পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া টাইগাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২৬ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৮

ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে স্রেফ উড়িয়ে দেয়ার পরে প্রত্যাশা ছিলো টেস্টেও দুই ম্যাচেই জয়ী দলের পাশে থাকবে বাংলাদেশের নাম। কিন্তু স্বাগতিকদের হতাশায় ডুবিয়ে সিলেটে সিরিজের প্রথম ম্যাচ সাড়ে তিনদিনেই জিতে নিয়েছে সফরকারি জিম্বাবুয়ে।

যা ছিলো সবমিলিয়ে ২০১৩ সালের পর এবং ঘরের বাইরে ২০০১ সালের পরে জিম্বাবুয়ের প্রথম টেস্ট জয়। ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে তুলনামূলক দুর্বলই ছিলো জিম্বাবুয়ের দলটি। কিন্তু সিলেটে দেখা যায়নি সে ছাপ।

রীতিমতো ফেবারিটের তকমা গায়ে নিয়ে ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের। ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে বাজিমাত করেছে জিম্বাবুয়ে। সিরিজের শেষ ম্যাচে ঢাকায় সিরিজটি নিজেদের করে নিতে জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন শুধুমাত্র ড্র। আর জিতে গেলে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করার অবিস্মরণীয় স্মৃতি নিয়েই দেশে ফিরতে পারবে লালচাঁদ রাজপুতের শিষ্যরা।

অন্যদিকে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগে চাপে বাংলাদেশ। অন্তত সিরিজ ড্র করতে হলেও ঢাকা টেস্টে জিততেই হবে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকদের। ড্র করলেও সিরিজের ট্রফি দিয়ে দিতে হবে জিম্বাবুইয়ানদের। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রথম ম্যাচের মতো নির্ভার থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ দলের সামনে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের মতে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে তার দলের। শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবতে পারছেন না তারা।

প্রথম ম্যাচের আগে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা শোনা গিয়েছিল অধিনায়কের কণ্ঠে, দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সেই সুর বদলে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। তাহলে কি প্রথম ম্যাচের আগে অতি আত্মবিশ্বাসী হওয়াটাই কাল হয়েছে দলের জন্য?

এমনটা মানতে নারাজ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তার মতে, কোনো দলকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামার আগেও ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়েই নামে বাংলাদেশ দল।

শনিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘না, তেমন কোন অনুভূতি (অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস) আমাদের মধ্যে কাজ করে না। কারণ আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সমান ভাবেই দেখি। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে যেভাবে দেখি, জিম্বাবুয়েকেও সেই একই চোখে দেখি। আসলে মাঠে গিয়ে ভালো খেলাটাই মূল লক্ষ্য। সেটা যদি আপনি করতে না পারেন তাহলে আপনারও খারাপ লাগবে, কারণ আপনি দেশের হয়ে ভালো করতে পারছেন না। এটা সবাইকেই অনেক পীড়া দেয়। আমাদের এখন টিম ম্যানেজমেন্টের সবার সাথেই আলাপ হয়েছে। আমাদের এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত অবস্থা। শক্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এখানে অন্য কোন সুযোগ নেই।’

প্রথম টেস্টের পরে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার বিপরীতে কোনো অজুহাত দেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছিলেন নিজেদের বাজে পারফরম্যান্সের দায়, বলেছিলেন এভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলার কোনো মানে নেই।

সেই ম্যাচের কথা ভুলে এখন দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে নামতে হবে বাংলাদেশকে। টেস্ট ক্রিকেটে টানা হতাশাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের পরে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়ায় কতোটা প্রস্তুত দলের ক্রিকেটাররা? ম্যাচ শেষে কিভাবেই বা খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করেছেন অধিনায়ক?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘সিলেট টেস্টের পর আমরা সব খেলোয়াড় একত্রে বসেছি। সেই ম্যাচে কি ইতিবাচক ব্যাপার ছিল, কি খারাপ করেছি যেগুলো আমরা পরের ম্যাচে করতে পারবো না; তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই জিনিস গুলো পয়েন্ট আউট করা হয়েছে। কিছু জায়গায় যদি শক্ত থাকতে পারি তাহলে আমরা ভালো করতে পারব।’

এ সময় নিজেদের মূল চিন্তা যে ব্যাটিং তাও জানিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমাদের আসল চিন্তার জায়গা ব্যাটিং। এই জায়গায় আমরা অন্য ফরম্যাটে যত ভালো করতে পারছি, টেস্ট ক্রিকেটে ততো ভালো করতে পারছি না। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা। আবার আমরা যদি খুব বেশি চিন্তা করি তাহলে চাপটা আমাদের উপরেই পড়বে। আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে চাইব। আমরা যদি ঐ জিনিসটা করতে পারি, তাহলে আমাদের ভালো করার সুযোগ থাকবে।’

এসএএস/এমএমআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :