১৩ সেঞ্চুরিতে এসে ‘প্রথম’ তানজিদ তামিমের  

সৌরভ কুমার দাস
সৌরভ কুমার দাস সৌরভ কুমার দাস , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪০ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬

সালমান আলি আগার করা ডেলিভারিটি ছিল একদম স্লটে, আর সেই সুযোগটাই যেন লুফে নিলেন তানজিদ হাসান তামিম। সামান্য পা বাড়িয়ে বলটিকে উড়িয়ে মারলেন লং অফের ওপর দিয়ে। বল যখন সীমানার ওপারে আছড়ে পড়ছে, তখন এক হাতে ব্যাট উঁচিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে উদযাপনে মাতলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। পরম কৃতজ্ঞতায় মাঠের মাঝেই অবনত হলেন সিজদায়। চোখে-মুখে তখন রাজ্যের তৃপ্তি আর প্রশান্তি। হবে না-ই বা কেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এটিই যে তার ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি।

এর আগে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪টি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫টি আর ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ৩টি সেঞ্চুরি আছে এই বাঁহাতি ওপেনারের। সবমিলিয়ে ১৩তম সেঞ্চুরিতে এসে প্রথম আন্তর্জাতিক শতরান পেলেন তানজিদ তামিম। প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির আগে তানজিদের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৮৪ রান, ২০২৪ সালের মার্চে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

২০২৩ সালের এশিয়া কাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় তানজিদ হাসান তামিমের। এর আগে ৩০ ওয়ানডেতে ২৯ ইনিংস খেললেও কোনো সেঞ্চুরি ছিল না তার। তবে ছিল ৫টি ফিফটি।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা, র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতিসহ নানা কারণে এই সিরিজ জেতা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকেই তামিম বেছে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির জন্য।

এদিন ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বাউন্ডারি মেরেই ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলেন তানজিদ। একই ওভারের পঞ্চম বলে তার ব্যাট থেকে আসে ছক্কা। লেগ সাইডে ফ্লিক করে বলকে বাউন্ডারির ওপারে আছড়ে ফেলেন তিনি। প্রথম ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান ছিল ৫০। যেখানে ৩৩ বল খেলে ৩০ রান করে নেতৃত্ব দেন তামিম।

পাওয়ার প্লের পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এই বাঁহাতি ওপেনার। একাদশতম ওভারে পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদকে হাঁকান একটি করে চার ও ছক্কা। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে ভাঙে ১০৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। যেখানে ৫৪ বলে ৬৩ রানের অবদান তামিমের। তখন ড্রেসিংরুমে ফেরা সাইফ ৩৬ বল খেলতে খরচ করেন ৫৫ রান। বোঝাই যাচ্ছে, বাংলাদেশের এমন শুরুতে সিংহভাগ অবদান তামিমই রেখেছেন! ৪৭ বলে ফিফটি করার পথে চারটি ছক্কা ও তিনটি চার মেরেছেন তিনি। এর মধ্যে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৩ হাজার রানের মাইলফলকও টপকেছেন তামিম।

ওপেনিং পার্টনার সাইফকে হারানোর পর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে আবার জুটি গড়েন। এবার তাদের জুটিতে আসে ৫০ পূর্ণ হয় ৬১ বলে। শান্তর বিদায়ে ভাঙে ৬৭ বল স্থায়ী ৫৩ রানের জুটি। বাঁহাতি টপ অর্ডার ব‍্যাটসম‍্যান তিন চারে ৩৪ বলে করেন ২৭ রান। মাঝের কিছু ওভার বল আচমকা নিচু হয়ে আসা শুরু করলে বাংলাদেশি ব্যাটাররা কিছুটা ভুগছিলেন। তবে বাকিদের মতো অতটা ভোগেননি! ২৯ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ১৫৮, যেখানে ৮৭ রানই ছিল তামিমের।

নব্বইয়ের ঘরে বেশিক্ষণ আটকে থাকেননি তামিম। ৯৪ রানে থাকা অবস্থায় স্লটে বল পেয়েই ছক্কা মেরে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আবরার আহমেদের করা নিরীহ এক শর্ট ডেলিভারিতে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

ফেরার আগে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন তামিম। সমান বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকান এই বাঁহাতি ওপেনার। এ নিয়ে ৩০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৮ ছক্কা হয়ে গেলো তামিমের। তার উপরে আছেন ১৪ জন। তবে এর মধ্যে এখনো খেলছেন এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র ২! ৯৮ ম্যাচে লিটন কুমার দাসের ছক্কা ৪৮টি আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৯ ছক্কা মেরেছেন ১১৭ ম্যাচে।

এসকেডি/এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।