আমার কাছে বিশ্বের কোনো মাঠই বড় নয় : রাসেল

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০৩ পিএম, ০৬ এপ্রিল ২০১৯

আন্দ্রে রাসেল! টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের আরেক নাম। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সব কীর্তি গড়েন ব্যাট হাতে, সবগুলোই থাকে বিশাল সব ছক্কায় মোড়ানো। প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য বিনিদ্র সব রাত উপহার দিতে জুরি নেই রাসেলের।

চলতি আইপিএলে এখনো পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৭৭টি বল খেলেছেন রাসেল, রান করেছেন বলের আড়াই গুণেরও বেশি- ২০৭! এই মোট রানের মধ্যে ১৮০ রানই করেছেন শুধু চার-ছক্কা হাঁকিয়ে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ২০৭ রানের মধ্যে ১৩২ রানই তিনি করেছেন ছক্কা হাঁকিয়ে।

চার ম্যাচে রাসেলের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২২টি ছক্কা। তাও কি-না সমান্তর ধারায়। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৪টি, কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে ৫টি এবং দিল্লি ক্যাপিট্যালসের বোলারদের ৬ বার উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করা রাসেল, শুক্রবার রাতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে হাঁকিয়েছেন ৭টি বিশাল ছক্কা।

মাত্র ১৩ বলে ৪৮ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলে কলকাতাকে এনে দিয়েছেন দুর্দান্ত এক জয়। ২৬ বলে ৬৭ রানের প্রয়োজনে খেলতে নেমে ৫ বল আগেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন রাসেল। নিজের প্রথম ৪ বলে মাত্র ১ রান করেছিলেন তিনি। এরপর খেলেন আরও ৯টি বল।

সে ৯ বলে রাসেলের ব্যাট থেকে আসা শটগুলো যথাক্রমে ৬, ৬, ৬, ১, ৬, ৬, ৬, ৪, ৬! অর্থাৎ প্রথম ৪ বলে ১ রান করা রাসেল পরের ৯ বলে হাঁকান ৭টি ছক্কা এবং ১টি চার, করেন ৪৭ রান। সবমিলিয়ে ১৩ বলে ৪৮ রানের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাঙ্গালুরুকে উড়িয়ে দেন রাসেল।

রাসেলের এমন ব্যাটিংয়ের পর ব্যাঙ্গালুরুর খেলোয়াড়, ভক্ত-সমর্থকদের স্রেফ চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। প্রতিটি ছক্কাই যেনো ছুঁয়ে যাচ্ছিলো আকাশকে, আছড়ে পড়ছিল গ্যালারির দোতলা কিংবা ছাদে, গুলির মতো বিঁধে যাচ্ছিলো ব্যাঙ্গালুরুর সমর্থকদের বুকে।

তবু ম্যাচ শেষে রাসেলের কৃতিত্বকে খাটো করতে অজুহাত হিসেবে আনা হয় ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ছোট বাউন্ডারির অজুহাত। কিন্তু সেটি উড়িয়ে দিয়েছেন ছক্কার স্টাইলেই। জানিয়ে দিয়েছেন তার কাছে বিশ্বের কোনো মাঠই বড় নয়। সেটি হোক ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়ায়।

ম্যাচসেরার পুরষ্কার গ্রহণ করে রাসেল বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার কাছে বিশ্বের কোনো মাঠই যথেষ্ট বড় নয়। আমি আমার ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। হাত এবং চোখের যোগসাজশ এখানে বড় ফ্যাক্টর। বিশেষ করে লো ফুলটস ডেলিভারিগুলোতে। কারণ লো ফুলটসে বড় শট খেলা কঠিন। আমি চেষ্টা করি হাত খুলে খেলার। আমি হয়তো বোঝাতে পারবো না, তবে মাঠে প্রত্যক্ষভাবে দেখিয়েই দিতে পারি (হাসি)।’

এসময় ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে খেলা ইনিংসটি ব্যাখ্যায় রাসেল বলেন, ‘আমি ব্যাট করতে নামার সময়ই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। ডিকে (দীনেশ কার্তিক) আমাকে বললো শুরুতে কয়েক বল দেখে পিচের অবস্থা বুঝে নিতে। আমি ডাগআউটে বসে টিভিতে দেখায় ধারণা হয়েছিল।’

‘আপনার যখন ২৮ বলে ৬৮ করতে হবে, এটার কোনো নিশ্চয়তা আপনি দিতে পারবেন না। তখন আপনার শেষটা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। টি-টোয়েন্টির বৈশিষ্ট্যই এমন যে এক ওভারেই ম্যাচ ঘুরে যেতে পারে। তাই আমি কখনো আশা হারাই না। একসময় মনে হচ্ছিলো অনেক বেশি রান দরকার। তখন আমি শুধু নিজের সেরাটা দিয়ে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেই এবং শেষমেশ ৫ বল বাকি থাকতেই জিতে গেলাম।’

এসএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :