কমিশন নয়, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগের দায়িত্ব পাচ্ছে পিএসসি

মাসুদ রানা
মাসুদ রানা মাসুদ রানা , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২০

সরকারি চাকরিতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের (আগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) বিদ্যমান শূন্যপদ জরুরিভাবে পূরণে কমিশন গঠন হচ্ছে না। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মতো (প্রথম থেকে দশম গ্রেড) এসব পদের নিয়োগও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে সম্পন্ন করতে চায় সরকার।

এজন্য পরীক্ষামূলকভাবে পিএসসির মাধ্যমে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এটি সফলভাবে করা সম্ভব হলে এই ধরনের নিয়োগ পুরোপুরি পিএসসির ওপর ন্যস্ত হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

প্রশাসনে প্রায় সব সময়ই আড়াই থেকে তিন লাখের মতো তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ খালি থাকে। এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পছন্দের লোক নিয়োগ, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগসহ প্রায়ই নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৭ মে সরকারি চাকরিতে বেতন কাঠামোর ১১তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের শূন্যপদ জরুরিভাবে পূরণে কমিশন গঠন করা যায় কি-না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তখনকার সিনিয়র সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. শামসুল আরেফিনকে আট সদস্যের ওই কমিটির সভাপতি করা হয়। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্যপদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের জন্য পৃথক কমিশন গঠনের বিষয়ে বিদ্যমান বিধি-বিধান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিন মাসের মধ্যে কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। পরে ২৯ জুন অবসরে যান শামসুল আরেফিন। নতুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান এসে প্রতিবেদনটি সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের কাছে জমা দেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

ওই কমিটির সদস্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সংস্কার অনুবিভাগ) সোলতান আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে জমা দিয়েছি। আমরা সেখানে বলেছি, স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষক নিয়োগ করে থাকে এনটিআরসিএ; তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদে নিয়োগেও এমন একটি ইন্ডিপেনডেন্ট কমিশন গঠন করা যেতে পারে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, সরকার আলাদা কমিশন গঠনের পক্ষে নয়। পিএসসিকেই এই দায়িত্ব দিতে চায়। এজন্য এ সংক্রান্ত একটি সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এটি অনুমোদন দেয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পিএসসিকে চিঠি পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগের জন্য কমিশন করার সুপারিশ এসেছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, পিএসসি এই পরীক্ষাগুলো ডিল করবে, তাদের সেই দায়িত্ব দেয়া হবে। এখন যেটা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে দিয়ে করাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি নিয়োগে একজন প্রার্থীর জন্য আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ আমরা পিএসসির মাধ্যমে করব। পিএসসি ক্যাডার ও নন-ক্যাডারে যেভাবে নিয়োগ দিয়ে থাকে, একইভাবে এই নিয়োগ দেবে। তারা এজন্য আলাদা একটা উইং করবে। এভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং আগামীতে এটাই হতে যাচ্ছে।’

‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগের জন্য আলাদা কমিশন করার কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই আমাদের। পিএসসির মাধ্যমেই আমরা করতে যাচ্ছি।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তাদের চাহিদা দেবে, পিএসসি সেই অনুযায়ী কর্মচারী সরবরাহ করবে। পিএসসিতে একটা পুল তৈরি হবে, যেন ওখান থেকে আমরা কর্মচারী নিয়ে পদ পূরণ করতে পারি। এতে শূন্যপদ পূরণে বারবার পরীক্ষা নেয়ার প্রয়োজন হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু করতে যাচ্ছি, অলরেডি পিএসসিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয়গুলো আগে যেভাবে নিজেরা পরীক্ষা নিত কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই নেবে। পাশাপাশি আমরা পরীক্ষামূলকভাবে পিএসসির মাধ্যমে শুরু করব। এটি সফলভাবে করতে পারলে আস্তে আস্তে পিএসসিকেই পুরো দায়িত্ব দেয়া হবে।’

‘প্রকৃতপক্ষে এমনিতেই পিএসসির ওপর বড় চাপ থাকে। ভালো লজিস্টিক সাপোর্ট তাদের প্রয়োজন হবে। তারাও এটি করতে একমত হয়েছে। আমাদের সাবেক সচিবও (ফয়েজ আহম্মদ) সেখানে (সদস্য হিসেবে) যোগ দিতে যাচ্ছেন।’

ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, ‘আগামী অল্প দিনের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু (পিএসসির মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগ) হবে ইনশাআল্লাহ, এরপর আমরা বুঝতে পারব আমাদের আরও কী কী করতে হবে। আমাদের এমন একটা ব্যবস্থার দিকেই যেতে হবে, সেটা আলাদা কমিশন করে হোক বা পিএসসির মাধ্যমে হোক। এভাবে বাইরের সংস্থার সহায়তা নিয়ে আর নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। এভাবে নিয়োগ দেয়ার কারণে অনেক সময় নিয়োগ প্রশ্নবিদ্ধও হয়।’

পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটা করতে হলে কী কী করতে হবে সেই বিষয়ে ওয়ার্কআউট করে তা আমরা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। জনপ্রশাসন সেটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে আমাদের জানাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা তাৎক্ষণিকভাবে তো হবে না। এ জন্য অনেক বিষয়ের দরকার হবে। এটা নিয়ে আমাদের একটি কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজও তারা করেছে।’

আরএমএম/এইচএ/পিআর