বিশ্বকাপে বিস্ময়কর গোল

জোড়া গোলে ইতিহাস, মুলারকে ছুঁলেন ‘ফেনোমেনন’ রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ধরা হচ্ছিল সবচেয়ে ফেভারিট। রোনালদো, রিভালদো, কাফু, কার্লোস, রোনালদিনহো, কাকাদের সমন্বয়ে দুর্দান্ত একটি দল ছিল তখন। বিশেষ করে রোনালদো ও রোনালদিনহোর পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে আরও একটি বিশ্বকাপ উপহার দেবে, এমনটা ভেবেছিল সবাই।

যদিও কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর মুটিয়ে যাওয়া, বয়সের ভারে ওজন বেড়ে গিয়ে গতি স্লো হয়ে যাওয়াসহ নানা অভিযোগ ছিল তখন সমালোচকদের পক্ষ থেকে। সে সঙ্গে তার সামনে ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চদাতা হওয়ার বিরল সম্মান লাভের সুযোগ।

২০০২ বিশ্বকাপে রোনালদো তার অদ্ভুত চুলের স্টাইলের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ ফুটবল থেকে সরিয়ে নিতে পেরেছিলেন; কিন্তু ২০০৬ সালে তিনি বিশ্বজুড়ে মায়েদের কাছে সেই ‘ভয়ঙ্কর’ হেয়ারকাটের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন এবং জানতেন এবার ভিন্ন কিছু করতে হবে।

২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে রোনালদো নিজের সমালোচকদের দারুণ জবাব দিয়েছিলেন এক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে, আর সেই সঙ্গে স্পর্শ করেছিলেন ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক।

টুর্নামেন্টের শুরুতে ব্রাজিল জিতলেও রোনালদোর গোল খরা চলছিল- প্রথম দুই ম্যাচে ব্রাজিল জয় পেলেও রোনালদো কোনো গোল করতে পারেননি, যা তার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, আগের মতো ধার কি আর আছে তার মধ্যে?

brazil

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে কোচ কার্লোস আলবার্তো প্যারেইরা রোনালদোকে বিশ্রাম দিতে পারতেন, কারণ দল ইতোমধ্যেই নকআউট নিশ্চিত করে ফেলেছিল; কিন্তু তিনি জানতেন, দলের নাম্বার ৯-এর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে একটি গোল কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই একাদশেই রাখেন তাকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষদিকে এসে অবশেষে জালে বল জড়ান রোনালদো। হেড থেকে করা সেই গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায় এবং বিরতিতে দলকে স্বস্তি এনে দেয়। তবে আসল মুহূর্তটি আসে ম্যাচের শেষ দিকে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল যখন এগিয়ে, তখন ডিফেন্ডার হুয়ান সামনে উঠে এসে রোনালদোর সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে আক্রমণ গড়েন। কয়েকটি দ্রুত পাস আদান-প্রদানের পর বক্সের বাইরে থেকে রোনালদোর ঘুরে দাঁড়িয়ে নেওয়া শট জাপানের গোলরক্ষক ইয়োসিকাতসু কাওয়াগুচিকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। নিখুঁত সেই ফিনিশে ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে।

এই গোলটি শুধু ম্যাচের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়। এটি ছিল বিশ্বকাপে রোনালদোর ১৪তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি জার্ড মুলারের রেকর্ড স্পর্শ করেন। দীর্ঘদিন ধরে মুলারই ছিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। রোনালদো গোল করে রেকর্ডে বাগ বসান।

সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে গোলই যে সবচেয়ে বড় জবাব- সেই সত্যটাই আবার প্রমাণ করেছিলেন ‘ফেনোমেনো’ খ্যাত রোনালদো। তার এই পারফরম্যান্স শুধু ব্রাজিলের জয়ই নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে তাকে অমর করে রেখেছে।

রোনালদোর সেই গোল দেখুন এই লিংকে...

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।