ব্রুনো ফার্নান্দেজের রেকর্ড, তৃতীয় স্থান নিশ্চিত ম্যানইউর
ব্রুনো ফার্নান্দেজের রেকর্ড ছোঁয়া অ্যাসিস্ট আর রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে নটিংহ্যাম ফরেস্টকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত জমজমাট ম্যাচটিতে ব্রুনো ফার্নান্দেজ একটি অ্যাসিস্ট করে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। এর আগে কেভিন ডি ব্রুইনা ও থিয়েরি অঁরি এই কীর্তি গড়েছিলেন।
সৌদি আরবের ক্লাবগুলোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ইউনাইটেডে থেকে যাওয়া ব্রুনো এ মৌসুমে দুর্দান্ত খেলছেন। দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তুলতে বড় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জিতেছেন ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও।
রোববারের ম্যাচে ইউনাইটেড শুরুতেই এগিয়ে যায়। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে লুক শ’ গোল করে দলকে লিড এনে দেন। জানুয়ারি ২০২৩ সালের পর এটিই ছিল ইংলিশ এই ডিফেন্ডারের প্রথম গোল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতায় ফেরে নটিংহ্যাম ফরেস্ট। সামার টার্গেট এলিয়ট অ্যান্ডারসনের দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করেন মোরাতো।
গোল হজমের মাত্র দুই মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। ব্রায়ান এমবেউমোর হাত লেগে বল নিয়ন্ত্রণে আসার পর ম্যাথেউস কুনহা গোল করেন। ফরেস্ট খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের অভিযোগ তুললেও ভিএআর রিভিউ শেষে রেফারি গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ফরেস্ট শিবির। এরই মধ্যে আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে দুই দলই। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের দারুণ ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন এমবেউমো। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান ব্রুনো।
তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের আরেকটি ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশে ব্যবধান কমান মরগ্যান গিবস-হোয়াইট। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালালেও সমতায় ফিরতে পারেনি ফরেস্ট।
ম্যাচটিতে আরেকটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল ক্যাসেমিরোর বিদায়। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এটিই ছিল ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের শেষ ম্যাচ। মাঠ ছাড়ার সময় দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান তিনি।
শেষ দিকে ইউনাইটেড আরও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। দিয়োগো দায়ত পোস্টে বল মারেন, আর যোগ করা সময়ে জশুয়া জিরকজি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন।
তবুও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। একই সঙ্গে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে মৌসুম শেষের আগেই বড় স্বস্তি পেল রেড ডেভিলরা।
আইএইচএস/