নান্নু ভাইর সঙ্গে সেই জুটি আর লারার প্রশংসার কথা ভুলবো না : মঞ্জু

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:২৮ পিএম, ২৭ মে ২০১৯

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি। প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম ৫ উইকেট শিকারি বোলার কে?

কেউ না। কারণ, এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে বাংলাদেশের কোন বোলার এক ম্যাচে ৫ বার তার বেশি উইকেট পাননি। ৪ উইকেট শিকারি আছেন চারজন; সাকিব (২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪/৫৫), মাশরাফি (২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে, ৪/৩৮), রুবেল (২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪/৫৩) এবং শফিউল ইসলাম (৪/২১, ২০১১ বিশ্বকাপে ঢাকায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে)।

এখন অপেক্ষা প্রথম ৫ উইকেট শিকারী কে হবেন, সেটা দেখার। কিন্তু জানেন, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম উইকেট শিকারি বোলার কে?

মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু। দিনটি ছিল ১৯৯৯ সালের ১৭ মে। চেমসফোর্ডে নিউজিল্যান্ডের আক্রমনাত্মক ওপেনার নাথান অ্যাস্টলকে (৪) আউট করে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে বিশ্বকাপে প্রথম উইকেট শিকারি হিসেবে নিজের নামকে ইতিহাসের পাতায় স্থায়িভাবে লিখে রেখেছেন এ বাঁ-হাতি পেসার। মঞ্জুর বলে অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল ক্যাচটি ধরেন।

দেশের হয়ে প্রথম বিশ্বকাপে হাসিবুল হোসেন শান্তর সাথে নতুন বলে বোলিং সূচনা করা বাঁ-হাতি মঞ্জুরুল ইসলামের কিন্তু আরও দুটি কৃতিত্ব আছে। যার কথা হয়ত অনেকের মনেই নেই; কিন্তু ইতিহাস ঘাটলে আর ৯৯’র বিশ্বকাপ ইতিহাস, পরিসংখ্যান ঘাঁটাঘাটি করলে দেখা যাবে মঞ্জুর ওই দুটি কৃতিত্ব সে আসরে স্কটল্যান্ডের সাথে জয়ের পিছনে রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

শুনবেন কি ভূমিকা? প্রথম ভূমিকাটি অবশ্য বোলার হিসেবে নয়। ব্যাটসম্যান হিসেবে। ভাবছেন বিশ্বকাপের অভিষেকে ব্যাট হাতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যা ছিটেফোটা অর্জন, তাতো মাত্র দুজন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু আর মেহরাব হোসেন অপির। পেসার মঞ্জু নামতেন সবার শেষে ১১ নম্বরে। তার আবার ব্যাটসম্যান হিসেবে কি কার্যকর অবদান থাকতে পারে?

এমন প্রশ্ন ওঠা খুব স্বাভাবিক; কিন্তু ইতিহাস জানাচ্ছে আছে। মঞ্জু ১৯৯৯ সালের ২৪ মে এডিনবরার গ্র্যাঞ্জ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের প্রয়োজনে মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর সাথে দশম বা শেষ উইকেটে ২১ রানের অবিচ্ছিন্ন একটি পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। যাতে মঞ্জুর অবদান ছিল মাত্র ২ (৭ বলে) রান।

খালি চোখে ওই পার্টনারশিপ আর ব্যাট হাতে মঞ্জুর অবদানকে যতই ছোট মনে হোক না কেন, ওই ম্যাচের বিশেষ করে বাংলাদেশের ইনিংসের আলোকে মহামূল্যবান। কারণ, শেষ উইকেটে ওই ২১টি রানই বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়েছিল ১৮০’র ঘরে (১৮৫’তে)।

বলে রাখা দরকার, ওই ম্যাচে টাইগাররা জিতেছিল ২২ রানে। একবার ভাবুন, শেষ উইকেটের ২১ রান তাহলে কত মূল্যবান! যারা পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করেন, তাদের চোখে পড়বে এই পরিসংখ্যান। স্কটল্যান্ডের সাথে ম্যাচে শেষ উইকেটে নান্নুর সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক প্রতিরোধ এখনো মঞ্জুর মনে দাগ কেটে আছে।

আজও সে দিনের কথা মনে পড়ে। তাই তো তার মুখে এমন কথা, ‘২৬ রানে ৫ উইকেট পতনের পর চরম বিপদ ও গভীর সংকট থেকে উঠে দাঁড়ালেও আমরা তখনও ১৬০ রানের ঘর অতিক্রম করিনি। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু নান্নু ভাই ছিলেন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আমি যোগ দিয়েছিলাম তার সাথে। এখনো পরিষ্কার মনে আছে, আমি যখন ড্রেসিং রুম থেকে উইকেটে যাচ্ছিলাম, তখন দলের রান ৯ উইকেটে মনে হয় ১৬০ কি ১৬২ হবে। প্রবাসী বাঙালি ভাইয়েরা যারা আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন দিতে এসেছিলেন, সেই সমর্থকরা স্কটল্যান্ডের সাথে দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে রীতিমত হতাশ ও ক্ষুব্ধ ছিলেন। আমি ড্রেসিং রুম থেকে বেরিয়ে মাঠে ব্যাট হাতে নেমে ২২ গজের মাঝে যেতে কিছু বিশ্রি কথা বার্তাও শুনলাম। নান্নু ভাই অভয় দিলেন। বললেন, মঞ্জু কোন কিছুতেই কান দিস না। একদম মন দিয়ে ব্যাটিং কর। ভুলে যা তুই বোলার। আপাততঃ তুইও ব্যাটসম্যান। এখন ব্যাটিংয়ের কথা ভাব। দেখি আমরা শেষ উইকেটে আরও কতটা পথ আগাতে পারি। তোর কিছু করার দরকার নেই। আমি আছি ও প্রান্তে, যা যা করার আমিই করছি। তুই শুধু দাঁড়িয়ে থাক। আউট হবি না। একটা মোটামুটি লড়াকু স্কোর আগে গড়ে উঠুক। তারপর বল হাতে যা করার করবি। এখন ব্যাটিংয়ে মনোযোগী থাক। আমি ঠিক তাই করেছিলাম এবং আমরা অপরাজিত থেকেই সাজ ঘরে ফেরত এসেছিলাম এবং এটা না বললেই নয়, আমাদের শেষ উইকেটে জুড়ে দেয়া কুড়ি-বাইশ (২১) রান দলকে লড়াকু পুঁজি গড়তে রেখেছে সহায়ক ভূমিকা।’

এরপর শান্ত আর খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে বুক মিলিয়ে স্কটিশদের সাঁড়াসি আক্রমণে চেপে ধরায় মঞ্জুও ছিলেন অগ্রণী ভূমিকায়।

তবে আরও একটি ঘটনা আছে, যা দৃষ্টির বাইরে; কিন্তু সেটাও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের পেছনে রেখেছে বড় ভূমিকা। তা কথা হয়ত সবাই ভুলে বসে আছেন। কিন্তু সেটাই ঐ ম্যাচের অনেক বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট।’

মঞ্জুর হাত লাগিয়ে দেয়া বলে রান আউট হয়ে গিয়েছিলেন স্কটিশদের হয়ে সর্বাধিক ৬৩ রান (৭১ বলে চার বাউন্ডারি ও এক ছক্কায়) গেভিন হ্যামিল্টন। শেষ পর্যন্ত ২২ রানের জয়ের কারণে হয়তো ওই রান আউটের ঘটনা ঢাকা পড়ে গেছে। অনেকের হয়ত মনেই নেই ম্যাচের চালচিত্র কি ছিল? তবে পরিসংখ্যান দিয়েও সে ঘটনাকে জাগ্রত করা যাবে।

আসুন দেখি কিভাবে হ্যামিল্টনের রান আউটের ঘটনাটি ঘটেছিল। বাংলাদেশের ১৮৫ রানের জবাবে শুরুতে তিন পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত, মঞ্জুরুল ইসলাম আর খালেদ মাহমুদ সুজনের সাঁড়াসি বোলিং আক্রমণের তোড়ে স্কটিশরা শুরুতেই চলে গিয়েছিল ব্যাকফুটে।

