বিশ্বকাপে ভারত না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কার? আসিফ নজরুলের সুর বদল
হিন্দু কট্টরপন্থী সংগঠনগুলোর হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় ভারত। এরপর নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিসিবিও বলেছিল, ভারতে না যাওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে এবার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বললেন, বিশ্বকাপ খেলা না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি ও খেলোয়াড়রা।
ভারতে না খেলার ব্যাপারে আইসিসির সঙ্গে দফায় দফায় মেইল চালাচালি, মিটিং করে বিসিবি। শেষ দিকে ভারতেই খেলতে হবে, সিদ্ধান্ত জানাতে বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয় আইসিসি। এরপর জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানান আসিফ নজরুল। গত ২২ জানুয়ারি তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা, এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত।’
বিশ্বকাপ বয়কটের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। উল্টো বিসিবির এই কঠোর অবস্থানকে বীরত্বপূর্ণ স্যাক্রিফাইস হিসেবে দেখছেন তিনি। গতকাল (মঙ্গলবার) তিনি বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা, প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে দেশের ক্রিকেটের, ক্রিকেটারদের, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে …আমার মনে হয় যে একটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
ক্রিকেট ডিপ্লোমেসি ও বড় অর্জন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করলেও আইসিসির সঙ্গে সফল আলোচনার মাধ্যমে কোনো ধরনের শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছে বিসিবি। উল্টো ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একটি বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক হওয়ার সবুজ সংকেত পেয়েছে বাংলাদেশ। বিসিবির এই কূটনৈতিক সফলতাকে স্বাগত জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘তারা (বিসিবি) যে ক্রিকেট ডিপ্লোমেসিটা করেছে…আইসিসি বলছে তারা আমাদের কোনো শাস্তি দেবে না বরং একটা বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক আমাদের করবে। এটা দারুণ একটা অর্জন। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে স্যালুট জানাই। এরকম সিদ্ধান্ত ১০ বার নেওয়ার সুযোগ এলে ১০ বারই নেওয়া উচিত।’
এসকেডি/এমএমআর