কলহের করাতে শিশুমনে রক্তক্ষরণ

জাহাঙ্গীর আলম
জাহাঙ্গীর আলম জাহাঙ্গীর আলম , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৪ এএম, ১২ জুলাই ২০২১
ফাইল ছবি

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ মনে করা হয় শিশুকে। কিন্তু দেশে ক্রমে বাড়তে থাকা পারিবারিক কলহ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে অনেক শিশুকে। স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ বা আলাদা হয়ে যাওয়ার পর সন্তান কার কাছে থাকবে, এটা নিয়ে অধিকাংশ পরিবারে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মা-বাবা দুজনই সন্তানকে নিজের হেফাজতে রাখতে চান। দুজনের মধ্য এ ক্ষেত্রে আপস না হলে আদালত পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। শিশুসন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজতকারী নিযুক্তির জন্য পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ আইনে মামলা করেন মা-বাবা কিংবা তাদের অভিভাবক। মামলার পরই শিশুসন্তানকে নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয় আদালতপাড়ায়। পুলিশের দফতর কিংবা কাঠগড়ায় এ ছোটাছুটিতে শিশু মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। নীরবে তার মনে চলতে থাকে বিচ্ছেদের রক্তক্ষরণ, যা তাকে ঠেলে দেয় অগোছালো-অস্বাভাবিক জীবনে।

ঢাকায় কলহের মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম তিনটি পারিবারিক আদালতে পরিচালিত হয়। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে (২০১৬-২০২০ সাল) পারিবারিক আদালতে ৩৯ হাজার ৭২২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিচার করার পর্যাপ্ত উপাদান না থাকায় পাঁচ হাজার ৩০টি মামলা খারিজ হয়েছে। এক হাজার ২৫২টি মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে অভিভাবকত্ব ও হেফাজত নিযুক্তির জন্য হয়েছে ১০ শতাংশ মামলা।

২০১৬ সালে পারিবারিক মামলা হয়েছে সাত হাজার ১০৩টি। এর মধ্যে খারিজ হয়েছে এক হাজার ২৪০টি এবং রায় হয়েছে ৩৩৫টি মামলার। পরের বছর ২০১৭ সালে পারিবারিক মামলা হয়েছে সাত হাজার ৩৩০টি। এর মধ্যে খারিজ হয়েছে ৯৮১টি এবং রায় হয়েছে ২৯৪টি মামলার। ২০১৮ সালে পারিবারিক মামলা হয়েছে সাত হাজার ৪৯২টি। এর মধ্যে খারিজ হয়েছে ৭৪১টি এবং রায় হয়েছে ১৯০টি মামলার। ২০১৯ সালে পারিবারিক মামলা হয়েছে ৯ হাজার ৩৪৫টি। এর মধ্যে খারিজ হয়েছে এক হাজার ৩৯১টি এবং রায় হয়েছে ২৭৫টি মামলার। গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে পারিবারিক আইনে মামলা হয়েছে আট হাজার ৪৫২টি। এর মধ্যে খারিজ হয়েছে ৬৭৭টি এবং রায় হয়েছে ১৫৮টি মামলার। দেখা যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারিবারিক কলহের মামলা বেড়েই চলছে।

স্বাভাবিকভাবে কথাও বলে না শিশু জাহিদ
ডা. সাদিয়া জাহান (ছদ্মনাম)। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় পরিচয় হয় একই কলেজের সতীর্থ ডা. হারুন-আর রশীদের (ছদ্মনাম) সঙ্গে। পরিচয় থেকে হয় প্রেমের সম্পর্ক। এই প্রেমের সম্পর্ক থেকে সাদিয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে তাদের বিয়ে হয়। প্রথমে পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়নি। অবস্থা বিবেচনায় পরে দুই পরিবার বিয়েটি মেনে নেয়। প্রথম দিকে তারা সুখে-শান্তিতে সংসার করছিলেন। কিছুদিন পর থেকে তাদের সংসারে ঝগড়াঝাটি শুরু। এরপর থেকে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো।

এরই মধ্যে বিয়ের চার বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০০৯ সালে তাদের ঘর আলো করে আসে এক পুত্রসন্তান। নাম রাখা হয় জাহিদ সারোয়ার (ছদ্মনাম)। সন্তান জন্মের পর ডা. সাদিয়া মনে করছিলেন তাদের সংসারে শান্তির বাতাস বইবে। চিত্র সম্পূর্ণই বিপরীত দেখা যায়। অশান্তি ক্রমেই বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ২০১৬ সালে সাদিয়াকে তালাক দেন তার স্বামী হারুন।

বিচ্ছেদের পর সন্তান জাহিদকে নিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। জাহিদের বাবা চান সন্তানকে তার সঙ্গে রাখতে, একই চাওয়ায় লড়াই জারি রাখেন সাদিয়াও। তাদের এই লড়াই গড়ায় ঢাকার আদালত পর্যন্ত। শিশু জাহিদকে নিজের হেফাজতে রাখতে ২০১৭ সালে আদালতে মামলা (মামলা নং ২০/১৭) ঠোকেন সাদিয়া। মামলায় বিবাদী করা হয় ডা. হারুনকে। সেই মামলায় মা-বাবার সঙ্গে দৌড়াতে হচ্ছে জাহিদকেও। এই দৌড়ে ছোট্ট জাহিদ এখন ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। যাদের জন্য জাহিদ দুনিয়ার আলো দেখেছে, যাদের কোলে-পিঠে হেলতে-দুলতে সে স্নেহ-মায়া শিখছিল, তাদের এ লড়াই মানসিকভাবে মুষড়ে দিয়েছে জাহিদকে। সে এতোটাই ভেঙে পড়েছে যে, এখন স্বাভাবিকভাবে কারও সঙ্গেই কথা বলে না। আদালতের বারান্দায় ছোটাছুটি, কাঠগড়ায় যুক্তিতর্কের চেঁচামেচি তাকে যেন বিষিয়ে তুলেছে।

আদালতের বারান্দায় কথা হচ্ছিল ১২ বছরের শিশু জাহিদের সঙ্গে। সে জাগো নিউজকে বলে, ‘আমাকে নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে মামলা চলছে। মামলার জন্য মায়ের সঙ্গে আমাকেও আদালতে আসতে হয়। আমি তো এখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ি। আমি বাবা-মা দুজনকেই ভালোবাসি। আমি দুজনকেই চাই।’

শিশু জাহিদের মা ডা. সাদিয়া বলেন, ‘আমাদের প্রেমের বিয়ে। বিয়ের পর আমাদের সংসারে এ সন্তান আসে। আমার ও আমার স্বামীর মধ্যে তালাক হয়েছে। জাহিদ আমার কাছে থাকে। তাকে নিতে তার বাবাও চান। আমি তাকে নিজ হেফাজতে রাখার জন্য পারিবারিক আদালতে মামলা করেছি।’

সন্তানের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে ডা. সাদিয়া বলেন, ‘মামলার পর আমার ছেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সে ঠিকভাবে কারও সঙ্গে কথা বলে না। ঠিকভাবে খেতে চায় না। সব সময় অন্য মনষ্ক হয়ে থাকে। আমি আমার ছেলেকে চাই। আশা করি আদালত আমার পক্ষে রায় দেবেন।’

ডা. হারুন-আর রশীদ বলেন, ‘জাহিদ আমার সন্তান। তাকে নিজ হেফাজতে রাখতে তার মা আদালতে মামলা করেছেন। আমাকে মামলার বিবাদী করা হয়েছে। আইনগতভাবে মামলায় আমি জিতবো।’

আদালতে এলেই চুপ হয়ে যায় শিশু রাবেয়া
নওগাঁর বাসিন্দা তাসমিন খান (ছদ্মনাম) ঢাকার একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা। ২০১৩ সালে বিয়ে করেন নওগাঁরই মেয়ে সায়েলা বানুকে (ছদ্মনাম)। বিয়ের পর সায়েলাকে নিয়ে ঢাকার বাসায় ওঠেন তাসমিন। দুই-তিন মাস তারা ভালোই সংসার করছিলেন। এরপর সামান্য বিষয় নিয়ে তাদের ঝগড়া শুরু হতে থাকে। সংসারে সুখের কথা চিন্তা করে তাসমিন নওগাঁ শহরে বাসা ভাড়া করে দেন সায়েলাকে। এর মধ্যে বিয়ের তিন বছর পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান, যার নাম রাখা হয় রাবেয়া (ছদ্মনাম)। ঢাকা থেকে সেই বাসায় গিয়ে মেয়েকে দেখে আসতেন তাসমিন।

jagonews24গত বছরের ডিসেম্বরে পারিবারিক কলহের এক মামলায় মা ও বাবা গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতের বারান্দায় আসতে হয় দুই শিশুকে, সেই ঘটনা আলোচনার ঝড় তোলে দেশে

এক পর্যায়ে তাসমিন মেয়েসহ সায়েলাকে ঢাকায় আনার কথা বলেন। কিন্তু সায়েলা তাতে সায় দেন না। তিনি মেয়েকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে বড় করার কথা বলেন। তাসমিনের অনেক অনুনয়ের চার মাস পর সায়েলা নওগাঁ থেকে তার ঢাকার বাসায় নিয়ে আসেন মেয়ে রাবেয়াকে।

