ইমরুল-তাসকিনের সাথে সোহানও নেই, সংযোজন মোসাদ্দেক!

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:৫৯ এএম, ২০ মে ২০১৮

ক্রিকেটার মনোনয়ন শেষে নির্বাচকরা বোর্ডে দল নিয়ে দিয়েছেন গতকালই। বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের অনুমোদনের পর আজ দুপুর ১২ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

যতদুর জানা গেছে দল হবে ১৫ জনের। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, নিদাহাস ট্রফি থেকে দলে দুটি পরিবর্তন আসছে। বাঁ-হাতি ওপেনার ইমরুল কায়েস আর ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ সম্ভবত থাকছেন না। তাদের বাদ দেয়া হচ্ছে। ইমরুল ও তাসকিনকে বাইরে রেখেই দল সাজানো হচ্ছে।

নিদাহাস ট্রফির স্কোয়াড ছিল ১৬ জনের। আর এবার দল হবে ১৫ জনের। সেখান থেকে দুজন বাদ পড়লে সংখ্যা দাড়ায় ১৪। তার মানে আরও একজনের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে হবে। তিনি কে ?

তা নিয়ে খানিক সংশয়ে ছিলেন নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচকের একটি মন্তব্যে সে সংশয় দূর হয়ে গেছে অনেকটাই। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন কাউকে নিতে চাই না, যে টিম কম্বিনেশনে প্রথম একাদশে থাকবে না। বিকল্প পারফরমার হিসেবে দেরাদুন যাবে। যদি এমন কেউ থাকে , যে টি টোয়েন্টি স্কোয়াডে মুলতঃ ব্যাকআপ পারফরমার থাকবে , তাকে আমরা নিতে চাইনা। সেই পারফরমার যদি টেস্ট স্পেশালিষ্ট হয় তাকে আফগানদের সাথে টি টোয়েন্টি সিরিজে নিয়ে বসিয়ে না রেখে দেশে টেস্ট দলের প্র্যাকটিসে রাখাকেই বেশি অর্থপূর্ণ মনে করি আমরা।

প্রধান নির্বাচক কারো নাম না বললেও বোঝাই যায়, ইঙ্গিতের তীরটা ইমরুল কায়েসের দিকে। যাকে এখনো টেস্টে তামিম ইকবালের সঙ্গী ভাবা হয়। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এ বাঁ-হাতি ওপেনার সৌম্য সরকার আর লিটন দাসের বিকল্প। তারা খারাপ খেললে, কিংবা আহত হলেই হয়ত ইমরুলকে বিবেচনায় আনা হয়। কাজেই ইমরুলকে নিয়ে দেশে টেস্টের জন্য প্র্যাকটিসে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। সম্ভবত সেটাই হবে।

অন্যদিকে নিদাহাস ট্রফিতে সুবিধা করতে পারেননি ফাষ্টবোলার তাসকিন। তারপর প্রাথমিক ক্যাম্প শুরুর আগে আবার তার পিঠে ব্যাথাও ছিল। তারপরও তাকে প্রাথমিক ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাকে আফগানদের বিপক্ষে আর বিবেচনায় আনা হচ্ছে না।

যতদুর জানা গেছে ১৫ জনের দলে পেসার চারজন। মিডল অর্ডার কাম স্লো মিডিয়াম পসোর আরিফুল ছাড়াই চার প্রতিষ্ঠিত পেসার নিয়ে দেরাদুনের দল সাজানো হয়েছে। সেই চারজন খুঁজে বেড় করাও কঠিন নয়। নিদাহাস ট্রফিতে তাসকিনসহ ছিলেন পাঁচজন (রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, আবু জায়েদ রাহি ও আবু হায়দার রনি)। এখন তাসকিন বাইরে চলে গেলে ওই চারজনই থাকবেন। ওদিকে স্পিন ডিপার্টমেন্টে তেমন কোন রদবদলের সম্ভাবনা নেই। অধিনায়ক সাকিব এমনিতেই অটোমেটিক চয়েজ। আবার স্পিন ডিপার্টমেন্টেরও মুল স্তম্ভ। সঙ্গে অফস্পিনার মিরাজ আর বাঁহাতি নাজমুল অপুই থাকছেন।

এর বাইরে কারো অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা শূন্যের কোটায়। তাহলে ১৫ নম্বর সদস্য কে ? তা নিয়েই খানিক জটিলতা আছে। গুঞ্জন আছে, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে হয়ত ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট দলে নেয়া হবে। তাহলে ইমরুলের মত তাকেও আফগানিস্তানের সাথে টি টায়েন্টি দলে না নিয়ে প্র্যাকটিসে রাখা হবে ?

এখানেই হয়ত একটু হিসেব বদলে যাচ্ছে। শেষ খবর , অনেক ভেবে চিন্তে নির্বাচকরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়েছেন। এ মিডল অর্ডার কাম অফস্পিনারের দলভুক্তি একরকম নিশ্চিত বলে জানা গেছে।

সেক্ষেত্রে নুরুল হাসান সোহানের বাদ পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশী। যেহেতু লিটন দাস ব্যাকআপ কিপার আছেন। তাই আর বাড়তি কিপার নেয়ার প্রয়োজনীয়তা কম অনুভব করা হচ্ছে। আফগানদের বিপক্ষে বরং বাড়তি ব্যাটসম্যান এবং ব্যাকআপ স্পিনার বেশী রাখাই হতে পারে অধিক কার্যকর তাই সোহানকে বাদ দিয়ে মোসাদ্দেককে নেয়া।

তার মানে সম্ভাব্য স্কোয়াড হতে পারে এমনঃ
সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, মুশফিকুর রহীম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান , রুবেল হোসেন, আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, আরিফুল হক, নাজমুল অপু, মেহেদী হাসান মিরাজ।

এআরবি/এসএএস/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :