তামিমের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে মোহামেডানের প্রতিনিধিত্ব থাকবে কি?
ক্রিকেট পাড়ায় এখন আবার নির্বাচনী উত্তাপ। ঢাকার ক্লাব পাড়া ছাড়াও দেশের জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলো এখন সরব বিসিবি নির্বাচন নিয়ে। আজ কাউন্সিলর তালিকা প্রকাশের আগেই ভেতরে ভেতরে চলছে নির্বাচনী সমীকরণ।
এখন দেখার বিষয়, বিসিবি নির্বাচনে এবার কোনো প্যানেল হয় কি না।
জোর গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের নেতৃত্বে একটি প্যানেল গঠনের সম্ভাবনা খুব বেশি। ভেতরে ভেতরে নাকি প্যানেল তৈরির আলোচনা ও তৎপরতাও চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ফাহিম সিনহা ও রফিকুল ইসলাম বাবুসহ ১২ জনের একটি প্যানেল গঠনের চিন্তাভাবনা ও প্রক্রিয়া চলছে।
এখন প্রশ্ন হলো, সেই ১২ জনে আর কারা থাকছেন?
বলার অপেক্ষা রাখে না, তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে ফাহিম ইব্রাহীম আহমেদ, বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের ছেলে ইয়াসির আব্বাস এবং শানিয়ান তানিমের ওই প্যানেলে থাকা একরকম নিশ্চিত বলেই ধরা হচ্ছে।
বাকি পাঁচজন কারা হবেন, তা নিয়েই চলছে আলোচনা, পর্যালোচনা ও দেন-দরবার।
এখন মন্ত্রী হওয়ার পর ইশরাক হোসেন বিসিবির পরিচালক থাকতে রাজি হবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় আছে। তিনি আগ্রহী হলে তাকেও ওই প্যানেলে দেখা যেতে পারে।
এ ছাড়া বিএনপিপন্থি ক্রিকেট সংগঠকদের মধ্যে আরও কয়েকজন আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে লুৎফর রহমান বাদল, আজিজ আল কায়সার টিটো, হানিফ ভুঁইয়া ও মাসুদুজ্জামান অন্যতম। এর মধ্যে মোহামেডানের প্রতিনিধি হিসেবে কাউন্সিলরশিপ পেয়েছেন মাসুদুজ্জামান।
ক্রিকেট পাড়ায় জোর গুঞ্জন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে যে ১২ জনের প্যানেল তৈরির কথা হচ্ছে, সেখানে মোহামেডান পরিচালক ও ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান এবং এবারের প্রিমিয়ার লিগে নজরকাড়া ঢাকা লেপার্ডসের স্বত্বাধিকারী মাসুদুজ্জামানের নাম নেই।
কেন নেই — সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
তামিম ইকবাল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। শুধু এ বিষয়েই নয়, বিসিবি নির্বাচনে প্যানেল গঠন নিয়েও এখনো মুখ খোলেননি তিনি।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাসুদুজ্জামানকে রেখেই তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের সংগঠকদের নিয়ে ১২ জনের প্যানেল সাজানোর চিন্তা করা হচ্ছে।
তবে সেই ১২ জন কে বা কারা চূড়ান্ত করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের প্রধান ক্রীড়া ফেডারেশন বিসিবির পরিচালক পর্ষদ গঠনে সরাসরি না হলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একটি সম্পৃক্ততা থাকে। বলা বাহুল্য, এটি এখন অনেকটাই চলমান রীতিতে পরিণত হয়েছে।
সেই রীতি মেনেই ঢাকার ক্লাবগুলোর মধ্য থেকে ওই ১২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
শোনা যাচ্ছে, তামিম ইকবালও ওই ১২ জনের তালিকা চূড়ান্ত করার আগে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিরাই থাকবেন তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে।
শেষ পর্যন্ত তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন প্যানেলে জায়গা পেলে মাসুদুজ্জামানের জন্য বিষয়টি সহজ হবে। কিন্তু যদি তিনি জায়গা না পান, তাহলে তাকে আলাদাভাবে নির্বাচন করতে হতে পারে।
তিনি শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন কি না, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।
আর যদি তিনি নির্বাচন না করেন এবং তামিমের প্যানেলেও জায়গা না পান, তাহলে বিসিবির পরবর্তী নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদে মোহামেডানের কোনো সরাসরি প্রতিনিধি নাও থাকতে পারে।
যদি সেটাই হয়, তাহলে মোহামেডানের সরাসরি প্রতিনিধি ছাড়াই গঠিত হবে বিসিবির নতুন পরিচালক পর্ষদ।
শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সময়ই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর।
এআরবি/আইএন