বিশ্বকাপ টিকিটের দামের পক্ষে সাফাই গাইলেন ফিফা সভাপতি
দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে ইরানের অংশগ্রহণ ও টিকিটের দাম নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা যেন কাটছেই না। তবে টিকিটের এই দাম নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে টিকিট মূল দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে পুনর্বিক্রির সুযোগ থাকায় সেই বাস্তবতাকেই কাজে লাগাতে হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে ইতোমধ্যেই সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা মূল্য কাঠামোকে ‘অত্যধিক’
ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইউরোপীয় কমিশনে মামলাও করেছে।
গত সপ্তাহে ফিফার নিজস্ব পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালের চারটি টিকিটের মূল্য দুই মিলিয়ন ডলারেরও বেশি করে নির্ধারণ করা হয়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মিলকেন ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক সম্মেলনে ইনফান্তিনো বলেন, ‘কেউ যদি দুই মিলিয়ন ডলারে টিকিট বিক্রির জন্য রাখে, তার মানে এই নয় যে টিকিটের প্রকৃত দাম এত।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি কেউ যদি এত দামে টিকিট কেনেও, আমি নিজে গিয়ে তাকে খাবার ও পানীয় দিয়ে আসব, যেন সে ভালো অভিজ্ঞতা পায়।’
সমর্থক গোষ্ঠীগুলো সবশেষ কাতার অনুষ্ঠিত ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের টিকিটমূল্যের তুলনা করছে। সেই আসরে ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিট ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার, যেখানে ২০২৬ সালে একই টিকিটের মূল মূল্য প্রায় ১১,০০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইনফান্তিনো মনে করেন, এই মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক। তার মতে, ‘আমাদের বাজার অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে কম দামে টিকিট বিক্রি করলে তা পরে অনেক বেশি দামে পুনর্বিক্রি হবে।’
তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ৫০ কোটিরও বেশি টিকিটের আবেদন এসেছে, যেখানে ২০১৮ ও ২০২২ মিলিয়ে আবেদন ছিল ৫ কোটিরও কম।
এছাড়া গ্রুপপর্বের প্রায় ২৫ শতাংশ টিকিট ৩০০ ডলারের নিচে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ খেলাও ৩০০ ডলারের কমে দেখা কঠিন, সেখানে বিশ্বকাপের জন্য এই মূল্য অস্বাভাবিক নয়।
আইএন