পছন্দমতো গান বানাতে পারবেন জেমিনিতে
তানজিদ শুভ্র
কল্পনা করুন, আপনি একটি দারুণ ভিডিও বানিয়েছেন কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে দেওয়ার মতো ভালো কোনো মিউজিক পাচ্ছেন না। আবার কপিরাইটের ঝামেলা তো আছেই। আগে এই সমস্যার সমাধান ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্রি মিউজিক খোঁজা অথবা কোনো মিউজিশিয়ানকে দিয়ে সুর করিয়ে নেওয়া। কিন্তু এখন কাজটা পানির মতো সহজ করে দিচ্ছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘জেমিনি’।
‘জেমিনি’ দিয়ে কেউ ই-মেইল লিখছেন, কেউ আবার কঠিন বিষয়ের ব্যাখ্যা খুঁজছেন। তবে জেমিনি এখন আর শুধু টেক্সট বা ছবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ঢুকে পড়েছে সুরের ভুবনে। গুগলের নতুন ‘লিরিয়া ৩’ মডেলের হাত ধরে এখন জেমিনি দিয়ে তৈরি করা যাচ্ছে চমৎকার সব মিউজিক। মজার ব্যাপার হলো, এর জন্য আপনাকে হারমোনিয়াম বা গিটার বাজানো জানতে হবে না। শুধু লিখে দিলেই হবে আপনি কেমন সুর চান।
ধরা যাক, আপনার একটি পিয়ানোর বিষণ্ণ সুর দরকার। আপনি জেমিনিকে লিখে দিলেন, ‘একটি বৃষ্টির দুপুরের জন্য মন খারাপ করা পিয়ানোর সুর তৈরি করো’। মুহূর্তের মধ্যেই জেমিনি আপনাকে সেই সুরটি শুনিয়ে দেবে। আপনি চাইলে এর গতি কমাতে বা বাড়াতে পারেন, এমনকি সুরের মাঝে অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্রও যোগ করতে পারেন। লিরিয়া ৩ মূলত একটি হাই-ফিডেলিটি এআই মিউজিক জেনারেশন টুল। আপনার দেওয়া টেক্সট বা ইমেজ প্রম্পট থেকে এটি ৩০ সেকেন্ডের একটি পূর্ণাঙ্গ ট্র্যাক তৈরি করে দেবে।
আমাদের দেশের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি একটি বিশাল সুযোগ। ইউটিউব বা ফেসবুকের ভিডিওতে মিউজিক ব্যবহার করতে গেলে প্রায়ই কপিরাইট ক্লেইম আসে। জেমিনি দিয়ে তৈরি করা মিউজিক যেহেতু একদম নতুন এবং ইউনিক, তাই এখানে সেই ভয় নেই। নিজের প্রয়োজন মতো কাস্টম মিউজিক তৈরি করে নেওয়া এখন যে কারোর জন্যই সম্ভব।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, আপনি আপনার ফোনের গ্যালারি থেকে কোনো ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করেও মিউজিক তৈরি করতে পারেন। ধরুন, সমুদ্র সৈকতে কাটানো কোনো সুন্দর মুহূর্তের ভিডিও আছে আপনার কাছে। জেমিনিকে সেই ভিডিওর সঙ্গে একটি প্রম্পট দিলে সে এমন একটি ট্র্যাক তৈরি করবে যার কথা বা লিরিক সেই মুহূর্তের সাথে হুবহু মিলে যাবে। যারা শুরুতেই বুঝতে পারছেন না কীভাবে প্রম্পট দেবেন, তাদের জন্য আছে টেমপ্লেট গ্যালারি। সেখান থেকে পছন্দমতো একটি ট্র্যাক বেছে নিয়ে নিজের মতো করে বিবরণ যোগ করে বদলে নেওয়া যাবে।
মনমতো একটি গান পেতে আপনাকে বেশ কিছু বিষয় নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। যেমন গানের জনরা (যেমন আশি বা নব্বইয়ের দশকের পপ), গানের গতি, এমনকি কোন কোন বাদ্যযন্ত্র বাজবে সেটাও বলে দেওয়া যায়। যদি গানে কণ্ঠস্বর চান, তবে পুরুষ না নারী কণ্ঠ হবে এবং তাদের গলার ধরন কেমন হবে, তার নির্দেশনাও দেওয়া সম্ভব। যেমন আপনি চাইলে বলতে পারেন, ‘একটি শান্ত মেজাজের ফোক গান, যেখানে পিয়ানোর সুর থাকবে আর কোনো নারী কণ্ঠ মেঘলা দিনের অনুভূতি নিয়ে গান গাইবে।’
অনেকে ভয় পাচ্ছেন যে, এআই বুঝি মানুষের জায়গা দখল করে নেবে। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি শিল্পীদের জন্য একটা সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করবে। একজন সুরকার হয়তো নতুন কোনো আইডিয়ার জন্য জেমিনির সাহায্য নিতে পারেন। এটি আপনার সৃজনশীলতাকে থামাবে না, বরং আরও ডানা মেলতে সাহায্য করবে।
নিরাপত্তার কথা ভেবে গুগল এখানে ‘সিনথআইডি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এটি মিউজিকের ভেতরে এমন একটি ডিজিটাল চিহ্ন বসিয়ে দেয় যা কানে শোনা যায় না, কিন্তু সফটওয়্যার দিয়ে বোঝা যায় এটি এআই-এর তৈরি। ফলে নকল বা জালিয়াতির সুযোগও কমে আসছে।
প্রযুক্তির এই বিবর্তন আমাদের প্রতিদিনের কাজে নতুন মাত্রা যোগ করছে। সুরের এই জাদুকরী ক্ষমতা এখন আর শুধু স্টুডিওর চার দেয়ালে বন্দি নেই, চলে এসেছে আমাদের হাতের মুঠোয়। জেমিনির মাধ্যমে এই পরিবর্তন সামনের দিনগুলোতে সংগীতের জগতকে আরও কতখানি বদলে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও
এবার ছবি থেকে ভিডিও বানিয়ে দেবে জিমিনি
কেএসকে