ক্রীড়াঙ্গনে যা দেখে খারাপ লেগেছে প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩০ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯

প্রায় প্রতি বছরই ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের তালিকায় যোগ হয় নতুন নতুন নাম। সংখ্যাটা পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে আগেই। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তাদের নতুন অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে সর্বশেষ অনুমোদন দিয়েছে ‘জুজুৎসু’। এটি মার্শাল আর্টের একটি খেলা। নামটি শোভা পাচ্ছে ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের তালিকায় ৫৩ নম্বরে।

বুধবার ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে মত বিনিময় সভায় বসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি সবার কথা শুনেছেন। প্রায় পৌনে তিন ঘন্টা শুনে মিনিট পনের বক্তব্য দিয়েছেন ক্রীড়াঙ্গনের নতুন এ অভিভাবক। তিনি আশার কথা শুনিয়েছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। তার বক্তব্যে ছিল কিছু সতর্কবাণীও, খারাপ লাগার কথাও।

তো কী খারাপ লেগেছে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর? গণতান্ত্রিক সরকারের মন্ত্রীর অগণতান্ত্রিক কিছু দেখলে খারাপ লাগবে সেটাই স্বাভাবিক। জাহিদ আহসান রাসেলের মন খারাপের জায়গাটা সেখানেই। ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন মিলে ৫৩ টি। দায়িত্ব নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী খোঁজ নিয়েছেন এর মধ্যে ২১ টিই চলছে অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। ৪০ ভাগ ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি থাকায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

‘৫৩ টি ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ২১ টিতে অ্যাডহক কমিটি। এ বিষয়টা আমার কাছে খারাপ লেগেছে। অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে আশানুরূপ ফলাফল করা দুরূহ কাজ। যে সব ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি আছে শীঘ্রই সেগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করছি, নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে। এটা নিশ্চিত করতে হবে’-বলেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

যে মতবিনিময় সভা করেছেন সব ক্রীড়াফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে, তা থেকে অনেক কিছু বেরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ আলোচনায় অনেক কিছু জানলাম। এরপর আরেকটি বৈঠক করবো। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে যে প্রতিশ্রুতিগুলো আছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের। বাস্তবায়নের জন্য সবার মতামত নিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করতে চাই।’

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়ে জাহিদ আহসান রাসেল বলেছেন, ‘আমরা যতো বাজেট দেই, যতো প্রশিক্ষণ করাই, সবই বৃথা যাবে আন্তরিকতা না থাকলে। আগামী ১ বছরে, ৩ বছরে এবং ৫ বছরে ফেডারেশনকে আপনারা কোথায় দেখতে চান, সে লক্ষ্য ঠিক করেন। আপনাদের কাছে পরিকল্পনা চাচ্ছি। আপনাদের পরিকল্পনা না পেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কিভাবে টাকা চাইবো?’

ক্রীড়াঙ্গনের বাজেট বৃদ্ধির চেষ্টা করবেন উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি থাকাকালীন অনেক সুপারিশ করেছিলাম। সেগুলো এখন আমার টেবিলেই। ওই সুপারিশগুলো আবার দেখে কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে ব্যবস্থা নেবো। আমাদের ইনডোর গেমসের জন্য জায়গার অভাব। আমরা চেষ্টা করেছিলাম অত্যাধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স কিংবা অলিম্পিক ভিলেজ করতে। নানা কারণে হয়নি। এবার যাতে করতে পারি সে চেষ্টা থাকবে। আমার অন্যতম কাজ হবে বাজেট বৃদ্ধি করা। আমি ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তিনিও খেলাধুলার মানুষ। আশা করি, তার অনেক সহযোগিতা পাবো।’

আরআই/এমএমআর/পিআর