শৈশবের শহরকে হালান্ডের দুষ্প্রাপ্য বই উপহার
কেবল ফুটবল দিয়েই নয়, নরওয়ের মানুষকে ইতিহাসের মাধ্যমেও অনুপ্রাণিত করতে চান আর্লিং হালান্ড। এবার তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন ভাইকিংয়ের ইতিহাস তুলে ধরার।
ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার হালান্ড দেশের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ৫৫ গোল করে ইতোমধ্যেই হয়ে গেছেন সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এবার নিয়েছেন ভিন্নধর্মী উদ্যোগ। ইতিহাস সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে নিজের শৈশবের শহর নরওয়ের ব্রাইন শহরের একটি গ্রন্থাগারে ১৫৯৪ সালের একটি বিরল ভাইকিং কাহিনির বই দান করেছেন।
২৫ বছর বয়সী হালান্ড ও তার বাবা গত ডিসেম্বরে বইটি ১৩ লাখ নরওয়েজিয়ান ক্রোনারে (প্রায় ১ লাখ পাউন্ড) কিনেছিলেন, যা নরওয়েতে বই বিক্রির ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা কিনা এক কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা। জন্ম ইংল্যান্ডের লিডসে হলেও যখন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড লিডস ইউনাইটেডে খেলেছিলেন তখন আর্লিং হালান্ড বড় হন ব্রাইন শহরেই।
১৫৯৪ সালে মুদ্রিত বইটি ১৩শ শতকের ইতিহাসবিদ স্নোরি স্টারলুসনের রচনা, যেখানে ভাইকিং রাজা-রানী, কৃষক ও যোদ্ধাদের মধ্যযুগীয় কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। এই বইটির একমাত্র অবশিষ্ট কপিটি হালান্ড ব্রাইনের গ্রন্থাগারে দিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ এটি দেখতে ও পড়তে পারে।
ব্রাইন শহরটি নরওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে, স্টাভেঙ্গার শহরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। হালান্ড নরওয়েজিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি চাই বইটি সবসময় খোলা থাকুক, যাতে মানুষ জানতে পারে ব্রাইন ও জেরেন অঞ্চল থেকে উঠে আসা মানুষদের ইতিহাস।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ফুটবলের মাধ্যমে নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু সবার সেই সুযোগ হয় না। বই মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে, নতুন সম্ভাবনা খুঁজে পেতে এবং নিজের পথ তৈরি করতে সাহায্য করে।’
বর্তমান মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ২৯ ম্যাচে ২২ গোল করে শীর্ষ গোলদাতা হালান্ড। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১৬ গোল করে গত বছরও সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
আইএন