তাসমিনের অভিযোগ, সায়েলা ছিলেন দাম্পত্য জীবনের প্রতি উদাসীন। সংসারের দায়-দায়িত্ব পালনেও তার মানসিক অপরিপক্বতা ছিল। এরই মধ্যে সায়েলার মা ও বাবা তাদের ঢাকার বাসায় আসেন। সেখানে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে তাসমিনের মা ও বোনকে গালিগালাজ করে চলে যান তারা।

তাসমিনের দাবি, ২০১৮ সালের প্রথম দিকে সায়েলা কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ এক লাখ টাকা নিয়ে তাকে না জানিয়ে রাবেয়াকে নিয়ে তার মায়ের কাছে নওগাঁ শহরে চলে যান। চারদিন পর তাসমিন ও তার বোন সায়েলাকে ফিরিয়ে আনতে সেখানে গেলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে শ্বশুরের পরিবার। এমনকি তাসমিনের বোনকে মারধরও করা হয়। এসময় তারা পাশের একটি বাসায় আশ্রয় নেন। এরপর সায়েলা তার শিশুসন্তানকে নিয়ে নওগাঁর গ্রামের বাড়ি চলে যান। তাসমিন কোনো উপায় না পেয়ে এক মাস পরে সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে ঢাকার একটি আদালতে মামলা (মামলা নং ৮৭/১৮) করেন। মামলায় বিবাদী করেন সায়েলা, তার মা ও বাবাকে।

সেই মামলার কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রতি নির্ধারিত তারিখে শিশুসন্তান রাবেয়াকে নিয়ে আদালতে আসেন সায়েলা। আদালতপাড়ায় হাজারো মানুষের ভিড়ে চুপসে থাকে রাবেয়া। কারও সঙ্গে কথাও বলতে চায় না শিশুটি।

আদালত প্রাঙ্গণে তাসমিন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘সায়েলা ও তার পরিবার কুটিল মনের অধিকারী। তারা আমার সন্তান লালন-পালনে অপারগ। তাই আমি আমার সন্তানকে নেয়ার জন্য আদালতে মামলা করেছি।’

jagonews24ঢাকা মহানগর আদালত

অন্যদিকে সায়েলার অভিযোগ, ‘তাসমিন ভালো মানুষ নন।’ তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘তাসমিন আমার সঙ্গে সব সময় খারাপ আচরণ করতেন। তাই আমি আমার সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছি। আমি সন্তান কষ্ট করে বড় করছি। আমি আমার সন্তানকে দেব না।’

মেয়ে রাবেয়ার মানসিক কষ্টের কথা স্বীকার করে সায়েলা বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মামলা-মোকাদ্দমার কারণে শিশুসন্তান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। জানি না আমার সন্তানের কপালে কী রয়েছে ‘

আইনে যা বলা রয়েছে
বাংলাদেশে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫-এর ৫ ধারা মতে, সন্তানের কাস্টডির (হেফাজত) বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার একচ্ছত্র এখতিয়ার পারিবারিক আদালতের। কাস্টডি প্রদানের ক্ষেত্রে আদালত কী কী বিবেচনা করবেন, সেগুলো গার্ডিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্ডস অ্যাক্ট, ১৮৯০-এর ১৭ ধারায় বিস্তারিত বলা রয়েছে। ওই ধারার বিধান মতে, নাবালক-নাবালিকা যে ধর্মীয় অনুশাসনের অধীন, সেই অনুশাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং তার সার্বিক কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত অভিভাবক নিয়োগ করবেন। নাবালক-নাবালিকার কল্যাণ কী হবে, তা নির্ধারণ করা হবে নাবালক-নাবালিকার বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রস্তাবিত অভিভাবকের চরিত্র, সামর্থ্য এবং নাবালকের সঙ্গে নৈকট্য ও আত্মীয়তার সম্পর্ক, মৃত মা-বাবার কোনো ইচ্ছা (যদি থাকে) এবং প্রস্তাবিত অভিভাবক নাবালক-নাবালিকার সম্পত্তির বিষয়ে সম্পর্কযুক্ত কি-না ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে। এ বিষয়ে নাবালক-নাবালিকার কোনো বুদ্ধিদীপ্ত মতামত থাকলে আদালত সেই মতামতকেও প্রাধান্য দেবেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, ‘মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আইনগত অভিভাবক। মা হচ্ছেন সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক। সন্তানের মা যদি বাবার কাছ থেকে আলাদা থাকেন কিংবা তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, তাহলে মা তার সন্তানের তত্ত্বাবধান করার ক্ষমতা হারাবেন না। ছেলের ক্ষেত্রে সাত বছর বয়স পর্যন্ত এবং মেয়ের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত মা সন্তানদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন। সন্তানের ভালোর জন্য যদি তাকে মায়ের তত্ত্বাবধানে রাখার আরও প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে এ বয়সসীমার পরও মা সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন। এজন্য ক্ষেত্রবিশেষে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। মা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করেন, তাহলে সন্তানকে নিজের হেফাজতে রাখার ক্ষমতা হারাতে হতে পারে তাকে।’

jagonews24মা-বাবার বিচ্ছেদের জের টানতে হয় শিশু সন্তানকে

ঢাকার আদালতে বেশিরভাগ পারিবারিক আইনের মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মলয় কুমার সাহা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিভাবকত্বের মামলার কারণে অসহায় শিশু মানসিভাবে ভেঙে পড়ে। মা-বাবার দ্বন্দ্বের বলি হয় অসহায় শিশু। কারণ শিশুকেও আদালতে আসতে বলা হয়। আদালতের পরিবেশ দেখতে হয় শিশুকে। শিশু আইন মানা হয় না আদালতে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের সময় যদি কোনো বিচারক শিশু কার কাছে থাকবে তা নির্ধারণ করে দিতেন তাহলে এমন হতো না।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিশু আইনে রয়েছে, কোনো শিশু যখন আদালতে উপস্থিত হবে, তখন আদালতের পরিবেশ হবে অন্য রকম। আদালতে লাল কাপড় মোড়ানো থাকবে না। কোনো আইনজীবী কালো পোশাক পরতে পারবেন না। আদালতের ভেতর শিশু ছাড়া অন্য কেউই থাকবেন না। কিন্তু আমাদের দেশে এসব কিছু মানা হয় না। তাই শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিম আল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিভাবকত্বের মামলায় সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে শিশুরা। সন্তানের অভিভাবকত্ব বা হেফাজতে নেয়ার জন্য বাবা-মা রীতিমতো যুদ্ধে নামেন। ফলে শিশুদের মনোজগতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। অনেক সময় আদালত সন্তানকে কোর্টে আসার জন্য আদেশ দেন। সন্তানের কাছে আদালত জানতে চান, কার কাছে থাকতে চায় ওই শিশু। বাবা-মায়ের রেষারেষির কারণে সন্তানরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়েশা সুলতানা বলেন, ‘শিশুরা আদালতের পরিবেশ দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মানসিক বিকাশেও তারা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাদের কোমল মন শক্ত হয়ে যায়। মানুষের প্রতি তাদের আস্থা কমতে থাকে। এর প্রভাব তাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। শিশুদের বিনা প্রয়োজনে আদালতে নেয়া মোটেও ঠিক নয়। যতদূর সম্ভব তাদের আদালতের বাইরে রাখতে হবে। এতে শিশুরা মানসিক সমস্যায় ভুগবে না।’

জেএ/এইচএ/এএসএম

শিশু আইনে রয়েছে—কোনো শিশু যখন আদালতে উপস্থিত হবে, তখন আদালতের পরিবেশ হবে অন্য রকম। আদালতে লাল কাপড় মোড়ানো থাকবে না। কোনো আইনজীবী কালো পোশাক পরতে পারবেন না। আদালতের ভেতর শিশু ছাড়া অন্য কেউই থাকবে না। কিন্তু আমাদের দেশে এসব কিছু মানা হয় না। তাই শিশুরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে

অভিভাবকত্বের মামলায় সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে শিশুরা। সন্তানের অভিভাবকত্ব বা হেফাজতে নেয়ার জন্য বাবা-মা রীতিমতো যুদ্ধে নামেন। ফলে শিশুদের মনোজগতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। অনেক সময় আদালত সন্তানকে কোর্টে আসার জন্য আদেশ দেন। সন্তানের কাছে আদালত জানতে চান, কার কাছে থাকতে চায় ওই শিশু। বাবা-মায়ের রেষারেষির কারণে সন্তানরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়

শিশুরা আদালতের পরিবেশ দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। মানসিক বিকাশেও তারা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাদের কোমল মন শক্ত হয়ে যায়। মানুষের প্রতি তাদের আস্থা কমতে থাকে। এর প্রভাব তাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। শিশুদের বিনা প্রয়োজনে আদালতে নেয়া মোটেও ঠিক নয়। যতদূর সম্ভব তাদের আদালতের বাইরে রাখতে হবে। এতে শিশুরা মানসিক সমস্যায় ভুগবে না

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]