গাড়ির ড্যাশবোর্ডের ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলোর অর্থ কী জানেন?
গাড়ি চালানোর সময় ড্যাশবোর্ডে হঠাৎ কোনো আলো জ্বলে ওঠে। অনেকেই এর সঠিক অর্থ জানেন না যে কোন রঙের আলো কী ইঙ্গিত করছে। আসলে এই ছোট ছোট আইকন আর আলোই গাড়ির ভাষা যার মাধ্যমে গাড়ি আপনাকে নিজের অবস্থার খবর জানায়। নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের জন্য এসব সিগন্যালের অর্থ জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ড্যাশবোর্ডের আলো সাধারণত তিনটি রঙে ভাগ করা হয় লাল, হলুদ (বা কমলা) এবং সবুজ/নীল। প্রতিটি রঙের বার্তা আলাদা, এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি।
লাল রঙের আলো
প্রথমেই আসা যাক লাল রঙের আলোতে। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। যেমন ব্রেক সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে বা পার্কিং ব্রেক ঠিকভাবে না ছাড়লে ব্রেক ওয়ার্নিং লাইট জ্বলে উঠতে পারে। একইভাবে ইঞ্জিন অয়েলের চাপ কমে গেলে তেলের সতর্ক সংকেত দেখা যায় যা উপেক্ষা করলে ইঞ্জিনের বড় ক্ষতি হতে পারে। আবার ইঞ্জিন সংক্রান্ত গুরুতর ত্রুটি থাকলেও সতর্কবার্তা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ, তাই দ্রুত গাড়ি থামিয়ে সমস্যা যাচাই করা উচিত।
হলুদ বা কমলা রঙের আলো
এরপর আছে হলুদ বা কমলা রঙের আলো, যা মূলত সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়। উদাহরণ হিসেবে টায়ারের চাপ কমে গেলে টিপিএমএস লাইট জ্বলে ওঠে, যা পাংচার বা বাতাস কম থাকার সংকেত হতে পারে। আবার এবিএস সিস্টেমে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট লাইট জ্বলে, যার মানে ব্রেক কাজ করলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ফিচারটি ঠিকভাবে কাজ করছে না। এই ধরনের সংকেত দেখলে দ্রুত সার্ভিসিং করানো ভালো, যদিও সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামানো সবসময় জরুরি নয়।
সবুজ বা নীল রঙের আলো
সবশেষে রয়েছে সবুজ বা নীল রঙের আলো, যা আসলে কোনো সতর্কতা নয়, বরং তথ্য দেয়। যেমন হাই বিম লাইট অন থাকলে নীল রঙের ইন্ডিকেটর দেখা যায়। আবার টার্ন সিগন্যাল চালু থাকলে তীর চিহ্নের মতো আলো জ্বলে ওঠে। এগুলো কেবল চালককে জানান দেয় যে নির্দিষ্ট ফিচারটি সক্রিয় রয়েছে।
কেএসকে