দ্রুত গতির বোলার হাসিবুল হোসেন শান্ত প্রথম ওভারে আঘাত হানেন, তার বলে ফিরে যান স্কটিশ ওপেনার ব্রুস প্যাটারসন। শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো স্কটল্যান্ড মাত্র ৪৯ রানে ইনিংসের অর্ধেক খুইয়ে রীতিমত গভীর সংকটে। এরপর ছয় নম্বরে নামা গেভিন হ্যামিল্টন একপ্রান্তে প্রতিরোধের দেয়াল তোলার চেষ্টা করলেও ২৭ নম্বর ওভারে ৮৩ রানে স্বাগতিকদের ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন চলে আসে টাইগারদের হাতের মুঠোয়।

তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ জিততে যাচ্ছে বড় ব্যবধানে। খেলার সেই অবস্থায় চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দেন দুই স্কটিশ গেভিন হ্যামিল্টন আর অ্যালেক ডেভিস।

তারা সপ্তম উইকেটে চাপের মুখেও স্বচ্ছন্দে সাবলীলভাবে খেলে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলে দেন। তাদের পার্টনারশিপ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে; চিন্তা বাড়তে থাকে বাংলাদেশ সাজঘর ও ভক্ত-সমর্থকদের মাঝে। এক সময় চিন্তা জাগে। ঠিক তেমন সময় অ্যালেক ডেভিসের একটি স্ট্রেইট ড্রাইভকে মঞ্জু কৌশলে হাত ছুঁয়ে দেন। বল গিয়ে ননস্ট্রাইক এন্ডের উইকেট ভেঙ্গে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে রান আউটের আবেদন করেন মঞ্জু।

আম্পায়ার শুরুতে সংশয় প্রকাশ করলেও পরে থার্ড আম্পয়ার টিভি রিপ্লে দেখে আউটের সঙ্কেত দেন। আর তাতেই মোটামুটি জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। ২০ বছর পর সে ঘটনা এখনো স্মৃতিতে অটুট আছে মঞ্জুর।

তাইতো মুখে এমন কথা, আমার হাতে লেগে বল যখন বোলিং এন্ডের উইকেটে গিয়ে আঘাত হানলো, তখন আমাদের মনে হচ্ছিল গেভিন হ্যামিল্টন ক্রিজের বাইরে ছিলেন; কিন্তু আম্পায়ার কেন যেন বলছিলেন মে বি নট আউট। মে বি নট...।

Monju1

পরে টিভি রিপ্লেতে গিয়ে দেখা গেল, হ্যাঁ হ্যামিল্টন ক্রিজের বাইরে ছিলেন এবং বল আমার হাতে লেগেই উইকেটে গিয়ে আঘাত হেনেছে। থার্ড আম্পায়ারের সাথে কথা বলে আম্পায়ার যখন বললেন দ্যাটস আউট। তখন আমরা উল্লাসে ফেটে পড়লাম। একটা স্বস্তির পরশ নেমে আসলো সবার মাঝে।

জাগো নিউজের সাথে একান্ত আলাপে সে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মঞ্জু বলেন, ‘ওয়ার্ল্ডকাপের পুরো বিষয়টাই ছিল স্বপ্নীল। একদম সব কিছুই স্বপ্নের মত। প্র্যাকটিস থেকে শুরু করে মূল আসরে মাঠে নামা- সব কিছুর মধ্যেই একটা স্বপ্ন পূরণের আবেগ জড়িত ছিল।

আমরা সবাই মিলে মিশে নিজেদের বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করছিলাম। প্রত্যেকের মাঝেই ছিল একটা অন্যরকম আবেগ। সবাই নিজেকে বিশ্বকাপের মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত করছিলাম। এখনো পরিষ্কার মনে আছে বিকেএসপতে আবাসিক অনুশীলন ক্যাম্পে সে কি চমৎকার পরিবেশ!

