ডার্ক মোডে রেখে ফোনের ভালো নাকি আপনার চোখের ক্ষতি করছেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
অনেকেই স্মার্টফোন কিনেই ডার্ক মোড চালু করে রাখেন

 

ডার্ক মোড নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি সাধারণ বিশ্বাস আছে এটি ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী করে এবং চোখের জন্য তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক। তাই অনেকেই স্মার্টফোন কিনেই ডার্ক মোড চালু করে রাখেন। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এমন? সব ফোন ও সব অ্যাপের ক্ষেত্রে কি ডার্ক মোড সমানভাবে উপকারী? চলুন, বিষয়টি একটু খতিয়ে দেখা যাক।

বর্তমানে প্রায় সব স্মার্টফোনেই ডার্ক মোড অপশন রয়েছে। অনেক ব্যবহারকারীর কাছে এটি যেন চোখের আরাম ও ব্যাটারি সাশ্রয়ের একমাত্র সমাধান। কারণ উজ্জ্বল সাদা স্ক্রিনের তুলনায় গাঢ় রঙের ব্যাকগ্রাউন্ড প্রথম দেখায় চোখে কম ঝলকানি দেয়। ফলে অনেকেই মনে করেন, কম আলো মানেই কম বিদ্যুৎ খরচ।

কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষণ বলছে, ডার্ক মোডের সবচেয়ে বড় ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে ওএলইডি ডিসপ্লেকে ঘিরে। সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, কালো রং দেখালে পিক্সেল বন্ধ থাকে এবং বিদ্যুৎ খরচ হয় না। তবে এটি কেবল তখনই কার্যকর, যখন স্ক্রিনে একেবারে খাঁটি কালো রং ব্যবহার করা হয়।

বাস্তবে অধিকাংশ অ্যাপ ও অপারেটিং সিস্টেম ডার্ক মোডে কালোর পরিবর্তে গাঢ় ধূসর রং ব্যবহার করে। এই ধূসর পিক্সেলগুলোও আলো তৈরি করে, ফলে বিদ্যুৎ খরচ একেবারে শূন্য হয় না। তাই সব পরিস্থিতিতে ডার্ক মোড ব্যাটারি বাঁচায় এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।

পড়ার অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রেও ডার্ক মোড সব সময় আদর্শ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বই, পত্রিকা বা অফিসিয়াল নথি সাদা পটভূমিতে কালো লেখায় ছাপা হয়ে আসছে, কারণ এই রঙের সংমিশ্রণ চোখের জন্য সবচেয়ে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক। ডার্ক মোডে উল্টোভাবে হালকা রঙের লেখা গাঢ় ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখানো হয়, যা দীর্ঘ সময় পড়লে অনেকের চোখে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া সব ফোনে ডার্ক মোডের রঙের ভারসাম্য ঠিকভাবে অপটিমাইজ করা থাকে না। ফলে লেখার কনট্রাস্ট কমে যায়, চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় লেখা পড়েন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

ডিজাইনের দিক থেকেও ডার্ক মোড সব অ্যাপের সঙ্গে মানানসই নয়। অনেক অ্যাপ শুরুতে শুধু লাইট মোডের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। পরে ডার্ক মোড যোগ করা হলেও সব রং, আইকন বা গ্রাফিক্স সেখানে সমানভাবে মানিয়ে নেয় না। ফলে কিছু অ্যাপে আইকন ফিকে লাগে বা রঙের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে প্রভাবিত করে।

এক সময় ডার্ক মোড ছিল প্রযুক্তি জগতের একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ড। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহারকারীরা এর সীমাবদ্ধতাও বুঝতে শুরু করেছেন। এটি সব ফোনে সমানভাবে ব্যাটারি সাশ্রয় করে না, আবার সব অ্যাপেই চোখের জন্য আরামদায়ক এমন দাবিও ঠিক নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার নিজের স্বাচ্ছন্দ্য। যদি ডার্ক মোডে পড়তে সমস্যা হয় বা ব্যবহার করতে অস্বস্তি লাগে, তাহলে সেটি বন্ধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। শেষ পর্যন্ত স্মার্টফোন আপনার সুবিধার জন্য ট্রেন্ড অনুসরণ করার জন্য নয়।

আরও পড়ুন
‘ব্লু টিক অ্যাংজাইটি’ ডিজিটাল যুগের মানসিক চাপ
গ্যালাক্সি জেড ট্রাইফোল্ড: ৩ ভাঁজ করা ফোন আনলো স্যামসাং

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।