্নভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন অফিসারদেরও

জেলা প্রশাসক কার্যালয়গুলোতে সপ্তাহে একদিন গণশুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যা নিয়ে সেখানে কথা বলবেন। তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান করবে প্রশাসন

মানুষের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। প্রথমত, প্রশাসনের ব্যক্তিদের মনে রাখতে হবে তারা জনগণের সেবক


আরও পড়ুন