গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা নেই, যথেচ্ছ বহিষ্কার-পদায়ন আ.লীগে

সালাহ উদ্দিন জসিম
সালাহ উদ্দিন জসিম সালাহ উদ্দিন জসিম , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৬ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সংগঠন পরিচালনায় গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা করেন না আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, বেশিরভাগেরই অনীহা গঠনতন্ত্রের বিধি প্রতিপালনে। নিজের কর্তৃত্ব রক্ষায় স্বেচ্ছাচারিতা দেখানোর অভিযোগ মিলছে অনেকের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনারও পরোয়া করেন না তারা। বিশেষ করে বহিষ্কারে গঠতন্ত্রের বিধি মানেন না কেউ, জানেনও না অনেকে।

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জেলা শাখার কার্যক্রম ও নেতাদের গতিবিধি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিজের স্বার্থের বাইরে কারোরই ধার ধারেন না জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা। নিজের কর্তৃত্ব রক্ষায় সবই করতে পারেন তারা। এক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র বা কোনো নির্দেশনা বাধা হয়ে দাঁড়ালে সেটিরও তোয়াক্কা করেন না। নিজের শাখা ও অধীনস্থ শাখায় পদায়ন ও বহিষ্কার, শাখা কমিটি গঠন ও বিলুপ্তিতে তারা কর্তৃত্ব রক্ষার বিষয়টিই প্রাধান্য দেন। এমনকি নিজের গ্রুপিংয়ের প্রয়োজনে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনেরও কমিটি গঠন ও কমিটি বিলুপ্ত করে ফেলেন এমপি বা আওয়ামী লীগ নেতা। এ বিষয়ে বারবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে নোটিশ দেয়া হলেও মিলছে না ফল।

বর্তমানে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কার্যক্রম। বসুরহাট পৌরসভার মেয়র ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল কাদের মির্জাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া নিয়ে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই মেরুতে অবস্থান করছেন। এলাকা থেকে জেলা সভাপতি খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, ‘এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভাপতির টেবিলে। তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।’ আর ঢাকা থেকে ফেসবুক লাইভে জেলার সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘তাকে (কাদের মির্জা) অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’

এছাড়া সারাদেশে দল থেকে বহিষ্কারের বহু ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনগুলোর সময় পাইকারি হারে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে মানা হয়নি গঠনতন্ত্র।

গত ২৩ জানুয়ারি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দারসহ তিনজনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত অন্য দুই নেতা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম এবং পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর রহমান রিন্টু।

২৮ জানুয়ারি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠুকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ জানানো হয়।

jagonews24

বাঁ থেকে খায়রুল আনম সেলিম, আবদুল কাদের মির্জা ও একরামুল করিম চৌধুরী

২৯ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে দল মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় পাঁচজনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে তাদের বহিষ্কার করা হয়। ওই পাঁচজন হলেন রাণীশংকৈল উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বর্তমান মেয়র আলমগীর সরকার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিউল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সাধন বসাক, উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ইস্তেখার আলম ও রুকুনুল ইসলাম ডলার।

এসব বহিষ্কার নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। তাদের দাবি, ‘গঠনতন্ত্র মেনেই বহিষ্কার করা হয়েছে।’ প্রকৃতপক্ষে গঠনতন্ত্রের যে ধারা তারা উল্লেখ করেন, সেটির বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যার সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যাখ্যার মিল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহল মনে করেন, হয়তো বেশিরভাগ নেতা জানেন না দলের বহিষ্কার প্রক্রিয়া, বা জানলেও তারা মানেন না।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্রের ৪৭/১১ অনুযায়ী (পাঁচজনকে) বহিষ্কার করে কেন্দ্রকে অবহিত করেছি।’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের বিধান হল; জেলা শাখা বহিষ্কারের প্রস্তাবনা কেন্দ্রে পাঠাবে, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সেটি অনুমোদন হলে কার্যকর হবে। অন্যথায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তাবনা বাতিল হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দীপক কুমার রায় বলেন, ‘আমাদের বহিষ্কার সঠিক না হলে কেন্দ্র জানাতো। এক মাস হয়ে গেল, কেন্দ্র তো কিছু জানায়নি। তার মানে আমরা সঠিক।’

jagonews24

আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা

কথা বলে জানা যায়, প্রশ্নবিদ্ধ পন্থায় বহিষ্কৃত নেতারা হেয় প্রতিপন্ন হওয়াসহ নানা কারণে এটি মেনে নেন, বা এ নিয়ে কোনো কথা বলেন না। নীরবতার পথ বেছে নেন। এ বিষয়ে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু জাগো নিউজকে বলেন, ‘বহিষ্কারের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি দল থেকে অব্যাহতি নিয়েই নির্বাচন করতে নামছি, নির্বাচন করবো। দলে বহিষ্কার করলে কি আমার ভোট কমে যাবে?’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি হলো দুই পক্ষের; বহিষ্কারকারী ও বহিষ্কৃতের। দুই পক্ষের কেউই গঠনতন্ত্র না মানলে আমরা ব্যবস্থা নেবো কীভাবে? কারণ বহিষ্কারে যেমন সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে, তেমনি সেটার বিরুদ্ধে আপিল করারও সুযোগ আছে। আর জেলা ইউনিটের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নিয়ম না মেনে বহিষ্কার করলে তো সেটি কার্যকরই নয়। এটির বিরুদ্ধে তো যে কোনো সময় কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে।’

