স্বপ্ন বড় আকাশে ডানা মেলার

রফিক মজুমদার
রফিক মজুমদার রফিক মজুমদার , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৬ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯

নতুন বছরে অন্তত পাঁচটি নতুন রুটে ডানা মেলতে চায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। পাশাপাশি লাভজনক রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এয়ারলাইন্সটি। এর আওতায় লাভজনক রুটগুলোতে ফ্লাইট বৃদ্ধির পাশাপাশি অলাভজনক রুটে ফ্লাইট কমানো হবে। এ লক্ষ্যে ১২টি বিভিন্ন মডেলের সুপরিসর বোয়িং সংগ্রহ করা হয়েছে।

২০২০ সালের প্রথমার্ধে বিমানের বহরে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও চারটি বোম্বারডিয়ার উড়োজাহাজ। এর মধ্য দিয়ে সুপরিসর বহর নিয়ে নতুন গন্তব্যে পাখা মেলবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। উড়োজাহাজ সংকট ও লোকসানের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু গন্তব্য ছাড়াও চালু হচ্ছে অন্তত পাঁচটি নতুন রুট।

বছরের শুরুতেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে রুটটি পরিচালনা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এ রুটের টিকিট বিক্রি।

বিমানের মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এ রুটে অন্তত সাতটি ফ্লাইটের অনেক টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। তাদের মতে, টিকিট বিক্রিতে সব রুটেই এগিয়ে থাকতে চায় সংস্থাটি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অপারেশন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে বিমানের আন্তর্জাতিক ১৫টি রুটের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েত, দাম্মাম, দোহা, মদিনা, রিয়াদ, জেদ্দা, আবুধাবি, দুবাই ও মাস্কাটে ফ্লাইট রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুর এবং স্বল্প দূরত্বে কলকাতা ও কাঠমাণ্ডুতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। এর বাইরে ইউরোপে কেবল লন্ডন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। অথচ একসময় ২৮টি গন্তব্যে চলাচল করত বিমান।

জানা গেছে, ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা লাভজনক হওয়ার সুযোগ কম। এতে বিমানের আয়ুষ্কাল কমে। ১২ থেকে ১৪ হাজার কিলোমিটার চলতে সক্ষম উড়োজাহাজগুলোকে কম দূরত্বের, অর্থাৎ সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরত্বের গন্তব্যে চালানো হচ্ছে।

এদিকে ক্যাটাগরি পরিবর্তন না হলে দীর্ঘতম রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাকিয়ে আছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ- বেবিচকের ক্যাটাগরি পরিবর্তনের যোগ্যতার দিকে।

ক্যাটাগরি পরিবর্তনের বিষয়ে বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ২০২০ সালের প্রথমার্ধে ক্যাটাগরির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। ক্যাটাগরি পরিবর্তন হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দীর্ঘতম রুটগুলো চালু করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, নতুন কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট আসন্ন বছরেই খুলবে। সেই সঙ্গে লাভজনক রুটে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো হবে।

বিমানের মার্কেটিং বিভাগের আরেকটি সূত্র জানায়, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ একসময় ২৮টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করত বিমান। কিন্তু উড়োজাহাজ সংকটসহ অব্যাহত লোকসানে বেশকিছু গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবহরে যুক্ত হওয়া নতুন ছয়টি ড্রিমলাইনার দিয়ে অন্তত পাঁচটি আন্তর্জাতিক আকাশপথে ডানা মেলবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

আগামী ৫ জানুয়ারি (আগে ৪ জানুয়ারিতে চালুর সিদ্ধান্ত ছিল) চালু হবে লন্ডনের ম্যানচেস্টার ফ্লাইট। লন্ডনের হিথ্রো ও ম্যানচেস্টারে সপ্তাহে সাতদিনই চলাচল করবে সদ্য যুক্ত হওয়া ২৯৮ আসনের দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’। অত্যাধুনিক এ দুটি বিমান গত শনিবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া চীনের গুয়াংজু, কানাডার টরন্টো, ইতালির রোম, জাপানের টোকিও এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের মতো বড় আকাশে ডানা মেলবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ‘ক্যাটাগরি-১’ পাওয়া-সাপেক্ষে চালু হবে নিউইয়র্ক ফ্লাইট।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সদ্য যুক্ত হওয়া অত্যাধুনিক সুপরিসর এয়ারক্রাফট এবং বাণিজ্যিক পরিকল্পনার বিষয়ে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশিষ রায় চৌধুরী বলেন, সুপরিসর এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেই অনুপাতে সুষ্ঠু বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। এটি অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, বিমান পরিচালনা পর্ষদ বা বোর্ড পুনর্গঠিত হবে শিগগিরই। দেশে অনেক এভিয়েশন অভিজ্ঞ লোক রয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে তাদের কাজে লাগিয়ে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পর্ষদ গঠন করা অত্যাবশ্যক। সেটি করা গেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি সুন্দর ও বাস্তবধর্মী বাণিজ্যিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে পারবে।

আরএম/এমএসএইচ/এমএআর/এমআরএম