বর্ষবরণের দিনে ৭ নারী লাঞ্ছনাকারী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে


প্রকাশিত: ০৩:১৯ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০১৬

গত পহেলা বৈশাখের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যৌন হয়রানির শিকার হন কয়েকজন নারী। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ছবি প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরষ্কারও ঘোষণা করে পুলিশ। কিন্তু এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রায় ১ বছর পেড়িয়ে গেলেও চিহ্নিত সাত যৌন সন্ত্রাসী এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে।

১৪২২ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে এ কলঙ্কিত ঘটনার পর সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যৌন সন্ত্রাসীদের মধ্যে ৮ জনকে শনাক্ত করেছিল পুলিশ। কিন্তু তাদের মধ্যে শুধু একজনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাকি সাতজন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঘটনার পর রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়। মামলা তদন্তের দায়ভার দেয়া হয় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। দীর্ঘ ১০ মাস তদন্তের পরও ডিবি এই মামলায় সন্তোষজনক কোনো ফল দিতে পারেনি।
 
এ বিষয়ে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাশরুকুর রহমান খালিদ জাগো নিউজকে বলেন, গত পহেলা বৈশাখের ঘটনায় শনাক্তদের মধ্যে একজনকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। তাছাড়া মামলাটির তদন্তের দায়ভার এখন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়া হয়েছে। তারা বিস্তারিত বলতে পারবেন।
 
তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে পিবিআই এর সিটি মেট্রো শাখার স্পেশালাইলজ্ড ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স ইউনিটের ইনচার্জ এসপি আহসান হাবিব পলাশ জাগো নিউজকে বলেন, মাস খানেক হলো পিবিআইকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের খুঁটিনাটি যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। এখনো সে রকম কিছু ডিটেক্ট করতে পারি নি।
 
গত বছরের ১৭ মে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৮ জনের ছবি প্রকাশ করেন। তাদের ধরিয়ে দিলে এক লাখ টাকার পুরষ্কারও ঘোষণা করা হয়। তবে এই ঘোষণার ১০ মাস পেড়িয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান দিতে পারেন নি কেউ।
 
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, নিপীড়নের শিকার নারী বা প্রত্যক্ষদর্শী কারো কাছ থেকে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা পাওয়াতো দূরের কথা বরং ফোনে তাদের গালমন্দ শুনতে হয়েছে। কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চায় না। তাই তদন্তে অগ্রগতি নেই। পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও তারা তাদের পরিবার নিয়ে টিএসসিতে গিয়েছিল বলে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এআর/এআরএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।