১১ আসরে আইপিএলের ১১টি বিস্ময়

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২৬ মে ২০১৮

২০০৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে জমজমাট টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট দেখতে দেখতে কাটিয়ে ফেলেছে ১১টি আসর। রোববার চেন্নাই সুপার কিংস বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দিয়ে পর্দা নামবে ১১তম আসরের।

টুর্নামেন্টের ১১ আসরে ক্রিকেট বিশ্ব দেখেছে রোমাঞ্চকর নানান ম্যাচ, ঘটেছে অবিশ্বাস্য সব ঘটনা। সারা বিশ্বের নামি তারকা ক্রিকেটাররা মাতিয়ে রেখেছেন গ্ল্যামারে ভরপুর এই টুর্নামেন্ট। এবারের আয়োজনে দেখে নেয়া যাক আইপিএলের ১১ আসরের ১১টি বিস্ময়কর তথ্য:

১ম আসর (২০০৮ সাল): আইপিএলের প্রথম আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। সেবার মুম্বাইয়ের প্রথম ম্যাচেই ইনিংসে ৪টি ক্যাচ নেন শচীন। আইপিএলের ১১ বছরের ইতিহাসে এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ক্যাচ নিতে পারেনি আর কেউ। ডেভিড ওয়ার্নার এবং জ্যাক ক্যালিসও ৪টি করে ক্যাচ নেয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

২য় আসর (২০০৯ সাল): মূল কাজ ব্যাটিং হলেও আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে বল হাতে সবাইকে তাক লাগিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। ডেকান চার্জার্সের হয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ ৫ বলে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন রোহিত। পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান রোহিতের এমন বোলিং পারফরম্যান্স এক কথায় অবিশ্বাস্যই ছিল।

৩য় আসর (২০১০ সাল): টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পরিসংখ্যানটা খুব একটা ভাল নয় ভারতীয় ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন ১টি মাত্র ম্যাচ। ঘরোয়াতেও ছিলো না তেমন উল্লেখযোগ্য কোন পারফরম্যানস। সেই তিনিই ২০১০ সালের আসরে সবাইকে পেছনে ফেলে জিতেছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরষ্কার ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’। সেবার ১৬ ম্যাচে ৫ ফিফটিতে ৬১৮ রান করেছিলেন শচীন।

IPL

৪র্থ আসর (২০১১ সাল): চতুর্থ আসরে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছিলেন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ক্যারিবীয় দানব ক্রিস গেইল। কোচি তাস্কার্স কেরালার পেসার প্রশান্ত পরমেশ্বরের করা এক ওভার থেকে ১টি নো বল সহ মোট ৩৭ রান নেন গেইল। ওভারটি ছিল এমন: ৬, ৬+নো বল, ৪, ৪, ৬, ৬, ৪!

৫ম আসর (২০১২ সাল): আইপিএলের এই আসরে সৌভাগ্যের অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। প্রথম পর্বে নিজেদের সব ম্যাচ শেষে চেন্নাইয়ের শেষ চারে খেলার জন্য প্রয়োজন ছিল রাজস্থান রয়্যাল, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হার। রাজস্থান এবং পাঞ্জাব বড় ব্যবধানে হেরে চেন্নাইয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখে। পরে মাত্র ১৩২ রান তাড়া করতে নেমে ৯ রানের ব্যবধানে হেরে যায় ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, বিরাট কোহলির ব্যাঙ্গালুরু। ফলে ব্যাঙ্গালুরুর সমান পয়েন্ট নিয়েও নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় শেষ চারে পৌঁছে যায় চেন্নাই।

৬ষ্ঠ আসর (২০১৩ সাল): আইপিএলের প্রথম ৫ আসরে মাত্র ২টি সুপার ওভার দেখা আইপিএল হঠাৎ করেই ১০ দিনের ব্যবধানে দেখে ২টি সুপার ওভারের ম্যাচ। অবাক করা বিষয় হচ্ছে ২টি ম্যাচেই ছিল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। ২ ম্যাচের প্রথমটিতে বিনয় কুমারের বাজে বোলিংয়ে হেরে যায় ব্যাঙ্গালুরু, তবে পরেরটিতে রবি রামপলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের মুখ দেখে বিরাট কোহলির দল।

৭ম আসর (২০১৪ সাল): আইপিএলের ৭ম আসরে অবিশ্বাস্য এক ম্যাচ জিতে প্লে’অফের টিকিট নিশ্চিত করেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম পর্বের একদম শেষ ম্যাচে রাজস্থানের রয়্যালসের বিপক্ষে মাত্র ১৪.৪ ওভারে ১৯০ রান তাড়া করে নেট রানরেটের জোরে রাজস্থানকে বিদায় করে দেয় মুম্বাই। সম্ভবত প্রথম এবং একমাত্র বারের মতো সেই ম্যাচেই রাহুল দ্রাবিড়কে রাগে-ক্রোধে মাটিতে ক্যাপ ছুঁড়ে মারতে দেখা গিয়েছিল।

IPL

৮ম আসর (২০১৫ সাল): অষ্টম আসরে আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে বয়ষ্ক ক্রিকেটার হিসেবে খেলার রেকর্ড গড়েন অস্ট্রেলিয়ান চায়নাম্যান ব্র্যাড হগ। ৪৪ বছর ৮১ দিন বছর বয়সে খেলতে নেমে ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় ১ উইকেট নেন হগ। পুরো আসরে ৬ ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন হগ।

৯ম আসর (২০১৬ সাল): আইপিএলের এই আসরে তাক লাগানো ব্যাটিং করেন বিরাট কোহলি। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ ৯৭৩ রান করেন তিনি। এছাড়া বিশ্বের যেকোন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের রেকর্ড ৪টি সেঞ্চুরিও হাঁকান তিনি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে ১৫ ম্যাচেই ৯৭৩ রান করে ফেলা কোহলি কোয়ালিফায়ার ম্যাচে আউট হন রানের খাতা খোলার আগেই।

১০ম আসর (২০১৭ সাল): আইপিএলের গত আসরে মাত্র ৫৮ বলেই গুড়িয়ে গিয়েছিল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। মাত্র ৪৯ রানে অলআউট হয়ে আইপিএলের ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জার রেকর্ড গড়ে তারা। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই ঘটনার ঠিক ৪ বছর আগে একই তারিখে আইপিএলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২৬৩ রান করেছিল বিরাট কোহলিরা।

১১তম আসর (২০১৮ সাল): চলতি আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। মজার ব্যাপার হচ্ছে ৫ বছর আগে ২০১৩ সালের আসরে রাজস্থানের জার্সি গায়ে চেন্নাইয়ের বিপক্ষেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন ওয়াটসন।

এসএএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :