ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে কাঁপছে ক্রীড়াঙ্গন, অনিশ্চিত মেসি-রোনালদোদের সূচি

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে লুইস হ্যামিল্টনের মতো তারকাদের সূচিও এখন প্রশ্নের মুখে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার পর থেকেই একের পর এক ক্রীড়া ইভেন্ট স্থগিত বা বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন- নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা চালানো যাবে কি না।

আগামী ২৭ মার্চ কাতারে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ‘ফাইনালিসিমা’- ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার লড়াই। ম্যাচটি হলে মেসির সামনে আরেকটি শিরোপা জয়ের সুযোগ থাকত।

তবে কাতার ইতোমধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করেছে। ৩১ মার্চ কাতারের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একটি প্রীতি ম্যাচও ছিল সূচিতে, সেটিও এখন অনিশ্চিত। উয়েফা জানিয়েছে, তারা কনমেবল ও স্থানীয় আয়োজকদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

রোনালদোর ক্লাব আল-নাসরও প্রভাবিত হয়েছে। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কয়েকটি ম্যাচ বাতিল হওয়ায় দলটির সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। দুবাইয়ে তাদের নির্ধারিত ম্যাচও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ফর্মুলা ওয়ানের ক্ষেত্রেও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী মাসে বাহরাইন ও সৌদি আরবে রেস হওয়ার কথা। সাধারণত এফ-ওয়ান দলগুলো প্রতিযোগিতার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই যন্ত্রপাতি ও কর্মীদের পাঠানো শুরু করে। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় খুব সীমিত।

আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টস সংস্থা এফআইএ জানিয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার ‘নিরাপত্তা ও সবার কল্যাণ’। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ান গ্রাঁ প্রি উপলক্ষে মেলবোর্নে যাওয়ার পথে কিছু এফ-ওয়ান কর্মী বিকল্প রুট খুঁজছেন, যাতে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল এড়িয়ে যাওয়া যায়।

টেনিস ও গলফের মধ্যপ্রাচ্য পর্ব সদ্য শেষ হয়েছে। তবে দুবাইয়ে টুর্নামেন্ট শেষে কয়েকজন টেনিস খেলোয়াড় এখনো দেশে ফিরতে পারেননি। সাবেক ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন দানিল মেদভেদেভও তাদের মধ্যে আছেন। তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না পারলে ইন্ডিয়ান ওয়েলসে শুরু হতে যাওয়া বিএনপি পারিবাস ওপেনে অংশগ্রহণ জটিল হয়ে পড়বে। এদিকে এলপিজিএ ট্যুর বর্তমানে চীনে খেলছে, এরপর বেশিরভাগ খেলোয়াড় উত্তর আমেরিকায় ফিরবেন- তাদের ভ্রমণ আপাতত প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইরানের পুরুষ ফুটবল দল তিন মাসের কিছু বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার কথা। ১৬ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলউডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ। তবে ইরান আদৌ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেছেন, ‘আমরা আশা নিয়ে বিশ্বকাপের দিকে তাকাতে পারছি না।’ যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, বিশ্বকাপ ও ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের মতো ইভেন্টে অংশ নিতে আসা খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া হবে।

শুধু ফুটবল বা মোটরস্পোর্টস নয়, শীতকালীন প্যারালিম্পিক, ক্রিকেট ও বাস্কেটবলও এই সংকটে প্রভাবিত। ইতালিতে শুরু হতে যাওয়া উইন্টার প্যারালিম্পিকে অংশ নিতে কিছু দলের ভ্রমণ জটিলতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক প্যারালিম্পিক কমিটি জানিয়েছে, বেশিরভাগ দল ইতোমধ্যে ইউরোপে অনুশীলনে রয়েছে, বাকিদের সহায়তা করা হচ্ছে। ইরানের একজন স্কিয়ার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল ভারতে আটকে আছে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে ফেরার অনুমতির অপেক্ষায়। এছাড়া বহু বিদেশি পর্যটকও ভ্রমণ জটিলতায় পড়েছেন।

গত এক দশকে সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে- আয়োজক, বিনিয়োগকারী ও স্পনসর হিসেবে। কাতারে এই মাসে ওয়ার্ল্ড এন্ড্যুরেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ, মোটোজিপি, আগামী মাসে জিমন্যাস্টিকস বিশ্বকাপ এবং মে মাসে ডায়মন্ড লিগ আয়োজনের কথা। কাতার মালিকানাধীন ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইও (পিএসজি) ইউরোপীয় ফুটবলে বড় শক্তি। অন্যদিকে সৌদি আরব ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করবে এবং এলআইভি গলফ ও বিশ্ব বক্সিংয়েও বড় বিনিয়োগ করেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই বাড়াচ্ছে না, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের ভবিষ্যৎ সূচি, ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিয়েও বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে মেসি-রোনালদো-হ্যামিল্টনদের মতো তারকাদের আসন্ন দিনগুলোর পরিকল্পনা।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।