মান বাড়ছে না দাম বাড়ছে ফুটবলারদের

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

তাদের খেলা কেউ দেখেন না। দেখার মতো কারুকাজও নেই তাদের পায়ে। দর্শক টানার মতো দেশীয় ফুটবলার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বছরজুড়ে চোখে পীড়া দেয়া ফুটবল খেলুড়েদেরই দলবদলের সময়ে পোয়াবারো। এ বছর ১০ লাখ টাকায় খেলেন তো পরের মৌসুমে চেয়ে বসেন তার তিন/চারগুণ পারিশ্রমিক। খেলোয়াড় সংকট থাকার সুযোগটাও নেন একটু ভালো পরফরম্যান্স করা ফুটবলাররা। ক্লাব কর্মকর্তারা তাদের মাথায়-পিঠে হাত বুলিয়ে কিছু কমে রাজী করান।

স্বাধীনতা কাপ দিয়ে শেষ হয়েছে ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম; কিন্তু কিছু ফুটবলার নতুন ক্লাব ঠিক করেছেন প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বের মাঝমাঝি সময়েই। যদিও এটা নতুন নয়। ফুটবলাররা কোনো ক্লাবে নাম লেখানোর কিছুদিন পর থেকেই নাকি পরের মৌসুমের কথা ভাবা শুরু করেন। তাই লাখ লাখ টাকা দেয়া ফুটবলারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সার্ভিস পায় না ক্লাবগুলো। মৌসুম শেষে শোনা যায় নানা অভিযোগ- নতুন ক্লাবের সঙ্গে কথা বলে নাকি পা বাঁচিয়ে খেলেন ফুটবলাররা।

পুরো মৌসুমে কোনো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ফুটবল অঙ্গনে আলোচিত না হলেও তারা আলোচনায় চলে আসেন দল বদলের সময়ে। এই যেমন এবার প্রিমিয়ার লিগে খেলা সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া। গত লিগে ১৫ লাখ টাকায় খেলা এই মতিন নাকি এবার তার ক্লাবের কাছে ৫০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেছিলেন। সাইফ তার এ দাবিকে অগ্রহণযোগ্য মনে করে বলে দিয়েছেন-‘অন্যত্র যেতে পারো।’

প্রিমিয়ার লিগের নবাগত ক্লাব বসুন্ধরা কিংস মতিনকে নেয়া নিশ্চিত করেছে। পারিশ্রমিক ৪০ লাখ টাকার মতো। নতুন এ ক্লাবটির সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া স্থানীয় খেলোয়াড় হতে পারেন মতিন।

এবার দলবদলের বাজারে আগুন জ্বালিয়েছে এ নতুন ক্লাবটিই। গতবার যেমন ছিল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথমবার প্রিমিয়ারে উঠেই শিরোপায় চোখ রেখেছে বসুন্ধরা কিংস। দল গঠনের দায়িত্বে থাকাদের প্রতি ক্লাব কর্তপক্ষের নির্দেশনা- ভালো খেলোয়াড় নাও। টাকা কোনো সমস্যা নয়।

বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। এবার তাদের নিজেদের দল বসুন্ধরা কিংস। শেখ রাসেলের কোচ সফিকুল ইসলাম মানিকই আছেন মূলতঃ বসুন্ধরা কিংসের দল গঠনের নেপথ্যে। তাকে আগামী মৌসুমে নতুন ক্লাবটির ডাগআউটেও দেখা যেতে পারে।

মতিন মিয়া ছাড়াও বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিতে পারেন এমন তালিকায় আছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা, মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া জনি ও স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজ। শেখ জামালের গোলরক্ষক মিতুল ও আবাহনীর গোলরক্ষক সোহেলের দিকেও নাকি নজর আছে নতুন ক্লাবটির। আরামবাগের সুফিলও যোগ দিচ্ছেন বসুন্ধরা কিংসে।

দুই মৌসুম বিগ বাজেটের দল গড়েও চট্টগ্রাম আবাহনীর সাফল্য মাত্র স্বাধীনতা কাপের একটি ট্রফি। এবার চট্টলার দলটি ভেঙ্গে গেছে। দুই সিনিয়র মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হোসেনসহ তরুণ জাফর ইকবাল ও আবদুল্লাহরা খুজছে নতুন দল। মামুন, জাহিদদের দেখা যেতে পারে মোহামেডানে। জাফর ইকবাল নাকি পড়বেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের জার্সি আর আব্দুল্লাগ শেখ রাসেলের।

জাফর ইকবালের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে পারে সাইফ। ৩ মৌসুমে ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হচ্ছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ও জাফর ইকবালের মধ্যে- ফুটবল অঙ্গনে এমন কথাও উড়ছে। তবে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব থেকে বলা হচ্ছে-এটা শুধুই গুঞ্জন।

গত মৌসুমে স্থানীয় ফুটবলারদের পেছনেই ৩ কোটি টাকা গুনেছিল নতুন ক্লাব সাইফ স্পোর্টিং। এবার তারকার পেছনে সেভাবে ছুটতে চাচ্ছে না তারা। আবাহনীর সঙ্গে ‘যুদ্ধ’ করে আনা ৫ ফুটবলারের দুইজন তপু বর্মন ও জুয়েল এবার ছাড়ছেন সাইফ। তাদের ঠিকানা হবে পুরোনো ক্লাব আবাহনী।

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনজুর কাদের খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন খেলোয়াড় স্বপ্লতাকেই, ‘ফুটবলার তৈরি হচ্ছে না। দামতো বাড়বেই। আমাদের দেশে যে ফুটবলার আছে তাদের দিয়েতো ২ টা দলই হয় না। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেতে হলে তাদেরই নিতে হয়। ফুটবলারদের মান বাড়ছে না, কিন্তু দাম বাড়ছে।’

আরআই/আইএইচএস/আইআই