ষড়যন্ত্র এড়াতে চাই একটি জয়
আর একটি জয় পেলেই ভেঙে যাবে আড়ালে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেট শত্রুদের নীল-নকশা। হ্যাঁ, একটি মাত্র জয় পেলে সেপ্টেম্বরের আগে পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের উপরে থেকেই শেষ করবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার ডেডলাইন। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ জয়ে নিশ্চিত হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার স্বপ্ন।
কিন্তু ক্রিকেট বিশ্ব মেতেছে বাংলাদেশকে কীভাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে ফেলা যায়। সে পরিকল্পনা থেকেই হচ্ছে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন।
এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে একটি জয়ই যথেষ্ট টাইগারদের জন্য। জুলাইয়ে বাংলাদেশ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ আর পাকিস্তান খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ।
এফটিপি অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে হোয়াইটওয়াশ হলেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলা নিয়ে ভাবনা ছিল না। কিন্তু যদি জিম্বাবুয়ে-পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ত্রিদেশীয় সিরিজ হয় তবে ভাবতেই হবে বাংলাদেশকে।
বর্তমানে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৯৩, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮৮ এবং পাকিস্তানের ৮৭। বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোয়াইটওয়াশ হলে হবে ৮৯.৮ রেটিং পয়েন্ট।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে লঙ্কানদের ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ হারাতে পারলে পাকিস্তানের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৪। যদি ৪-১ ব্যবধানে জয়ী হয় তাহলে হবে ৯১.৭। ৩-২ ব্যবধানে জিততে পারলে হবে ৮৯.৮। যদি সিরিজ হেরে যায় তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নিচে নেমে যাবে তারা।
তবে সিরিজ জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হয়তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে চাইবে তখন পাকিস্তান নাও চাইতে পারে। আবার পাকিস্তান সিরিজ হারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নাও খেলতে চাইতে পারে।
আলোচিত ত্রিদেশীয় সিরিজটা যদি সত্যিই হয় তবে প্রত্যেক দল প্রত্যেকের সঙ্গে দুটি করে চারটি ম্যাচ খেলবে এবং ফাইনাল খেলতে পারলে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। প্রথম পর্বে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ একে অপরের সঙ্গে একটি করে জিতলে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে জিতলে দুই দলই বাংলাদেশের আগে চলে যাবে। তবে সেটা তখনই সম্ভব হবে, যদি বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে।
তাই এসব সমীকরণকে পিছে ফেলতে টাইগারদের দরকার মাত্র একটি জয়। বিশ্বকাপ থেকে ছন্দে থাকা বাংলাদেশের পক্ষে এটা অসম্ভব কিছুই না। যদিও টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি ভারতের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানছেন। তারপরও স্পিনে দুর্বল আফ্রিকার কাছে নূন্যতম একটি জয় প্রত্যাশা থাকবে বাংলাদেশের সমর্থকদের। তাহলেই সব ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটবে।
আরটি/বিএ/পিআর