বড় কর্তারা চান না পুরনো গাড়ি, তাই…

মুরাদ হুসাইন
মুরাদ হুসাইন মুরাদ হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০১৯

বিলাসবহুল তিন ডজন সরকারি গাড়ি পড়ে আছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) পুরনো গ্যারেজে। দেখে মনে হবে গাড়ির ভাগাড়! এসব গাড়ির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ না হলেও পুরাতন গাড়ি হিসেবে তা ফেলে দেয়া হয়েছে। নতুন-পুরনো মডেলের দামি গাড়িগুলো রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় আট কোটি টাকা!

ডিপিইতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের ১২টি জিপ ও মাইক্রোবাস পুরনো গ্যারেজে পড়ে আছে। এর মধ্যে ‘টয়োটা প্রাডো’, ‘রকি’, ‘ইসুজু’, মিতসুবিশিসহ ১৯৯৭-৯৮ থেকে ২০০৮ সালের বিভিন্ন মডেলের গাড়ি রয়েছে। পাঁচটির মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সাতটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ না হওয়ার আগেই তা পুরনো গ্যারেজে ফেলে দেয়া হয়েছে। গত দুই বছরে ১২টি গাড়ি বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে তা অবহেলা আর অযত্নে সেগুলো অকেজো হয়ে যাচ্ছে। গাড়িগুলো বিক্রির জন্য নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে ডিপিই থেকে জানা গেছে।

car-01

ডিপিই সূত্র জানায়, গ্যারেজে পড়ে থাকা ১২টি গাড়ির মধ্যে কোনোটির সামান্য ক্ষত হয়েছে, কয়েকটির ইঞ্জিনে ত্রুটি ধরা পড়েছে, মেরামত করলে সেগুলো ঠিক হয়ে যাবে। কয়েকটি আবার সম্পূর্ণ ভালো। নতুন মডেলের গাড়ি পাওয়ায় কর্মকর্তারা সেগুলো ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এসব গাড়ি নিলামে তুললেও কেউ কিনতে আগ্রহ দেখান না। দুই বছর আগে এমন ১০টি গাড়ি বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হলেও কেউ দরপত্র জামা দেননি। পরে সেগুলো পানির দামে বিক্রি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ডিপিই’র সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. আতাউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ব্যবহারের অনুপযোগী বিভিন্ন মডেলের ১২টি গাড়ি গ্যারেজে রাখা হয়েছে। গাড়িগুলোর অবস্থা নির্ণয়ে বাংলাদেশ রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটিকে (বিআরটিএ) চিঠি দেয়া হয়েছে। মূল্যায়ন হওয়ার পর ভালো গাড়িগুলো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিবহন পুলে পাঠানো হবে, বাকিগুলো নিলামে তোলা হবে।

southeast

বিলাসবহুল বেশ কয়েকটি ভালো গাড়ি ফেলে রাখা হয়েছে- এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুরোপুরি ভালো নেই, এমন গাড়ির সংখ্যা বেশি। তবে কয়েকটি সামান্য মেরামত করে ভালো করা যেতে পারে। বিআরটিএ’র মূল্যায়নের পর কোনটির কী অবস্থা তা জানা সম্ভব হবে। তবে পুরনো গ্যারেজে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় কিছু গাড়ি খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়েছে।

ডিপিই’র একাধিক কর্মকর্তা জানান, পদোন্নতি বা বদলি হলে বড় কর্মকর্তারা পুরনো গাড়ি ব্যবহার করতে চান না। তারা সরকারি অর্থে নতুন গাড়ি ক্রয় করেন। পুরনোটি গ্যারেজে ফেলে রাখা হয়। এভাবে বেশ কয়েকটি পাজেরো জিপ ও মাইক্রোবাস ফেলে রাখা হয়েছে। এগুলো ক্রয় করতে সরকারের প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে এগুলো নিলামে তোলা হবে। কিছুদিনের মধ্যে বিক্রির দরপত্র আহ্বান করা হবে।

জানতে চাইলে ডিপিই’র মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মঞ্জুর কাদির জাগো নিউজকে বলেন, বিভিন্ন সময়ে অকেজো হওয়া বেশ কয়েকটি গাড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো নিলামে তোলা হবে।

southeast

‘বদলি বা পদোন্নতি পেলে কর্মকর্তারা পুরনো গাড়ি ব্যবহার করতে চান না, বিষয়টি সত্য নয়’ বলেও দাবি করেন তিনি।

খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা গাড়িগুলো যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এমন অযত্ন ও অবহেলায় ফেলে রাখায় গাড়িগুলো কিনতে কেউ আগ্রহ দেখান না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। বিআরটিএ’র পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর দরপত্রের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় গাড়িগুলোর অবস্থা আরও বেশি খারাপ হয়ে যাওয়ায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও এসব কিনতে মানুষের আগ্রহ কম থাকে। তবে ভালো গাড়িগুলো সরকারি মালখানা পরিবহন পুলে পাঠানো হবে।

এমএইচএম/এমএআর/এমএস