‘সাকিবের ফিটনেস নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, সে নিজেই অনেক বেশি সচেতন’
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে আছেন সাকিব আল হাসান। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগের পতনের পর জাতীয় দলে তার খেলায় অলিখিত নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়। তবে সম্প্রতি তাকে আবার জাতীয় দলে ফেরানোর তোরজোড় করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এত লম্বা সময়ে দেশের বাইরে থাকায় জাতীয় দলের খেলার মতো ফিটনেস আছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা আছে। তবে সাকিবের ফিটনেস নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন জাতীয় দলের ফিজিও ইফতিখার ইফতি।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলছে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প। এর ফাঁকে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ইফতি। সেখানে সাকিব ফিরলে ফিটনেস ঠিক থাকবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সাকিব নিশ্চয়ই দেশের বাইরে থাকলেও সে ইন্টারন্যাশনাল স্টার। সে তার ফিটনেস মেইনটেইন করে। আমি দেখছি যে ওর ফিটনেস ট্রেইনার আছে পার্সোনাল। ফিজিও আছে, নিউট্রিশন আছে। আমার মনে হয় না যে সাকিব ওইখানে ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিস কম পাচ্ছে। সাকিবরা আমরা এখানে থাকলে যা মনিটর করব, তার চেয়ে বেশি মনিটরিং এর মধ্যে সাকিব আছে। সে নিজের থেকে।’
সাকিবের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিসিবির কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো নতুন ‘ডেটা’ নেই বলে স্বীকার করেছেন ইফতি। তবে সাকিবের নিয়মিত অ্যাক্টিভিটির ওপর ভিত্তি করে তিনি আশাবাদী। তার ভাষ্যমতে, ‘সাকিব কিন্তু প্রতিনিয়তই আমি দেখলাম যে ট্রেইনারের সাথে অ্যাক্টিভিটি চলছে। আমি এগুলা খেয়াল করি সবসময়। আমাদের কাছে আপাতত কোনো প্রপার ডেটা নেই, কিন্তু আমার ধারণা সে যেদিন আসবে সে তখন প্রপার ফিট থাকবে।’
সাকিব কবে নাগাদ জাতীয় দলের সিলেকশনের জন্য অ্যাভেইলেবল হবেন, তা নিয়ে বিসিবি এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ইফতি জানান, সাকিবের ইস্যুটি একটি ‘ন্যাশনাল ইস্যু’। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দল এমন একটা জায়গা যখন যে প্লেয়ারগুলো আসবে আমাদের কাছে আমরা শুধু তাদেরকে নিয়েই ট্রেন্ড আপ করব। সাকিবের ইস্যুটা হচ্ছে ন্যাশনাল ইস্যু। সাকিব কবে আসবে, কি করবে সেটা নিয়ে আমি আগের থেকে কোন প্ল্যান পরিকল্পনা আমাদের তরফ থেকে এখনো সাজাতে পারিনি। সে যখন দেশে আসবে, বিসিবি যখন তাকে মনে করবে যে সে খেলার জন্য প্রস্তুত, তখন আমরা তাকে নিয়ে একটা প্ল্যান করব।’
বর্তমানে ক্রিকেটাররা নিজেদের ফিটনেস নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন বলে মনে করেন এই ট্রেইনার। তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই বলেন আমাদের প্লেয়াররা দায়িত্ববান নয় কিংবা তাদের ফিটনেস ভালো না। কিন্তু তারা এখন খাবার-দাবার (ডায়েট) সম্পর্কে অনেক সচেতন। তারা আমাদের মতো ট্রেইনারদের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখে এবং ফিজিওদের সাথেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগে থাকে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো এখন তাদের মধ্যে গড়ে উঠছে।’
এসকেডি/আইএন