পরিসংখ্যানে ক্রুইফ এবং এল-ক্লাসিকো


প্রকাশিত: ০২:৩৮ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০১৬

২ এপ্রিলের এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে সদ্য প্রয়াত সাবেক বার্সা খেলোয়াড় এবং ম্যানেজার ইয়োহান ক্রুইফের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চায় বার্সেলোনা। সত্তর এর দশকে চমৎকার ফুটবল নৈপুণ্যে মাঠ কাঁপানো ক্রুইফ দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে গত ২৪শে মার্চ চলে যান না ফেরার দেশে। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় খেলেন তিনবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইয়োহান ক্রুইফ। এরপর ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বার্সার কোচের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি।

সুতরাং, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ এই কিংবদন্তীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বেছে নিয়েছে এল ক্লাসিকোর দিনটিকে। বার্সেলোনা মিডফিল্ডার অ্যালেক্স ভিদাল বলেন, ‘ক্রুইফের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য তারা রিয়ালের বিপক্ষে জয় চান এবং সেটি ক্রুইফকেই উৎসর্গ করতে চান।’ চলুন দেখা যাক ক্রুইফ ও এল-ক্লাসিকোর কিছু পরিসংখ্যানমূলক তথ্য।

Classico

•    ইয়োহান ক্রুইফ তার প্রথম এল-ক্লাসিকোয় গোল করেন ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। সেদিন বার্সেলোনা পেয়েছিল ৫-০ গোলের অবিস্মরণীয় জয়। জয়টি ছিলো বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।   
•     ক্যাম্প ন্যুতে এল-ক্লাসিকোয় প্রথম গোল পেতে বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয় ক্রুইফকে। ক্লাবে ক্রুইফের চতুর্থ মৌসুমে তিনি পান রিয়ালের বিপক্ষে ক্যাম্প ন্যুতে তার প্রথম গোল, সে ম্যাচে বার্সেলোনা জয় পায় ৩-১ ব্যবধানে।
•     খেলোয়াড় হিসেবে ইয়োহান ক্রুইফ ৮টি এল ক্লাসিকোতে অংশ নেন। যার সব কটিই ছিল লা লীগায়। এক্ষেত্রে তার রেকর্ড হল- ৪ জয়, ২ ড্র এবং ২ হার।
•    বার্সা কোচ হিসেবে ২৫ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তার জয় ৯টিতে, ড্র ৬ ম্যাচে এবং হার ছিল ১০টিতে।
•     বার্সেলোনায় থাকাকালীন সময়ে তাকে কখনো ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হতে হয়নি।
•    বার্সার কোচ থাকাকালীন ক্রুইফকে  রিয়াল মাদ্রিদের ৮ জন ভিন্ন ভিন্ন কোচের মুখোমুখি হতে হয়। তারা হলেন- জন তোশাক, আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, লিও বেনহাকার, বেনিতো ফ্লোর, ভিসেন্তে দেল বক্স, ভালদানো এবং আরসেনিও ইগলেসিয়াস। তাকে সর্বাধিক সাতবার মোকাবেলা করতে হয়েছে বেনিতো ফ্লোরোর।
•    ১৯৯৪ সালের ৮ জানুয়ারি বার্সেলোনা ৫-০ ব্যবধানে হারায় রিয়ালকে। এর এক বছর পর বার্নাব্যুতে বার্সেলোনা আবার ৫-০ তে হেরে যায় রিয়ালের কাছে। কোচ হিসেবে প্রথমটিকে যেমন ক্রুইফের সময়ের সবচাইতে সেরা ম্যাচ বিবেচনা করা হয় তেমনি দ্বিতীয়টি বিবেচিত হয় তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচাইতে বাজে ম্যাচ হিসেবে।
•     খেলোয়াড় এবং কোচ, দুই ভূমিকাতেই মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে হারানোর রেকর্ড আছে ক্রুইফের। এই রেকর্ডটি আর কেবলমাত্র আছে পেপ গার্দিওলার।
•     কোচ হিসেবে এল ক্লাসিকোতে ক্রুইফের সময়কার সবচাইতে প্রচলিত ফলাফল ছিল ১-১, তার সময়ে পাঁচটি এল ক্লাসিকো দেখেছে এমন ঘটনা।
•     খেলোয়াড় হিসেবে ইয়োহান ক্রুইফের প্রথম ম্যাচ এবং কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ৮০২৯ দিনের। অন্য হিসাবে ২১ বছর, ১১ মাস, ২৫ দিনের। সুদীর্ঘ এই সময়ে তার হাত ধরেই বার্সালোনা পেয়েছে বেশ কিছু অবিস্মরণীয় সাফল্য।

আগামীকালের এল-ক্লাসিকোয় তাই রিয়ালের বিপক্ষে জিততে মরিয়া বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা, দর্শকরাও তাকিয়ে আছে একটি উপভোগ্য ম্যাচের জন্য। বার্সেলোনা কি পারবে টোটাল ফুটবলের জনক নেদারল্যান্ডসের এই ফুটবল কিংবদন্তীকে জয় দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে!

আইএইচএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।