জ্বালানি তেল সরবরাহে মানা হয় না নিয়ম-নীতি

ইকবাল হোসেন
ইকবাল হোসেন ইকবাল হোসেন , নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:৩০ পিএম, ০৫ মে ২০২৬
নিয়ম ভেঙে তৃতীয় দেশ থেকেও সরবরাহ দেওয়া হয় জ্বালানি/জাগো নিউজ গ্রাফিক্স

সরকারিভাবে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি আমদানি ঘিরে গড়ে উঠেছে এক শক্ত সিন্ডিকেট। কমবেশি ৮০ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি হয় ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। জ্বালানি পরিবহনের প্রিমিয়াম নিয়ে ২০০৯ সালের পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে (বিপিসি) শক্ত খুঁটি গেঁড়েছে সিন্ডিকেটটি।

এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন এজাজুর রহমান নামে এক চিকিৎসক। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রম, লোকবল ও সরবরাহ চেইনসহ সামগ্রিকভাবে ওই সিন্ডিকেটটি জ্বালানি খাতে নিজেদের দাঁড় করিয়েছে ‘আরেক বিপিসি’ হিসেবে। জাগো নিউজের অনুসন্ধানে উঠে আসা এ সিন্ডিকেট কারসাজির আদ্যোপান্ত নিয়ে নিজস্ব প্রতিবেদক ইকবাল হোসেনের তিন পর্বের ধারাবাহিকের তৃতীয় ও শেষ পর্ব

জি-টু-জি (সরকার টু সরকার) ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহ করে বিপিসি। জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে ডা. এজাজের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জি-টু-জির নিয়ম ভেঙে তৃতীয় দেশ থেকেও সরবরাহ দেওয়া হয় জ্বালানি। নীতিমালা অনুযায়ী আবশ্যিক যোগ্যতা না থাকা প্রতিষ্ঠানও তালিকাভুক্তির অভিযোগ রয়েছে বিপিসির বিরুদ্ধে।

জ্বালানি সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান প্রতিষ্ঠান পিটি বুমি সিয়াক পুসাকু (বিএসপি)-জাপিন সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে জি-টু-জি পদ্ধতিতে ১৪ লাখ ৩৫ হাজার টন জ্বালানি সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয় সাত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে।

এর মধ্যে সাড়ে তিন লাখ টন বরাদ্দ পায় বিএসপি-জাপিন। একইভাবে অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে জি-টু-জি পদ্ধতিতে ১৩ লাখ ৮০ হাজার টন জ্বালানি সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া সাত সরবরাহকারীর মধ্যে বিএসপি জাপিনকে দেওয়া হয় ৪ লাখ ৩৫ হাজার টনের কার্যাদেশ।

নিয়ম না মেনে তেল সরবরাহ

অভিযোগ রয়েছে, বড় সরবরাহকারী হলেও নীতিমালা অনুযায়ী বিএসপি জাপিনের প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নেই। জি-টু-জি হলেও তৃতীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি সরবরাহ দেয় তারা। গত ২৩ মার্চ বিপিসির তালিকাভুক্ত এক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি হেডের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিপিসির এখন সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী বিএসপি। আমার মতে- নীতিমালা অনুযায়ী বিএসপির তেমন সক্ষমতা নেই। এটি একটি ফ্রন্ট কোম্পানি। তাদের নামে মাল (তেল) দেয় ভিটল।’

তিনি বলেন, ‘এখন সরবরাহকারীগুলোর কয়েকটি নতুন নীতিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত। সরবরাহকারী হতে বিপিসির নতুন নীতিমালা অনুযায়ী অনেক ক্রাইটেরিয়া (মানদণ্ড) রয়েছে। জি-টু-জি তালিকাভুক্তির জন্য সরবরাহকারী রিফাইনারিকে ওই দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসকে সরেজমিনে দেখে প্রত্যয়ন করতে হয়। আমাদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে তাই হয়েছে।’

লেইকেন অনুযায়ী পণ্য খালাস না নিলে বিপিসিকে ডেমারেজ গুনতে হয়। চুক্তিতে এমন শর্ত রয়েছে। এজন্য বিগত সময়ে বিপিসিকে অনেক ডেমারেজ পরিশোধ করতে হয়েছে। কিন্তু লেইকেন অনুযায়ী সাপ্লাইয়ার পার্সেল সরবরাহ করতে না পারলে তাকে ডেমারেজ দিতে হয় না। লেইকেন মানা না হলে বিপিসিকে যেমন ডেমারেজ দিতে হচ্ছে, তেমনটি সাপ্লাইয়ারের ডেমারেজ আরোপ করার বিষয়টি চুক্তিতে থাকা উচিত।-বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ

সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম জানিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেকটি সরবরাহকারীর উৎপাদন সক্ষমতা কেমন, তা প্ল্যাটসে (বৈশ্বিক জ্বালানির দাম নির্ধারণকারী গ্রহণযোগ্য প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশও প্ল্যাটসের দর অনুযায়ী আমদানি করা জ্বালানির দর নির্ধারণ করে) গেলে খুঁজে পাওয়া যায়।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আগের যারা সরবরাহকারী রয়েছে, তারা বিপিসির নীতিমালা অনুযায়ী মানদণ্ডে পড়ে কি না?’ প্রত্যেক রিফাইনারির ডিটেল, কার কত শতাংশ শেয়ার, কার কতটুকু উৎপাদন সক্ষমতা, সবই প্ল্যাটসে রয়েছে।’

বর্তমানে কুয়েত পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (কেপিসি), ওকিউটি, ইউনিপেক সিঙ্গাপুর, পেট্রোচায়নার কাছে সেই সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, ‘জি-টু-জি এগ্রিমেন্টটি হলো একটি বাইলেটারাল এগ্রিমেন্ট (দ্বিপাক্ষিক চুক্তি)। বাংলাদেশে এখনো সৌদি আরামকো সরকারি দরে তেল দেয়। কিন্তু সৌদি আরামকো এখানে ব্যবসা করতে চাইলে বিপিসি তাদের সুযোগ দেয় না। অথচ বিশ্বে সৌদি আরামকোর ওপরে বড় কোম্পানি নেই।’

আরও পড়ুন

এক মাসে শুধু ডিজেলে বিপিসির ‘গচ্চা’ ১০১ কোটি টাকা
মে মাসে জ্বালানি তেলে থাকছে স্বস্তি
অকটেনে ‘ভাসছে’ বিপিসি, তবু পাম্পে হাহাকার

বিগত সময়ে বিপিসি দ্বৈতনীতিতে চলতো দাবি করে তিনি বলেন, ‘বছরখানেক আগে সিঙ্গাপুরের ট্রাফিগুরা একবার লোয়েস্ট হয়েছিল। ওরা পৃথিবীব্যাপী বড় ট্রেডিং কোম্পানি। ওরা লোয়েস্ট হওয়ার পরেও প্ল্যাটসের অজুহাত দেখিয়ে বিপিসি তাদের বাতিল করে দেয়। অথচ এই ট্রাফিগুরার এজেন্সি যখন এজাজ সাহেবের হাতে ছিল, তখন বিপিসি কোনো বাধা দেয়নি।’

সরবরাহকারীদের প্রস্তাবিত দরের তথ্য আগেই এজাজ সাহেবের কাছে চলে যায় অভিযোগ করে এ ব্যক্তি বলেন, ‘একসময়ে কেপিসি যে রেট দিতো, সেটি অন্য সবাই ফলো করতো। কেপিসির নেগোসিয়েশন হতো সবার আগে। এখন এজাজ সাহেবের নেগোসিয়েশন হয় সবার পরে। সবার কাছ থেকে রেট নেওয়ার পর, সেই রেট এজাজ সাহেবের কাছে চলে যায়। তখন এজাজ সাহেব লোয়েস্ট রেট দিয়ে কাজ ভাগিয়ে নেন।’

বিপিসিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে অনিয়ম তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের। চাইলেই হঠাৎ করে তা দূর করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ করেছি। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সামনের দিনগুলোতে বিপিসিতে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। আগামী দুই মাসের মধ্যেই বিষয়গুলো দৃশ্যমান হবে।-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলাম

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিএসপি-জাপিন বিপিসির অনেক আগের সরবরাহকারী। তারা এখন সবচেয়ে বড় সরবরাহকারীও। যে কারণে তাদের নতুন করে তালিকাভুক্ত করতে হয়নি। বিএসপি জাপিনের বিষয়ে প্ল্যাটসে যে তথ্য রয়েছে, তাতে তারা আমাদের ক্রাইটেরিয়া পূর্ণ করতে পারবে না।’

সংকটে সময়মতো সরবরাহ দেয়নি জ্বালানি

চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে বিপিসির জ্বালানি মজুত কমতে থাকে। বিশেষ করে বড় কয়েকটি সরবরাহকারী নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ না দেওয়ায় মজুত নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। এর মধ্যে বিপিসিকে দেওয়া ১৪ এপ্রিল তারিখের বিএসপি জাপিনের একটি চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাতে ডিজেলের তিনটি পার্সেল ১২-২৪ দিন বিলম্বে সরবরাহ দেওয়ার তথ্য রয়েছে।

চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী ৩১ হাজার টনের ডিজেলের একটি পার্সেল সরবরাহের কথা ছিল ২৪-২৬ মার্চের মধ্যে। কিন্তু পার্সেলটি ২৪ দিন বিলম্বে ১৮-২০ এপ্রিলের মধ্যে ‘এমটি কেপ বনি’ জাহাজে সরবরাহ দেবে বলে বিপিসিকে জানানো হয়।

জ্বালানি তেল আমদানিতে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে ঘিরে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, এ সিন্ডিকেটই পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই আমাদের দেখার বিষয়।-ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম

একইভাবে ২৯ মার্চ-১ এপ্রিলের মধ্যে ৩১ হাজার টন ডিজেলের আরেকটি পার্সেল সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল বিএসপির। কিন্তু প্রায় ২২ দিন বিলম্বে পার্সেলটি ২০-২২ এপ্রিল ‘এমটি এফপিএমসি ৩০’ জাহাজে করে সরবরাহ দেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ দেয় তারা।

৯-১১ এপ্রিল ৩১ হাজার টনের ডিজেলের আরেকটি পার্সেল দেওয়ার নির্ধারিত শিডিউল থাকলেও তা পিছিয়ে ২২-২৪ এপ্রিল ‘এমটি হাফনিয়া চিত্তা’ জাহাজে সরবরাহ দেওয়ার বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। একই চিঠিতে মে মাসের একটি পার্সেল নির্ধারিত সময়ে প্রায় ৮ দিন আগে সরবরাহ দেওয়ার কথাও জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর ও বিপিসির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পরের নির্ধারিত তারিখে জাহাজ তিনটি বিপিসিকে ডিজেল সরবরাহ করে। জাহাজ তিনটির মধ্যে ‘এমটি কেপ বনি’ আসে মালয়েশিয়া এবং ‘এমটি এফপিএমসি ৩০’ ও ‘এমটি হাফনিয়া চিত্তা’ আসে সিঙ্গাপুর থেকে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এপ্রিল মাসের নির্ধারিত শিডিউলের দুটি পার্সেল সরবরাহ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে ইউনিপেক (সিঙ্গাপুর) পিটিই লিমিটেড এবং পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি লিমিটেড (পিটিএলসিএল)। যুদ্ধাবস্থার অজুহাতে দুই সরবরাহকারী বিষয়টিকে ফোর্স মেজার ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির লোকাল এজেন্টও ডা. এজাজের।

ডেমারেজ গুনতে হয় বিপিসিকে

তাছাড়া বিপিসির পরিশোধিত জ্বালানি সংগ্রহে আত্মঘাতী নানান বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, পার্সেল নিয়ে আসা সরবরাহকারীর জাহাজ লেইকেন (সমুদ্র বাণিজ্যে চার্টারের চুক্তি অনুযায়ী পণ্য নিয়ে আসা জাহাজের পৌঁছার কিংবা সরবরাহের সময়) সময়ে খালাস না নিলে বিপিসিকে ডেমারেজ গুনতে হয়। কিন্তু লেইকেন সময়ে সরবরাহকারী পার্সেল না দিলে তাতে সরবরাহকারীকে ডেমারেজ দিতে হয় না।

আরও পড়ুন

বিশ্ববাজারে চাপ কমাতে তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে সৌদি-রাশিয়াসহ ৭ দেশ
বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকর
তেলের মজুত ‘স্বাভাবিক’, পাম্পে ‘নেই’
দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ‘শঙ্কা’, বিকল্প উৎসের সন্ধান

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘লেইকেন অনুযায়ী পণ্য খালাস না নিলে বিপিসিকে ডেমারেজ গুনতে হয়। চুক্তিতে এমন শর্ত রয়েছে। এজন্য বিগত সময়ে বিপিসিকে অনেক ডেমারেজ পরিশোধ করতে হয়েছে। কিন্তু লেইকেন অনুযায়ী সাপ্লাইয়ার পার্সেল সরবরাহ করতে না পারলে তাকে ডেমারেজ দিতে হয় না। এটা নিয়ে আমি বিগত সময়ে অনেক কথা বলেছি, লেইকেন মানা না হলে বিপিসিকে যেমন ডেমারেজ দিতে হচ্ছে, তেমনটি সাপ্লাইয়ারের ডেমারেজ আরোপ করার বিষয়টি চুক্তিতে থাকা উচিত।’

এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে জ্বালানি সেক্টরে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অনেকে আপাদমস্তক দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তারা দেশের জনগণের অর্থের নয়ছয় করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করছে।’

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেল আমদানিতে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে ঘিরে যে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, এ সিন্ডিকেটই পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানটিকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নেয় সেটাই আমাদের দেখার বিষয়।’

