খাদ্য তালিকায় ‘একটি পানীয়কে’ নিষিদ্ধ করে চল্লিশেও এতটা ফিট রোনালদো!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:২০ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বয়স এখন ৪১; কিন্তু ফিটনেস, শারীরিক গঠন আর মাঠের পারফরম্যান্স দেখে তা বোঝার উপায় নেই। দেখে মনে হয় এখনও ২৫-২৬ বছরের টগবগে তরুণ। এখনও তরুণ ফুটবলারদের মতোই নিজের শরীরকে ধরে রেখেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা।

কিভাবে সম্ভব? কিভাবে তিনি নিজেকে এতটা ফিট রাখেন? এ বিষয়ে এবার তার সাবেক ব্যক্তিগত শেফ জর্জিও বারোনে প্রকাশ করলেন রোনালদোর খাদ্যাভ্যাসের কিছু গোপন রহস্য, যেখানে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে একটি ‘অস্বাভাবিক’ পানীয় নিষিদ্ধ করার বিষয়টি।

সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রোনালদো লিখেছিলেন, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ার আর উচ্চমানের পারফরম্যান্স কখনোই কাকতালীয় নয়। প্রতিদিনের বাস্তবভিত্তিক রিকভারি ও রুটিনের মাধ্যমেই এটি গড়ে ওঠে। এখানে কোনো গোপন রহস্য নেই, আছে শুধু নিয়মিত অভ্যাস।’

রোনালদোর সাবেক ব্যক্তিগত শেফ জর্জিও বারোনে ‘কভারস ডট কম’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, রোনালদোর খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে দুধ। তার মতে, এটিই পর্তুগিজ তারকার সুস্থ ও ফিট থাকার অন্যতম বড় রহস্য।

বারোনে বলেন, ‘দুধ একেবারেই না। মানুষই একমাত্র প্রাণী, যারা অন্য প্রাণীর দুধ পান করে। অন্য কোনো প্রাণী তিন মাসের বেশি দুধ পান করে না। বাছুরও তিন মাস পর দুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। প্রাণীরা অন্য প্রাণীর দুধ পান করে না।’

শুধু দুধই নয়, রোনালদোর খাদ্যতালিকায় নেই চিনি এবং সফট ড্রিংকসও। বরং তিনি বেশি গুরুত্ব দেন প্রোটিনসমৃদ্ধ ও কম চর্বিযুক্ত খাবারে। বিশেষ করে চিকেন, তাজা মাছ, সালাদ, কুইনোয়া এবং ফলমূল তার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অংশ।

বারোনে জানিয়েছেন, রোনালদোর সবচেয়ে পছন্দের খাবার গ্রিলড কড ফিশ। দিনের শুরুতে তিনি খান অ্যাভোকাডো, কফি, ডিম- তবে কোনো ধরনের চিনি ছাড়া।

রোনালদোর সাবেক শেফ বলেন, ‘সকালের নাশতায় সে অ্যাভোকাডো, কফি, ডিম খায়; কিন্তু কোনো চিনি নয়। দুপুরে সাধারণত চিকেন, মাছ আর সবজি থাকে। কার্বোহাইড্রেটের প্রয়োজন হলে সে সবজি থেকেই নেয়। তাই ময়দাজাত খাবারের প্রয়োজন পড়ে না। পাস্তা, রুটি বা এ ধরনের খাবার সে এড়িয়ে চলে। রাতে খুব হালকা খাবার খায়- সাধারণত মাছ অথবা মাংসের ফিলে, সঙ্গে সবজি।’

এদিকে ইংল্যান্ডের তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ডের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও কথা বলেছেন বারোনে। তিনি জানিয়েছেন, হালান্ডের অর্গান মিট বা কলিজা, হার্ট ও মগজ খাওয়ার অভ্যাসকে তিনি সমর্থন করেন।

তার ভাষায়, ‘আমি হালান্ডের ডায়েটের সঙ্গে একমত। কলিজা, হার্ট, মগজ- এসব খুবই স্বাস্থ্যকর খাবার। এগুলো সুপারফুড। ক্রিস্টিয়ানোও কলিজা পছন্দ করত। আমিও এটা পছন্দ করি। এতে প্রচুর আয়রন থাকে এবং খাদ্যতালিকায় এটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই অর্গান মিট আমি সমর্থন করি, কিন্তু দুধ নয়।’

রোনালদোর ফিটনেসের আরেকটি বড় প্রমাণ তার শরীরের ফ্যাট শতাংশ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার শরীরে ফ্যাটের পরিমাণ মাত্র ৭ শতাংশ। যেখানে সাধারণত প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এই হার থাকে ৮ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে।

সব মিলিয়ে কঠোর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত রিকভারি এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনই ৪১ বছর বয়সেও রোনালদোকে বিশ্বের অন্যতম ফিট অ্যাথলেট হিসেবে ধরে রেখেছে।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।