অবশেষে দেখা মিললো বিধ্বংসী লিটনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯

১, ০, ৯, ৬- সংখ্যাগুলো চলতি বিপিএলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তরুণ ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের প্রথম চার ম্যাচের রান। প্রথম চার ম্যাচের একটিতেও দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি অমিত প্রতিভাধর এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

অবশেষে আসরে নিজের পঞ্চম ম্যাচের রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে দেখা মিলেছে চিরচেনা লিটন দাসের। মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের বিপক্ষে ঝড়ো এক ফিফটি হাঁকিয়ে নিজের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাট করা লিটন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন বিপিএলের প্রথম চার ম্যাচে। উদ্ভট সব আউট আর শট সিলেকশনে গড়বড় করে দুই অঙ্কও পেরুনো হচ্ছিল না তার। বিপিএলে ঢাকার প্রথম পর্বে পাননি রানের দেখা, সিলেটে গিয়েও প্রথম ম্যাচে করতে পেরেছিলেন মাত্র ৬ রান।

তবে রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচেই জ্বলে উঠেছে তার ব্যাট। টসে হেরে ব্যাট করতে নামেন সাব্বির রহমানকে সাথে নিয়ে। দুজনের জুটিতে প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে ৬১ রান করে সিলেট। যার সিংহভাগই আসে লিটনের ব্যাট থেকে।

রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজার করা প্রথম ওভারে মুখোমুখি দ্বিতীয় বলেই বাউন্ডারি মারেন লিটন। মাশরাফির পরের ওভারে মারেন আরো দুইটি। প্রতি ওভারেই অন্তত একটি করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানরেটটা সবসময়ই উপরের দিকেই রাখছিলেন তিনি।

পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে সোহাগ গাজীর করা ওভারের শেষ দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে পাওয়ার প্লে'র দারুণ ফায়দা নেন লিটন। দলের রান তখন ৬১, যেখানে লিটনের সংগ্রহ ২২ বলে ৪৫ রান।

তবে এরপর খানিক স্লো হয়ে যান লিটন। যে কারণে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফসেঞ্চুরিতে পৌঁছতে ২৯ বল খরচ হয়ে যায়। ফিফটি করেও দমে যাননি লিটন। ৭৩ রানের মাথায় সাব্বির রহমান ২০ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।

পরে দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গে ৫৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। খেলেন ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৭০ রানের ইনিংস। ১৫তম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে আসেন ক্রিস গেইল। তিনি বল হাতে নিয়েই ওভারের তৃতীয় বলে ভাঙেন লিটন-ওয়ার্নার জুটি।

তবে এতে গেইলের কৃতিত্বের চেয়ে লিটনের গাফেলতিই বেশি। কেননা সহজ রান হবে ভেবে ধীরে দৌড়াচ্ছিলেন তিনি। সে সুযোগে বল পেয়েই চোখের পলকে স্টাম্প ভেঙে লিটনকে রানআউট করে দেন গেইল। আউট হওয়ার আগে ৯ চার ও ১ ছক্কার মারে মাত্র ৪৩ বলে ৭০ রান করেন তিনি।

লিটন আউট হয়ে গেলেও দলকে বড় সংগ্রহের দারুণ এক ভীত দিয়ে যান। এরই সাথে তার অফফর্মের কারণে সিলেট ম্যানেজম্যান্টের কপালে যে চিন্তার ভাজ ছিলো সেটিও দূর করে দিয়েছেন তিনি।

এসএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :