ম্যাচের আগেই খালেদ বলেছিলেন, ‘আজ ভালো খেলবো’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বল হাতে শনিবার আগুন ঝড়ান খালেদ আহমেদ। তার ৪ উইকেটের দাপুটে স্পেলে সহজ জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে দুর্বার একাদশ। আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি শিরোপার লড়াইয়ে লিটন দাসের ধূমকেতু একাদশের মুখোমুখি হবে তারা।

দুরন্তের ব্যাটারদের শনিবার ইনিংস জুড়ে ভুগিয়েছেন খালেদ আহমেদ। নতুন বলে দ্বিতীয় ওভারে এসেই আবরার জাওয়াদকে ফেরান তিনি। একই ওভারের শেষ বলে খালেদ লেন্থ কিছুটা কমিয়ে আনেন এবং আজিজুল হাকিম তামিমকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে, যার ফলে ৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে দুরন্ত।

খালিদ তার প্রথম স্পেল শেষ করেন ২-০-৮-৩ এই অবিশ্বাস্য ফিগারে। নবম ওভারে ফিরে এসে তিনি আবারও আঘাত হানেন। ক্রিজে ধুঁকতে থাকা মাহফিজুল রবিন একটি বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে আলিস আল ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন। খালিদ তার চতুর্থ শিকার বানান মেহেরব হোসেনকে, যিনি ৩৬ বলে ২৩ রান করে দুরন্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন।

সমালোচকদের জবাব ও ছোটদের উৎসাহ আগের ম্যাচে রান হজম করায় যারা মজা নিয়েছিলেন, গতকালকের পারফরম্যান্স দিয়ে তাদের জবাব দিয়েছেন খালেদ। তিনি বলেন, ‘গত ম্যাচে ২ ওভারে ২২ রান খেয়ে (হজম) গেলাম, অনেকে মজা নিয়েছে। আজকে আমি বলে আসছি ভালো খেলব, স্যারকেও (কোচ) বলেছিলাম।’

বিদায় নেওয়া তরুণ দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী, ‘ওরা (দুরন্ত) কিন্তু এখনও শিখছে। সুন্দর প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে, দেখানোর অনেক কিছু ছিল হয়তো পারে নাই। তবে অনেকেই বলেছে সামনে সুযোগ পেলে আরও শক্ত হয়ে আসব। ওদের সাহস অনেক, স্কিলেও ভালো। মাত্র অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে এসেছে, এইচপিতে হয়তো যাবে। এখানে স্কিলে ঝালাই করলে সামনে আরও ভালো করবে আরকি।’

উপভোগেই সাফল্য পাচ্ছেন খালেদ ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পর খালেদ জানান, চাপের চেয়ে খেলাটা উপভোগ করতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। তার ভাষায়, ‘সাদা-লাল (উভয়) বলেই আমি সবসময় উপভোগ করি। তাহলে ভেতর থেকে আসে খেলাটা। আমার চেষ্টা থাকে যেন উপভোগ করতে পারি।’

দলের শক্তি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এই পেসার বলেন, ‘এখানেও জাতীয় দলের সবাই খেলেছে, (যারা) টি-টোয়েন্টিও খেলে। হয়তো এখন খেলছে না, তবে সবাই অভিজ্ঞ। আমাদের দলও অনেক ব্যালেন্সড। বোলিং লাইনআপ শক্ত, আমার মনে হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে চেষ্টা থাকবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।’

তরুণদের জন্য পরামর্শ ম্যাচে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের উদীয়মান ব্যাটার জাওয়াদ আবরারকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান খালেদ। তিনি বলেন, ‘আমার চেষ্টা ছিল লেন্থে হিট করার। সে (জাওয়াদ আবরার) ছোট ছেলে, প্রথম বলে সুন্দর খেলেছে। জিজ্ঞেস করলাম পরের বলেও কেন মারতে গেলা? বলেছে মারতে যাইনি, আস্তে লেগে চলে গেছে। আমি বললাম যদি এমন বল একটা মারতে পারো পরেরটা মারার মতো না হলে ধরে খেইলো আরকি। লেন্থে হিট করাই ছিল প্ল্যান। সে যেরকম ব্যাটার, ওকে এলোমেলো বল করলে মেরে দেবে। তাই স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বল করার চেষ্টা ছিল।’

এসকেডি/আইএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।