বড় ছোট কোন ভেদাভেদ ছিল না। নান্নু ভাই (মিনহাজুল আবেদিন), ফারুক ভাই (ফারুক আহমেদ) , মনি (এনামুলক হক) আকরাম ভাই (আকরাম খান) আর বুলবুল ভাইয়ের সাথে (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা একসঙ্গে এক পরিবারের মত অনুশীলন করতাম। সম্প্রীতি আর সৌহার্দর সর্বোচ্চ পর্যায় ছিল সেখানে।

আমি আর অপি ছিলাম ছোট। আমি সর্বকনিষ্ঠ। তখন আমার বয়স মোটে ১৯। আর নান্নু ভাই, ফারুক ভাই ও মনি ভাইরা মধ্য তিরিশে। বুলবুল ভাই-আকরাম ভাইরাও তিরিশে পা দিয়ে ফেলেছিলেন। সেখানে আমরা কজন একদমই ছোট। বয়সের ফারাক প্রচুর। তারপরও কোন দূরত্ব ছিল না। বড়রা স্নেহ, মায়া মমতায় কাছে টেনে নিতেন। নান্নু ভাই, ফারুক ভাই- মনি ভাইয়ের পর আকরাম ভাই, বুলবুল ভাইদের সাথে সুজন ভাইও তেমন ভালবাসতেন। আমরাও তাদের প্রতি ছিলাম যারপরনাই অনুগত। এখনো মনে আছে ফিটনেস ট্রেনিং ক্যাম্পে নান্নু ভাইরা বয়সের কারণে একটু কষ্ট হলেও প্রানপন চেষ্টা করেছেন ফিটনেস ট্রেনিং করে নিজেদের ফিট আর চাঙ্গা রাখতে। আমরা যারা বয়সে তরুণ, আমাদের সমান্তরালে থাকতে।

আমাদের মাঝে যে কেমন আন্তরিক ভালবাসা আর সম্প্রীতির বন্ধন ছিল , একটি উদাহরন দেই। প্র্যাকটিসে প্রায়ই তান্না ভাই ছোট ছোট পুরষ্কার দিতেন। আমরা সেগুলোও ভাগ করে নিতাম। বিশ্বকাপের আগে সাসেক্সের সাথে প্রস্তুতি ম্যাচ জেতার পর তান্না ভাই ম্যাচ সেরাকে ১০০ পাউন্ড দিয়েছিলেন। আমরা সবাই ৩ পাউন্ড করে তা ভাগ করে নিয়েছি। এক কথায় আমরা একটা পরিবার, আপন ভাই আবার কখনো বয়সের ফারাক মুছে বন্ধুর মত মিশেছি।

এই আন্তরিক ভালবাসা আর প্রীতি ও সংহতি আর ঐক্যর কারনেই আমরা বিশ্বকাপের মাঠে নেমে ভাল করেছিলাম। প্রথমবার খেলতে নেমে সমান শক্তির স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি মহাপরাক্রমশালী পাকিস্তানকেও হারাতে পেরেছিলাম।’

আমি নিজেও মনে হয় প্রত্যেকটা ম্যাচে আমি খুব কনফিডেন্ট ছিলাম। সিনিয়ররা আমাকে খুব উৎসাহ জুগিয়েছেন। আমাকে অনুপ্রানিত করেছেন। তাদের উৎসাহে আমার আস্থা বেড়ে গিয়েছিল অনেক। এখনো মনে হয় আমি প্রায় ম্যাচেই ভাল বল করার পাশাপাশি সমীহও আদায় করে নিয়েছিলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে আমি দারুণ টাইট বোলিং করে ৭ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়েছিলাম। এক পর্যায়ে গ্রেট ব্রায়ান লারাও আমার বলে অস্তত্বিতে ভোগেন। পরপর কয়েকটি বলে পরাস্ত হন। তখন আমাকে ওয়েল বোল্ড বলে প্রশংসিতও করেছিলেন লারা।’

স্কটল্যান্ডের সাথে জয়ে ভূমিকা রাখার সাথে লারা-কার্ল হুপারের মত বিশ্ব সেরা উইলোবাজের গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তেমন সমীহ জাগানো বোলিং করে লারার মুখে বোলিংয়ের প্রশংসা এখনো কানে বাজে।’

এআরবি/আইএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :