মন্ত্রীর পিএ মার্শাল আর্ট কোচ, জানেন না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
অভিযোগটা একেবারে তরতাজা। বুধবারই জাগো নিউজে প্রকাশিত হয়েছে মার্শাল আর্ট দলের সঙ্গে যুগ্মসচিব এবং দুইজন মন্ত্রীর পিএস, পিএ’র পোল্যান্ড সফরের খবর। একটি অখ্যাত ক্রীড়াদলের সঙ্গে সরকারের কর্মকর্তাদের এ সফরের প্রস্তুতির খবরটি ছিল বৃহস্পতিবার ক্রীড়াঙ্গনের প্রধান আলোচনা।
তাইতো দেশের ক্রীড়া শীর্ষ ব্যক্তি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদারকে পেয়ে এ বিষয়টি নিয়ে তার মন্তব্য চাইলো মিডিয়া। এভাবে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠলো। বিশেষ করে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর মার্শাল আর্ট দলের সঙ্গে কোচ সেজে ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি।
এ প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার পিএস তো যাচ্ছেন না। তবে তারই দফতরের উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের পিএ’র কথা উল্লেখ করার পর কোনো মন্তব্য করেননি বীরেন শিকদার। সরকারি কর্মকর্তাদের ক্রীড়া দলের সঙ্গে বিদেশ সফরের বিষয়টি তিনি অন্যায় হিসেবেও দেখছেন না।
‘বিদেশে যাওয়া সব দলেই কর্মকর্তা থাকেন। সেখানে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা যাওয়াতে বাধা নেই। তারাতো ক্রীড়া নিয়েই কাজ করেন, তাদের কাজ করতে হয়। আর এসব নামের প্রস্তাব আসে ফেডারেশনের পক্ষ থেকেই। আমি বা আমার মন্ত্রণালয় থেকে পুশ করে কাউকে দলে দেয়া হয় না। দেখা গেলো ওই অফিসার ফেডারেশনের সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত আছেন। ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তাকে পাঠানো যেতেই পারে’-বলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
বড় অভিযোগটা হলো একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী মার্শাল আর্ট দলের সঙ্গে কোচ সেজে পোল্যান্ড সফরের জন্য অন্তর্ভুক্ত হওয়াটা। এ প্রসঙ্গ উঠলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হাসতে হাসতে কথাই বলতে পারছিলেন না। হাসি থামিয়ে বললেন,‘সেটা হবে না, হতে পারে না। কোনো মন্ত্রীর পিএ বা পিএস কোচ সেজে বিদেশে যাওয়াটা ঠিক না। হ্যাঁ, দেখতে হবে ওই মন্ত্রীর পিএ সত্যিকার অর্থে কোচের দায়িত্ব পালন করেন কি না। তার যদি কোচের জ্ঞান থেকে থাকে তাহলে দায়িত্ব পালন করতেই পারেন।’
না, তিনি কোচ নন। কোচিং জ্ঞানও নেই তার। তাহলে দলের কোচ হিসেবে ‘জিও’ (সরকারি আদেশ) পেলেন কী করে? ‘জিও’ কিভাবে কোচ হিসেবে দেয়া হয়েছে তা বুঝতে পারছি না। এটা কিভাবে হলো এ মুহূর্তে বলতেও পারছি না’-এটা জেনে যেন অবাকই হলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ড. বীরেন শিকদার।
আরআই/এআরএস/জেআইএম