ভারতকে দুইবারই হারাতে চায় বাংলাদেশের মেয়েরা

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:০৬ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৭
ভারতকে দুইবারই হারাতে চায় বাংলাদেশের মেয়েরা

টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ধরে নেয়া হয়েছিল কোনো অঘটন না ঘটলে ফাইনাল লড়াইটা হবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেই। দক্ষিণ এশিয়ার অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরে এ অঞ্চলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বি দেশের দুই বার মুখোমুখি হওয়াটাই নিশ্চিত ছিল অনেকটা।

সব ঠিকঠাক মতোই হয়েছে। সাফ বালিকা চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলছে বাংলাদেশ ও ভারত। তার আগে দুই দেশ বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হচ্ছে লিগ লড়াইয়ে।

এক বছর আগে তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ নারী আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশ ও ভারত দুইবার মুখোমুখি হয়েছি। দুইবারই বাংলাদেশের কাছে হেরে মাথা নত করে মাঠ ছেড়েছিল ভারতীয় মেয়েরা। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান ছিল ৩-১ এবং ফাইনালে ৪-০।

এবার ঘরে মাঠে খেলা। আগের মতো দুইবারই ভারতকে হারাতে চায় লাল-সবুজ জার্সিধারী কিশোরীরা। বুধবার অনুশীলন শেষে দলের কোচ-খেলোয়াড় সবাই সেই আশার কথা শুনিয়েছেন, ‘আমরা দুই ম্যাচেই ভারতকে হারাতে চাই। হারাতে পারবো ইনশাল্লাহ।’

ফাইনালের আগে আরেকবার দেখা। আক্ষরিত অর্থে এটা আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচ। অনেকটা গুরুত্বহীনও। তাই বলে কী বাংলাদেশ এ ম্যাচটাকে হালকা করে দেখবে? সে সম্ভাবনা ফাইনালে পা দিয়েই নাকচ করেছেন কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন।

মেয়েদের কোচ বলেন, ‘ম্যাচটা নিয়ম রক্ষার হলেও প্রতিপক্ষ ভারত বলেই বাংলাদেশের কাছে অনেক মর্যাদার। তাই কোনো ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ফাইনালের আগে ভারতকে হারালে মেয়েরা মানসিকভাবেও অনেক এগিয়ে থাকবে। আমরা দুই ম্যাচই জিততে চাই।’

প্রথম ম্যাচে নেপালকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয়া ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন তহুরা খাতুন। পরের ম্যাচে ভুটানকে ৩-০ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন আঁখি খাতুন। তবে ভারতের বিরুদ্ধে এ ম্যাচে খেলতে পারবেন না তহুরা খাতুন। ভুটানের বিরুদ্ধে ম্যাচে চোট পেয়েছেন মনসিংহের কলসিন্দুরের এ কিশোরী।

বাংলাদেশের এ দলটির অনেক খেলোয়াড়ই অভিজ্ঞ। তাই নতুন আগের দুই ম্যাচে যাদের খেলানোর সুযোগ হয়নি তাদের কাউকে কাউকে বৃহস্পতিার ঝালিয়ে নেবেন কোচ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু এ ম্যাচটা ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেল, তাই দলে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। তহুরা ইনজুরিতে আছে। কিছু খেলোয়াড় পরিশ্রান্ত। আমাদের মূল লক্ষ্য। তাই তহুরা সহ কয়েকজনকে বিশ্রাম দেবো।’

নেপালকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে বাংলার মেয়েরা। ভারত ১০ গোল দিয়েছে হিমালয়ের দেশটিকে। তাহলে কী ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ একটু পিছিয়ে?

‘আমি ভুটান এবং নেপালের বিপক্ষে ভারতের খেলা দেখছি। ভারত যে গোলগুলো করেছে তা হয়েছে গোলরক্ষকের ইনজুরির কারণে। নেপাল আমাদের বিপক্ষে সর্বশক্তি দিয়ে খেলেছে। অথচ ভারতের বিপক্ষে বিরতির পর নেপাল যেন খেলাই ছেড়ে দিয়েছিল। তবে ভারত কোন দলকে কত গোল দিয়েছে, আমরা কয় গোল দিয়েছি তা নিয়ে এখন আর ভাবছি না। নিজেদের খেলাটাই আমরা খেলতে চাই’-বলেছেন আঁখিদের কোচ।

তাজিকিস্তানে বাংলাদেশ যে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ জিতেছিল তাও মাথায় রাখতে চান না গোলাম রব্বানী ছোটন, ‘আমরা বর্তমান নিয়েই ভাবছি। আগের দুটি ম্যাচেই মেয়েরা তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে খেলার চেষ্টা করেছে। সে খেলাটা ধরে রাখতে হবে এবং এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দর্শকদের ভাল খেলা উপহার দেয়ার সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য হলো জয়।’

আরআই/এমএমআর/এমএস