বিসিবির পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পারিশ্রমিক নিয়ে ‘নয়ছয়’, ক্ষুব্ধ তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:০৮ পিএম, ০৪ মে ২০২৬

বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়েই বাংলাদেশের খেলা দেখতে আসা দর্শকদের খেলা দেখার সুবিধা নিয়ে কাজ শুরু করেন তামিম ইকবাল। গ্যালারিতে এর মধ্যে বড় ফ্যান লাগানো হয়েছে। দর্শকদের জন্য বাথরুম অপরিষ্কার থাকায়ও ক্ষুব্ধ তামিম। সেটা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাদের প্রাপ্য বেতন পাচ্ছেন না।

সোমবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তামিম। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই অবাক হয়েছি। গ্যালারিতে গিয়ে একজন বিদেশি দর্শক আমাকে বললেন, যদি ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। ২০০৭ সালে স্টেডিয়াম হওয়ার পর থেকে বাথরুমে কোনো সংস্কার হয়নি—এটা ঠিক না।’

সেখানে কর্মরত এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কথা তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘তিনি বললেন-আমরা প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাই। বিষয়টা আমাকে নাড়া দেয়।’

এরপর খোঁজ নিয়ে তামিম জানতে পারেন, বিসিবি প্রতিজনের জন্য ৬৫০ টাকা দিলেও কর্মীরা পাচ্ছেন মাত্র ৩০০ টাকা। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘৬৫০ টাকা দেওয়া হয়, কিন্তু তারা ৩০০ টাকা পাচ্ছে কেন? জেনে যা শুনলাম, তা খুবই চমকপ্রদ। একটা কোম্পানি টেন্ডার পায়, কিন্তু বিসিবির লোকজন দিয়েই কাজ করানো হয়। কোম্পানি টাকা নিয়ে আবার অন্য একজনের মাধ্যমে কর্মীদের দেয়, আর মাঝখানে টাকা রেখে দেয়।’

তামিম আরও বলেন, ‘আমি বলেছি—আপনাদের ৬৫০ টাকা দেওয়া হয়, আপনি লাভ করবেন, খরচ থাকবে, ঠিক আছে। কিন্তু এই মহিলারা অন্তত ৫০০ টাকা পেতে পারে। মাঝখানে কোনো কাজ না করে ২০০ টাকা নেওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন।’

এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আজ থেকে আপনারা নিজেদের লোক দেবেন। প্রত্যেক কর্মীর নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকবে, সরাসরি সেখানে টাকা যাবে। প্রমাণসহ ফিন্যান্সে জমা দিলে তবেই বিল ছাড়ব। না হলে কন্ট্রাক্ট বাতিল করে ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে।’

ওভারটাইম নিয়েও অনিয়মের কথা তুলে ধরেন তিনি, ‘কেউ ২৫-৩০ ঘণ্টা ওভারটাইম পাচ্ছে, আবার কেউ ৯০ ঘণ্টা। বুঝলাম এখানে সমস্যা আছে। যাদের সাথে সমঝোতা হয়েছে, তাদের ওভারটাইম বেশি দেখানো হচ্ছে, পরে সেই টাকা থেকে অংশ নেওয়া হচ্ছে।’

তামিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা ৭-১০ হাজার টাকায় পরিবার চালায়, তাদের থেকে ৫০০ টাকা নেওয়াও বড় অপরাধ। এই বিষয়ে আমি কোনো ছাড় দেব না, এক শতাংশও না। আপনারাও (সাংবাদিকরা) এগুলো তুলে ধরবেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে দুর্নীতি করতে না পারে। আমি নিশ্চিত করতে চাই—কোনো গরিব মানুষের ক্ষতি যেন না হয়।’

এসকেডি/এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।