শ্রমিক বৈধকরণে সাড়া কম পাচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার
অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণের নিবন্ধন কার্যক্রমে আশানুরুপ সাড়া পাচ্ছে না মালয়েশিয়া সরকার। আর তাই দেশটিতে বসবাসরত অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণের এ নিবন্ধন প্রক্রিয়া কতটুকু সফল হবে সে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির শ্রমিক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।
শ্রমিকরা জানান, সরকার নিবন্ধন ফি ১২শ থেকে ১৫শ রিঙ্গিত ধার্য করলেও সব মিলিয়ে গুণতে হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার রিঙ্গিত। প্রায় ১৬টি ক্যাটাগরিতে টাকা জমা দিতে হচ্ছে তাদের। যা প্রস্তাবিত খরচের তিন গুণ বেশি। বিভিন্ন নিয়োগকর্তার ফিও বহন করতে হচ্ছে শ্রমিকদের। তাছাড়া আদৌও নিবন্ধন হবে কি না সে ব্যাপারেও ভরসা দিতে পারছেন না কেউ। আবেদন নাকচ হলে ফি বাবদ নেয়া টাকাও ফেরতও পাবেন না শ্রমিকরা।
সূত্র বলছে, সরকার কর্তৃক দেয়া নিয়মে অনেকে শ্রমিকই বাদ পড়তে পারেন। তাই এই অনিশ্চিত প্রক্রিয়ায় কেউই ভরসা পাচ্ছেন না। বর্তমানে ২০ লাখেরও বেশি অবৈধ শ্রমিক রয়েছেন দেশটিতে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী অবৈধভাবে অবস্থান করছেন।
এদিকে, দেশটির সরকার বারবার বিদেশি শ্রমিক নিয়োগদাতা কোম্পানিগুলোর অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করে নিতে বারবার তাগিদ দিয়ে আসলেও নিবন্ধনের আওতায় আসছে না অনেকে। এ নিয়ে হতাশায় পড়েছে সরকার। প্রকল্পের সময়সীমার মধ্যে যদি কোনো শ্রমিক বাদ পড়েন তাহলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবে বলে সাংবাদিকদের জানান ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক জেনারেল দাতু সাকিব বিন কাশমি।
এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের মাত্র ১৯ হাজার ৮৯৫ জন শ্রমিক নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে শুক্রবার (আজ) পর্যন্ত ৯ হাজার ৩শ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশসহ ১৫টি সোর্স কান্ট্রিকে একটি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারকে আলাদা করা হয়েছে। মোট ৫টি ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানিকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ একই গ্রুপের ১৫টি দেশের শ্রমিকদের নিবন্ধন করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাই ইজির নেতৃত্বে পিএমএফ কনসোর্টিয়াম করা হয়েছে ৩টি কোম্পানিকে।
এছাড়া ইন্দোনেশীয়দের নিবন্ধন করার জন্য ইমান নামে একটি কোম্পানি কাজ করছে। অপরদিকে মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য বুকিত ইন্দাহ নামে একটি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মাই ইজির মাধ্যমে নিবন্ধনকারী এক শ্রমিক এ প্রতিবেদককে বলেন, নিবন্ধন করেছি কিন্তু কবে যে লিগেলাইজেশন পাবো তা সঠিক করে বলতে পারছেন না মাই ইজির কর্মকর্তারা।
এদিকে মাই ইজির এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। আমাদের বিশ্বাস বিদেশি শ্রমিকরা এখন আর প্রতারিত হবেন না। কারণ সরকার মনোনীত মাই ইজি সরাসরি তদারকির মাধ্যমে অফিসাররা অনলাইনে অবৈধ শ্রমিকদের নিবন্ধন করছেন এবং আমরা চেষ্টা করছি, যাতে করে শ্রমিকরা সুষ্ঠুভাবে বৈধ হতে পারেন।
এসকেডি/এআরএস/এমএস