জোড়া গোলে মেসিজাদু, নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে জয় ইন্টার মিয়ামির

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৭ এএম, ০২ মার্চ ২০২৬

লিওনেল মেসির জোড়া গোলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে অরল্যান্ডো সিটি এসসিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিয়ামি। রোববার রাতে ইন্টার অ্যান্ড কো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে চারটি গোল করে ইতিহাস গড়েছে মিয়ামি- এই মাঠে এটিই তাদের প্রথম জয়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দেন লিওনেল মেসি। ৫৭তম মিনিটে তেলাস্কো সেগোভিয়ার পাস থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান মেসি (২-২)। এরপর ৮৫তম মিনিটে কোনো সহায়তা ছাড়াই গোল করে মিয়ামিকে এগিয়ে দেন সেগোভিয়া। যোগ করা সময়ে (৯০তম মিনিটে) ফ্রি-কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে জয় নিশ্চিত করেন মেসি।

ম্যাচ শেষে ইন্টার মিয়ামির কোচ হ্যাভিয়ের মাচেরানো বলেন, ‘এই জয়ের কৃতিত্ব পুরোপুরি খেলোয়াড়দের। দ্বিতীয়ার্ধে তারা সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নদের মতো খেলেছে। এখানে কোনো কৌশল ছিল না, কোনো জটিল পরিকল্পনাও নয়- ছিল হৃদয়, সাহস, বল দখল, দৃঢ়তা ও দায়বদ্ধতা। তারা প্রমাণ করেছে কেন তারা গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন।’

এই ম্যাচে করা দুটি গোলই ছিল চলতি মৌসুমে মেসির প্রথম গোল। এর মাধ্যমে এমএলএসে তার রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হলো- প্রথম ৫৫টি নিয়মিত লিগ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা এখন ৫২। এর মধ্যে শেষ ৪৯ ম্যাচেই তিনি করেছেন ৫১ গোল। পাশাপাশি ক্যারিয়ারে মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৮৯৮-এ। এর মধ্যে বার্সেলোনার হয়ে ৬৭২টি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ১১৫টি গোল করেছেন তিনি।

মেসিকে নিয়ে মাচেরানো বলেন, ‘এই খেলাটার ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। একজন নেতা হিসেবে সে অন্যদের অনুপ্রাণিত করে, আবার কখনো কখনো নিজেকেও অনুপ্রেরণা দরকার হয়। আজ যখন সে আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়েছে, তখন আমাদের সামনে অনেক বিকল্প তৈরি হয়েছে। এমন সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা মেসির মতো আর কারও নেই, আর সেটাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে।’

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য দাপট দেখায় স্বাগতিক অরল্যান্ডো সিটি এসসি। ১৮তম মিনিটে ইভান অ্যাঙ্গুলোর পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মার্কো পাশালিচ। ইন্টার মিয়ামির বিপক্ষে টানা চার ম্যাচেই গোল করলেন তিনি। ছয় মিনিট পর গ্রিফিন ডরসির সহায়তায় মার্টিন ওহেদা গোল করলে বিরতির আগে অরল্যান্ডোর লিড দাঁড়ায় ২-০।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ঘুরে দাঁড়ায় ইন্টার মিয়ামি এফসি। ৪৯তম মিনিটে মাতেও সিলভেত্তি তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করে ব্যবধান কমান। ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের পঞ্চম পেশাদার ম্যাচে এটি ছিল স্মরণীয় মুহূর্ত। এই গোলে সহায়তা করেন সেগোভিয়া ও ফাকুন্দো মুরা।

গত মৌসুমে রুকি হিসেবে সেগোভিয়া করেছিলেন আট গোল ও ছয়টি অ্যাসিস্ট। আর মুরা চলতি মৌসুমে নিজের প্রথম অ্যাসিস্ট তুলে নেন এই ম্যাচেই।

ইন্টার মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শট ঠেকালেও অরল্যান্ডোর প্রথম গোলটি কিছুটা সহজেই হজম করেন। অন্যদিকে অরল্যান্ডোর গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো ম্যাচে চারটি সেভ করেন।

অরল্যান্ডোর তরুণ ডিফেন্ডার কলিন গাসকে (১৯) নিজের প্রথম শুরুর ম্যাচেই দুটি হলুদ কার্ড দেখে ৮৮তম মিনিটে মাঠ ছাড়েন। ফলে পরের ম্যাচে তাকে পাবে না অরল্যান্ডো সিটি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ম্যাচের আগে অরল্যান্ডোতে টানা নয় ম্যাচে জয় পায়নি ইন্টার মায়ামি। তার আগে তারা এলএএফসির কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল। গত মৌসুমে নিয়মিত লিগে ইন্টার মায়ামিকে দুই ম্যাচেই হারিয়েছিল অরল্যান্ডো সিটি। সব মিলিয়ে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে অরল্যান্ডো এগিয়ে আছে—৮ জয়, ৭ হার ও ৪ ড্র।

আগামী শনিবার ওয়াশিংটনের অডি ফিল্ডে ডি.সি. ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে অরল্যান্ডো সিটি খেলবে নিউ ইয়র্ক সিটি এফসির মাঠে।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।