সেমিফাইনাল কঠিন, তবে সুযোগ আছে ভালো : রাজ্জাক

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:১৩ এএম, ২৬ জুন ২০১৯

দেখতে দেখতে বিশ্বকাপ চলে এসেছে লিগপর্বের প্রায় শেষদিকে। এরই মধ্যে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। বুধবার সেমির টিকিট পেতে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড।

এছাড়া শেষ চারের আশা বেঁচে রয়েছে বাংলাদেশ দলেরও। ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে টেক্কা দিয়েই সেরা চারের যেতে হবে টাইগারদের। সেজন্য সমীকরণ যাই হোক না কেন, সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাকি থাকা দুই ম্যাচেই জয়।

আর সেটি হলেই প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের বিশ্ব আসরের সেমির টিকিট পাবে বাংলাদেশ। তাই টাইগারদের সেমির স্বপ্নটিকে কঠিন হিসেবে মানলেও, ভালো সুযোগ দেখছেন সাবেক স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক।

যিনি এবার রয়েছে বিশ্বকাপে আইসিসির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে। যেখানে বাংলাদেশের প্রতি ম্যাচের পরেই কলাম লিখেন তিনি। ব্যতিক্রম হয়নি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পরেও।

জাগোনিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সে কলামটিঃ

ব্যাট-বল হাতে সাকিব যা করছে, সত্যিই অসাধারণ। এটা এক কথায় অবিশ্বাস্য ব্যাপার। বিশেষ করে ব্যাটিংটা। আইপিএলে তেমন একটা সুযোগ না পেলেও, সে কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার বিশেষত্ব হলো, যে জিনিসটা প্রয়োজন, সে জিনিসটা ধরতে পারে এবং তথানুযায়ী কাজ করে।

সারা বিশ্বে একজন দুর্দান্ত অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও, এবারের বিশ্বকাপে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণও দিচ্ছে সাকিব। ক্যারিয়ারের শুরুতে সাকিব ছিলো একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার। তবে পরে ধীরে ধীরে নিজের বোলিংটাও আরও উন্নত করেছে সে।

মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে সাকিবের জুটিটা এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে গেছে বলা চলে। জুটি গড়ার সময় দুজনের মধ্যকার বোঝাপড়া সত্যিই অসাধারণ। লম্বা সময় ধরে একসঙ্গে খেলায়, নিজেদের খেলাটা বুঝে দুজন। এরা দুজনই সত্যিকারের যোদ্ধা। তারা মানসিকভাবে শক্ত এবং ক্রিকেটার হিসেবেও চৌকষ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়টা অবশ্যই টিম পারফরম্যান্স। তবু এখানেও সাকিব নিজেকে আলাদা করে তুলেছে ব্যাটিং-বোলিং দিয়ে। ছেলেরা সেমিফাইনালে খেলতে চায়। সে লক্ষ্যপূরণে এমন জয় ছাড়া আর কোনো পথও খোলা নেই।

এ ম্যাচের শুরুতেই একটা জিনিস বোঝা গিয়েছিল যে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যে মিল রয়েছে বেশ কিছু। যেমন দুই দেরই শক্তির জায়গা স্পিন। যদিও সবাই ম্যাচের আগে বলছিল বাংলাদেশের চেয়ে আফগানিস্তানের বোলিং শক্তিশালী, আমি এটা সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলাম।

সত্যি করে বললে বাংলাদেশের স্পিনারদের কাছ থেকে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই আশা করছিলাম। আমরা সবাই জানি টার্নিং উইকেট পেলে সাকিব কিংবা মেহেদী মিরাজ কতোটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। ঠিক সেটাই হয়েছে ম্যাচে।

বাংলাদেশের পরবর্তী দুই ম্যাচ এশিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। তবে আমার বলতেই হচ্ছে যে দলের কোনো খেলোয়াড়ই প্রতিবেশি দেশ বলে ম্যাচ দুইটিকে অন্য কোনো দৃষ্টিতে দেখবে। তারা শুধুই এখন প্রতিপক্ষ।

বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলছে ভারত। তাদের নামের পাশে ফেবারিটের তকমাও দেয়া আছে। সবাই এ দলের ব্যাপারে কথা বলছে। যেটি আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ হিসেবেই দেখছি আমি। আশা করছি এ চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত থাকবে বাংলাদেশ।

ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স দেখে বাংলাদেশ কিছু শিক্ষা নিতে পারে। আফগানরা জিততে না পারলেও, ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিল। তবে সব দলেরই খেলার ধরন ভিন্ন। সে ম্যাচে আফগানিস্তানের বোলিন-ফিল্ডিং দারুণ ছিল। আমাদের ব্যাটিংটাও ভালো করতে হবে।

নিজেদের শক্তি বুঝে খেলতে পারলে ভালো ফল আসবে। বাংলাদেশের বোলারদের গুরুদায়িত্ব নিতে হবে। কারণ ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী। আমি বিশ্বাস করি বোলাররা পারবে চ্যালেঞ্জ নিতে।

বাংলাদেশ দল এখন সত্যিই দারুণ খেলছে। আমি এখনও মনে করি সেমিফাইনালে যেতে চাইলে সে পথ একদমই সহজ নয়। তবে নিজেদের সামনে বেশ ভালো সুযোগ তৈরি করে রেখেছে বাংলাদেশ।

এসএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :