দুর্ঘটনা রোধে নেই কার্যকর পদক্ষেপ, সবকিছুই কাগজে-কলমে

সাইফুল হক মিঠু
সাইফুল হক মিঠু সাইফুল হক মিঠু
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২১

সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক মহামারির নাম। এই মৃত্যুফাঁদে দেশে তরতাজা প্রাণ ঝরে পড়ার ঘটনা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটটের তথ্য বলছে, ২০১৯ ও ২০২০ সালে সড়ক দুর্ঘটনার আর্থিক ক্ষতি ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছর এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, মহাসড়কে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার ৮০ শতাংশই ঘটে অতিরিক্ত গতির কারণে। এমন বাস্তবতায় চলতি বছর পঞ্চমবারের মতো জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হচ্ছে। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি’। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) গবেষক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক সাইফুল হক মিঠু।

জাগো নিউজ: সড়কে প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। এমতাবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধান বাধা কোথায় বলে মনে করেন?

সাইফুন নেওয়াজ: সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ গতি। এর সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গাড়ি-সড়কের ফিটনেস ও চালকদের মানসিক অবস্থাও জড়িত। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত হয়েছে। প্রতিকারের অনেক সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনা কমাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সবকিছু কাগজে-কলমেই থেকে যাচ্ছে।

জাগো নিউজ: দেশের সড়কগুলো চলাচলের জন্য কতটা নিরাপদ বলে আপনি মনে করেন?

সাইফুন নেওয়াজ: রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে (সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ) সড়ক তৈরির পর সেটা সেফ (নিরাপদ) কি না তার কোনো ইভ্যালুয়েশন (মূল্যায়ন) করে না। কোনো ইন্সপেকশন (পরিদর্শন) করা হয় না। সড়কের পাশের ভূমি ব্যবস্থাপনা কী হবে সেটাও ঠিক করা হয় না। দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে হাটবাজার গড়ে ওঠে। ধীরগতি ও দ্রুতগতির যানবাহন একসঙ্গে চলে। সড়কে মানুষের আনাগোনা বেশি থাকায় সড়ক অনেক বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

জাগো নিউজ: ছোট শহরেও এখন বিপুলসংখ্যক যানবাহন। যানবাহনের এই আধিক্য কি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ?

সাইফুন নেওয়াজ: যানবাহনের সংখ্যা বাড়বেই। এর সঙ্গে সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি গাড়ির ফিটনেস ও চালকদের দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

জাগো নিউজ: সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি ভিত্তিতে কী করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করছেন?

সাইফুন নেওয়াজ: সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলে ১১১টা সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সবকিছু বলা হয়েছে। এই সুপারিশগুলো ইমিডিয়েটলি (অবিলম্বে) বাস্তবায়ন করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা আইন-২০১৮ বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এগুলা বাস্তবায়িত হলেই সড়কে নিরাপত্তা আসবে। আবার কেউ যদি আইন মানে তাকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করতে হবে, যেন অন্যরা আইন মানতে উদ্বুদ্ধ হয়।

জাগো নিউজ: সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কী ধরনের প্রযুক্তি গ্রহণ করা যায়?

সাইফুন নেওয়াজ: আমাদের সড়কগুলো প্রশস্ত হচ্ছে। উচ্চগতির গাড়িও আমদানি হচ্ছে। গাড়ির গতিসীমা পরিমাপে ডিজিটাল স্পিড গান মহাসড়কে ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক জায়গায় এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। এছাড়া দ্রুতগতির ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করি।

জাগো নিউজ: সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে মৃত্যুহ্রাস করা সম্ভব কি?

সাইফুন নেওয়াজ: একটা দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুত আহত রোগীদের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া জরুরি। দুর্ঘটনার ১০ মিনিটের মধ্যে রোগীকে ট্রমা সেন্টারে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে মৃত্যুঝুঁকি ও পঙ্গুত্বের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

জাগো নিউজ: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও অন্যান্য সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো কতটা জরুরি বলে মনে করছেন?

সাইফুন নেওয়াজ: বিআরটিএকে ডিজিটাইলাইজেশন করা দরকার। অনলাইনে অনেক সেবাই চলে আসছে। এর পাশাপাশি ফিটনেসের তথ্য যদি চলে আসে ও গাড়ির ছবিসহ ড্রাইভারদের তথ্য যদি লিপিবদ্ধ থাকে তাহলে সড়ক ব্যবস্থাপনা একটা সিস্টেমে চলে আসবে। বিআরটিএকে আরও আধুনিকায়ন করা দরকার বলে আমি মনে করি।

এসএম/এআরএ/এইচএ/এএসএম

সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ গতি। এর সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গাড়ি-সড়কের ফিটনেস ও চালকদের মানসিক অবস্থাও জড়িত। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ শনাক্ত হয়েছে। প্রতিকারের অনেক সুপারিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনা কমাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। সবকিছু কাগজে-কলমেই থেকে যাচ্ছে

আমাদের সড়কগুলো প্রশস্ত হচ্ছে। উচ্চগতির গাড়িও আমদানি হচ্ছে। গাড়ির গতিসীমা পরিমাপে ডিজিটাল স্পিড গান মহাসড়কে ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক জায়গায় এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। এছাড়া দ্রুতগতির ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করি

বিআরটিএকে ডিজিটাইলাইজেশন করা দরকার। অনলাইনে অনেক সেবাই চলে আসছে। এর পাশাপাশি ফিটনেসের তথ্য যদি চলে আসে ও গাড়ির ছবিসহ ড্রাইভারদের তথ্য যদি লিপিবদ্ধ থাকে তাহলে সড়ক ব্যবস্থাপনা একটা সিস্টেমে চলে আসবে। বিআরটিএকে আরও আধুনিকায়ন করা দরকার বলে আমি মনে করি

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]