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিটি সংগঠনই তার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলে। পদায়ন ও বহিষ্কার—দুটোই গঠনতন্ত্রে বর্ণিত নিয়মে হবে। আওয়ামী লীগের যে কোনো পর্যায়ের বহিষ্কারের যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের। যে কাউকেই বহিষ্কারের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। জেলা সভাপতি বললেই হবে না। জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে এমন কোনো ক্ষমতা দেয়া হয়নি যে, তারা গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে কিছু করবেন। আমাদের দলীয় সংবিধান বা গঠনতন্ত্রে বলা আছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার বিরুদ্ধে নেয়া হবে, কোন প্রেক্ষিতে নেয়া হবে, কীভাবে নেয়া হবে? তারা যদি গঠতন্ত্র অনুসরণ না করেন, তাহলে সেটি সঠিক হবে না বা কার্যকর হবে না।’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন বলেন, ‘বহিষ্কারের বিষয়ে নির্দেশনা গঠতন্ত্রে পরিষ্কার উল্লেখ আছে। বহিষ্কার করার পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা দলের কার্যনির্বাহী কমিটির হাতে ন্যস্ত। জেলা কমিটি কেন্দ্রের কাছে বহিষ্কারের সুপারিশ আকারে প্রেরণ করতে পারে। এর বাইরে তাদের বহিষ্কারের ক্ষমতা নেই।’

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ নং ধারায় প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ১১টি উপ-ধারায় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে।

jagonews24

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ

৪৭ এর ৬ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘সংগঠনের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি প্রদানের জন্য আওয়ামী লীগের নিম্নতম যে কোনো শাখা বা যে কোনো সদস্যের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা/থানা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ নিজেদের সিদ্ধান্তসহ উক্ত অনুরোধপত্র জেলা কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট পাঠাইবেন। জেলা কার্যনির্বাহী সংসদ এ সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়া উক্ত বিষয় বিবেচনাপূর্বক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মাধ্যমে কার্যনির্বাহী সংসদের নিকট প্রেরণ করিবেন।’

উপ-ধারা ১০-এ বলা হয়েছে, ‘যে কোনো বহিষ্কারের বিষয়ে জেলা কমিটির সুপারিশের পর কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হইলেই কেবল চূড়ান্ত বহিষ্কৃত হইবে এবং অপরাধ প্রমাণিত না হইলে শাস্তি প্রদান করা যাইবে না। কার্যনির্বাহী সংসদ তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে, অন্যথায় অভিযুক্ত ব্যক্তি নির্দোষ বলিয়া গণ্য হইবে।’

তবে গঠনতন্ত্রের এসব বিধানের অবস্থা যেন—‘কাজীর গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’। প্রকৃতপক্ষে এর অনুশীলন কেন্দ্র থেকে ইউনিট—কোথাও চোখে পড়ে না।

গঠনতন্ত্রের বিধি প্রতিপালনের বিষয়ে অনীহা দেখে বাধ্য হয়ে একাধিকবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ চিঠি বা বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছে। সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ পরিস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। দলটির দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমোদন ব্যতীত সংগঠনের কোনো শাখার (ইউনিট, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা, জেলা ও মহানগর শাখা) কমিটি বিলুপ্ত না করার জন্য আওয়ামী লীগ-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী সম্মেলন/কাউন্সিল ব্যতীত সংগঠনের যে কোনো পর্যায়ের কমিটি বাতিল করার ক্ষেত্রে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমোদন ব্যতীত সংগঠনের কোনো পর্যায়ের কমিটি বিলুপ্ত বা বাতিল করা যাবে না।’

‘একইভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো শাখা কমিটি উক্ত শাখার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কোনো কমিটি বিলুপ্ত বা বাতিল করতেপারবে না। সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কোনো শাখা কমিটি বিলুপ্ত বা বাতিল করার ক্ষমতা কেবল ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সহযোগী সংগঠনসমূহ স্ব স্ব সংগঠনের গঠনতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হয়। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীকে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের বিধি-বিধান প্রতিপালন করার জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে’—বলা হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

এসইউজে/এইচএ/জেআইএম

আমাদের বহিষ্কার সঠিক না হলে কেন্দ্র জানাতো। এক মাস হয়ে গেল, কেন্দ্র তো কিছু জানায়নি। তার মানে আমরা সঠিক

বহিষ্কার করার পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা দলের কার্যনির্বাহী কমিটির হাতে ন্যস্ত। জেলা কমিটি কেন্দ্রের কাছে বহিষ্কারের সুপারিশ আকারে প্রেরণ করতে পারে। এর বাইরে তাদের বহিষ্কারের ক্ষমতা নেই

তারা যদি গঠতন্ত্র অনুসরণ না করেন, তাহলে সেটি সঠিক হবে না বা কার্যকর হবে না

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]