তৃতীয় দেশ থেকে সরবরাহ করার বিষয়টি যদি সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রিমিয়াম খুব বেশি হবে। যদি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা থেকে লোড করা হয় তাহলে ভয়েজ টাইম হয়ে যাবে সাড়ে ৭ থেকে ৮ দিন। যেখানে সিঙ্গাপুর থেকে ভয়েজ টাইম আসে সাড়ে ৪ দিন। আমরা কিন্তু লোয়েস্ট প্রিমিয়ামে জ্বালানি পরিবহন করি।-ডা. এজাজুর রহমান

এ বিষয়ে জানতে বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানের দাপ্তরিক মোবাইল ফোনে এবং ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের ল্যান্ডফোনে একাধিক ফোন করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে ক্ষুদেবার্তা দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

পরে বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। বিপিসিতে জ্বালানি তেল সরবরাহে সিন্ডিকেট বিশেষ করে ডা. এজাজুর রহমানের প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিপিসিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে অনিয়ম তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘদিনের। চাইলেই হঠাৎ করে তা দূর করা সম্ভব নয়। সেজন্য আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ করেছি। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সামনের দিনগুলোতে বিপিসিতে কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। আগামী দুই মাসের মধ্যেই বিষয়গুলো দৃশ্যমান হবে।’

এ বিষয়ে ট্রান্সবাংলা কমোডিটিজ ও ৭ মার্ক পিটিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এজাজুর রহমানের সঙ্গে গত ২২ এপ্রিল রাতে কথা হয় জাগো নিউজের। তিনি বলেন, ‘আমরা সাপ্লায়ারের লোকাল এজেন্ট নই। আমাদের একটি শিপিং এজেন্ট রয়েছে, প্রাইড শিপিং। জাহাজগুলো চট্টগ্রাম এলে আমরা হ্যান্ডেল করি। যে জি-টু-জি কোম্পানিগুলো আছে, জি-টু-জি কোম্পানির বাংলাদেশে লোকাল এজেন্সি আজ অব্দি দিয়েছে বলে আমার মনে হয় না। এখানে একটি মিসকনসেপশন আছে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে বিদেশিরা এলে লজিস্টিক সাপোর্ট যেটা দেওয়ার কথা, এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে আসি, বিপিসিতে পৌঁছে দিই। ওরা মিটিং করে, ওদের মতো করে চলে যায়। ওদের যে জাহাজগুলো চট্টগ্রামে আসে, জাহাজগুলোর শিপিং এজেন্ট কাউকে না কাউকে দিতেই হয়। কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বড় বড় কোম্পানিগুলো এখন লোকাল এজেন্ট নিয়োগ করে না। আমাদের পজিশন শিপিং এজেন্ট।’

তবে বিপিসির বেশ কয়েকটি চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিএসপি জাপিন ও পিটিএলসিএলকে দেওয়া চিঠিতে ট্রান্সবাংলা কমোডিটিজ এবং ইউনিপেক (সিঙ্গাপুর) ও ভিটল এশিয়াকে দেওয়া চিঠির সিসিতে রাখা হয়েছে ৭ মার্ক পিটিই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে।

বিএসপি জাপিনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. এজাজ বলেন, ‘আজ পর্যন্ত যে চুক্তিগুলো হয়েছে, সবগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিপিসি মিটিং করেছে। ওখানে আমাদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না।’

জি-টু-জিসরবরাহকারী হয়ে তৃতীয় দেশ থেকে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে ৪-৫টি টার্মিনাল আছে। ওরা (জি-টু-জি উৎপাদনকারী) তেল উৎপাদন করে টার্মিনালগুলোতে রাখে। ইন্দোনেশিয়ার কিছু কার্গো এসে সিঙ্গাপুরে জমা হয়। ওখানে জেটিতে গভীরতাটা বেশি, জাহাজ সহজে ভিড়তে পারে। আবার জাহাজের ফ্রেইটও ওখানে কম হয়। মালগুলোর সবগুলোই জি-টু-জি কাট্রি থেকে আসে।’

তিনি বলেন, ‘তৃতীয় দেশ থেকে সরবরাহ করার বিষয়টি যদি সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে প্রিমিয়াম খুব বেশি হবে। যদি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা থেকে লোড করা হয় তাহলে ভয়েজ টাইম হয়ে যাবে সাড়ে ৭ থেকে ৮ দিন। যেখানে সিঙ্গাপুর থেকে ভয়েজ টাইম আসে সাড়ে ৪ দিন। আমরা কিন্তু লোয়েস্ট প্রিমিয়ামে জ্বালানি পরিবহন করি।’

এমডিআইএইচ/এএসএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।