অভিষেকেই আলিসের হ্যাটট্রিক, ঢাকার রোমাঞ্চকর জয়

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৩৮ এএম, ১২ জানুয়ারি ২০১৯

এই আলিস আল ইসলামটা কে? বাংলাদেশে এই নামে কোনও বোলার আছেন, এটাই তো জানি না। অথচ আজ (শুক্রবার) চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসের একাদশে দেখা গেছে এই আলিস আল ইসলামের নাম!

শুক্রবার চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স আর গতবারের রানার্সআপ ঢাকা ডায়নামাইটস ম্যাচের প্লেয়ার্স লিস্ট দেখে শেরে বাংলার প্রেস বক্সে প্রশ্ন, গুঞ্জন। সাংবাদিকদের মনে অমন প্রশ্ন জাগতেই পারে। কারণ, আলিস আল ইসলাম নামের কোন ক্রিকেটার আগে কখনো বিপিএল খেলেননি। এমনকি প্রিমিয়ার লিগও খেলেননি।

কখনও কোনও পর্যায়ে না খেলা সেই আলিস আল ইসলামের শুধু অভিষেকই হয়নি। আলিস খেললেন এবং বিপিএল অভিষেকে ইতিহাসেরও জন্ম দিলেন। আফিফ হোসেন ধ্রুবর পরে বিপিএলে সবচেয়ে স্মরণীয়, স্বপ্নীল আর ঝলমলে অভিষেক হলো ঢাকার অদুরে বলিয়ারপুরের এ ২৩ বছরের যুবার।

বিপিএলে অভিষেকে প্রথম হ্যাট্ট্রিকের দুর্লভ কৃতিত্বের অধিকারি হয়েছেন আলিস। বিপিএল খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করেই শুধু চমকে দেননি এ অফস্পিনার। শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করে ঢাকা ডায়নামাইটসকে অবিস্মরণীয় জয়ও উপহার দিয়েছেন তিনি।

সবমিলিয়ে বিপিএলে এটা তৃতীয় হ্যাট্রিক। এর আগে প্রথম হ্যাটট্রিকটি ছিল পাকিস্তানের মোহাম্মদ সামির। ২০১২ সালে বিপিএলের প্রথম আসরেই দুরন্ত রাজশাহীর পক্ষে খেলতে নেমে প্রথমটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন সামি। আর দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকম্যান একজন বাংলাদেশি, ডানহাতি পেসার আল আমিন হোসেন। ২০১৫ সালে বিপিএলের তৃতীয় আসরে হ্যাটট্রিক করেছিলেন আল আমিন।

এদিকে হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও আগেরবার অভিষেকে ৫ উইকেট শিকার করে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তবে তিনি পরপর তিন বলে তিন উইকেটের পতন ঘটাতে পারেননি।

রানখরা আর চার-ছক্কার আকালের মধ্যে আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন দর্শক ভরা শেরে বাংলায় চ্যাম্পিয়ন রংপুর আর রানার্সআপ ঢাকার ম্যাচে রান উৎসব হলো। চার ও ছক্কার প্রদর্শনীও ঘটল। যেখানে কাইরন পোলার্ড (২৬ বলে পাঁচ বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় ৬২) সাকিব ( ৩৭ বলে ৩৬) আর আন্দ্রে রাসেলের ( ১৩ বলে ২৩) ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৮৩ রানের বড়সড় স্কোর গড়েও হারতে বসেছিল ঢাকা ডায়নামাইটস।

রিলে রুশো (আট বাউন্ডারি ও চার ছক্কায় ৪৪ বলে ৮৩) আর মোহাম্মদ মিঠুনের (৩৫ বলে ৪৯) ব্যাটিং দৃঢ়তায় এক সময় জয়ের খুব কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল রংপুর। ৬ উইকেট হাতে থাকা অবস্থায় ১৮ বলে যথন মাত্র ২৬ রান লাগে, ঠিক তখনি শুরু হয় আনকোরা অফস্পিনার আলিসের স্পিন ম্যাজিক। সেই স্পিন জাদুতে প্রায় হাতের মুঠোয় আসা জয়ও শেষ অবধি হাতছাড়া হয় রংপুরের।

১৮ নম্বর ওভারে নিজের তৃতীয় নম্বর ওভার বল করতে এসে অনবদ্য হ্যাটট্রিক করে ফেলেন আলিস। ওই ওভারের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে পরপর তিন উইকেট দখল করেন আলিস। তার প্রথম শিকার মোহাম্মদ মিঠুন। ৩৫ বলে ৪৯ করা মিঠুন স্লগ করতে গিয়ে সোজা বলে বোল্ড । দ্বিতীয় শিকার রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি। তিনিও হয়ত আনকোরা স্পিনার আলিসকে সেভাবে আমলে না এনে একটু পা বাড়িয়ে ‘ইয়া হু’ মার্কা বিগ স্লগ খেলতে যান। কিন্তু ব্যাটে বলে করতে পারেননি। ঢাকা কিপার নুরুল হাসান সোহান বেলস তুলে নেন। থার্ড আম্পায়ারের কাছে পাঠানোর পর টিভি রিপ্লেতে নিশ্চিত হয় মাশরাফি স্টাম্পড, আউট।

এরপর শেষ হ্যাটট্রিকের শিকার হন ফরহাদ রেজা। অফস্টাম্প ও তার আশপাশে লেন্থ ডেলিভারি। ফরহাদ রেজা টার্ন ভেবে খেলতে গিয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ। ১৮ নম্বর ওভারে মাত্র তিন রানে তিন উইকেটেই বদলে যায় খেলার চিত্র।

শেষ ওভারে আবার আল ইসলাম ম্যাজিক। রংপুরের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৪ রান। হাতে ছিল এক উইকেট। আবার বোলার আনকোরা অফস্পিনার আলিস আল ইসলাম ।

প্রথম দুই বলে শফিউল প্রথম দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয়ের হিসেব সহজ করে ফেলেন। মনে হয় শেষ পর্যন্ত জিততে যাচ্ছে রংপুরই। কিন্তু চার বলে ৬ দরকার থাকা অবস্থায় শফিউল সিঙ্গেলস নিয়ে অলক্ষ্যে ভুল করে বসেন। তার স্লগ লং অনে যায়। সিঙ্গেলস নিয়ে ওপ্রান্তে চলে যান শফিউল।

তারপর চতুর্থ বলে নাজমুল অপু রান করতে ব্যর্থ। ডট বল। তাতেই সমীকরণ একটু কঠিন হয়ে যায়। পঞ্চম বলে নাজমুল অপু কভারে ঠেলে সিঙ্গেল, মিস ফিল্ডিংও হয়েছে খানিকটা। ডাবল নেয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তারা নিতে পারেননি বা নেননি। তাতেই শেষ বলে চার রানের দরকার পড়ে।

কিন্তু আলিসের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে শফিউল এক রানের বেশী নিতে পারেননি। তার সুইপ চলে যায় শর্ট ফাইন লেগে। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ২ রানের অতি নাটকীয় জয় পায় ঢাকা ডায়নামাইটস।

এআরবি/এসএএস/জেডএ

 

আপনার মতামত লিখুন :