রশিদকে সামলাতে সাকিবের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ২৭ মে ২০১৮

সপ্তাহখানেক বাদে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের প্রধান সমস্যার কারণ হতে পারেন তরুণ লেগস্পিনার রশিদ খান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা এই স্পিনারকে সামলাতে সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

চলতি আইপিএলে রশিদের সাথে একই দলে খেলছেন সাকিব। ফলে খুব কাছ থেকে দেখতে পারছেন রশিদের কব্জির কারিকুরি, নানান ভেলকিবাজি। আফগানদের বিপক্ষে সিরিজে রশিদকে সামলাতে সাকিবের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলকে অনেক সহায়তা করবে বলে মনে করেন মাহমুদউল্লাহ। রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান তিনি।

রশিদকে সামলানোর ক্ষেত্রে সাকিবের ভূমিকা কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে রিয়াদ বলেন, ‘সাকিব নেটে রশিদকে খেলছে, খুব কাছ থেকে রশিদের বলও দেখছে। ওর (সাকিব) কাছ থেকে আমরা কার্যকরী পরামর্শ পেতে পারি। ওর সাথে কথা বললে ওর নিজের চিন্তাটা সম্পর্কেও আমরা জানতে পারবো। রশিদের ব্যাপারে সাকিবের কাছ থেকে অবশ্যই ছোটখাটো বিষয়গুলো নেওয়ার চেষ্টা করবো। আমার মনে হয় ওই তথ্যগুলো আমাদের অনেক সাহায্য করবে দল হিসেবে।’

এসময় রিয়াদ কথা বলেন রশিদের বোলিংয়ের ব্যাপারেও। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই রশিদ ভালো বোলার। ভালো ক্রিকেট খেলছে সে। আমাদেরও সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। জিনিসগুলো অনেক বেশি স্বাভাবিক রাখা দরকার। আমরা নিজেরা কি করতে পারি, ওটার দিকে যদি আমরা বেশি ফোকাস রাখতে পারি, তাহলে আমাদের জন্যই ভালো হবে।’

সাম্প্রতিক সময়ে উদীয়মান দলগুলোর মধ্যে সবার সেরা আফগানিস্তান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তারা বাংলাদেশের চেয়েও এগিয়ে। তবে ইতিহাস বিবেচনায় আফগানদের চেয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস বাংলাদেশেরই। তাই নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা অটুট রাখতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন রিয়াদ।

তিনি বলেন, ‘আপনি যদি নতুন দলগুলোর দিকে তাকান, সেক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান। তার খুব ভালো করছে। ক্রিকেটের জন্য নতুন দলের উন্নতি ভালো লক্ষন। আমাদের জন্য এটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জের। আমাদের রেপুটেশন ধরে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। আশা করি ভালো ক্রিকেট খেলে, আমরা সিরিজ জিতে আসতে পারবো। সিরিজ জেতাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান রয়েছে ৮ নম্বরে, বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম। এদিকে টাইগারদের চেয়ে এগিয়ে আফগানরা। তবে ঢালাওভাবে আফগানদের এগিয়ে রাখার পক্ষে নন রিয়াদ। তার চোখে আফগানদের চেয়ে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ।

দুই দলের খেলোয়াড়দের দক্ষতা, গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে রিয়াদ বলেন, ‘দুইটা দলের শক্তির জায়গা দুইরকম। যদি পেস আক্রমণ দেখেন, ওদের চেয়ে আমাদের পেস আক্রমণ বেশি সমৃদ্ধ। রুবেল, মোস্তাফিজ অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছে। তারা জানে কিভাবে চাপ নিতে হয়। এছাড়া তরুণদের মধ্যে রনি, রাহী খুব ভালো বোলার। যদি স্পিনের কথা বলেন, সাকিব বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সেরা। অপু ভালো করছে। ওদের স্পিন যদি দেখেন, রশিদ আছে মুজিব আছে। তুলনা করা কঠিন। তারপরও আমি বলবো আমাদের বোলিং আক্রমণটা অনেক সমৃদ্ধ, যদি অভিজ্ঞতার কথা চিন্তা করেন।’

তবু আফগানদের দুই স্পিনার রশিদ খান এবং মুজিব উর রহমানের জন্য আলাদা ভাবে প্রস্তুতি নিতেই হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। অনুশীলনে এই দুই স্পিনারকে সামলানোর নানান পথ খোঁজার চেষ্টা করেন রিয়াদ-মুশফিকরা। কেননা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রশিদ বিশ্বের সেরা বোলার। তাকে সমীহ না করে উপায় নেই।

রিয়াদ বলেন, ‘যখন আমরা অনুশীলন করি কিংবা নেটে ব্যাটিং করে আসি, তখন আমার সঙ্গে মুশফিক কিংবা তামিম-সাব্বির সহ যারাই আছে, আমরা যখন বসে থাকি, তখন বিষয়টা নিয়ে কথা বলি। আলোচনা করি রশিদকে নিয়ে। কারন আমরা সবাই জানি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রশিদ বিশ্বের সেরা বোলার। অবশ্যই তাকে সমীহ করতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের শক্তির জায়গাটা বোঝা দরকার, আমরা কে কিভাবে ক্রিকেট খেলি। প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গার ব্যাপারেও ধারনা থাকা উচিত। সবকিছু বিবেচনা করে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়ে যার যার শক্তি অনুযায়ী আমাদের ক্রিকেট খেলতে হবে।’

এসময় রশিদকে সামলানোর প্রাথমিক পরিকল্পনাও জানিয়ে দেন রিয়াদ। তার মতে রশিদের ওভার ভয় না পেয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলেই ওভারপ্রতি যথেষ্ট রান নেয়া সম্ভব। তিনি বলেন, ‘জিনিসটা যদি এভাবে দেখি রশিদ অনেক ভালো বোলার। তাকে খেলাই যাবে না। এটা ভাবা যাবে না। আমরা বল দেখবো, বল যদি আমাদের জোনে থাকে তাহলে অবশ্য স্কোরিং শট খেলব। তারপরও বলবো ওদের বোলিং আক্রমণটা অনেক ভালো। আমাদের ব্যাটসম্যনাদের অনেক বেশি সচেতন থাকতে হবে। ব্যাটসম্যানরা যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারে, তাহলে ইতিবাচক রেজাল্ট আশা করতে পারি।’

এসএএস/পিআর