মোবাইল ফোনের দাম কমাতে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে: ফয়েজ তৈয়্যব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:০৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ছবি: এমদাদুল হক তুহিন

দেশের আইসিটি ও টেলিকম খাতে পরবর্তী সরকারের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

আইসিটি ও টেলিকম খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম পরবর্তী সরকার অব্যাহত রাখবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি শুল্ক কমানোর ফলে মোবাইলের দাম কমাতে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এ অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করেছ টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি)।

ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ও বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন বিটিআরসির কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম, আইসিটি সেক্টর দুর্নীতি শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ প্রমুখ।

শুল্ক কমানোয় মোবাইলের দাম কমানো প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘যেহেতু শুল্ক কমেছে। দাম কমে আসা উচিত। এক্ষেত্রে এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার আছে- সবাইকে যদি আমরা ইফেক্টিভ করতে পারি তাহলে অবশ্যই মোবাইলের দাম কমে আসবে।’

ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, ‘যেহেতু শুল্ক কমেছে তারা এখন এলসি খুলবে। হ্যাঁ, এলসি খোলার পরে নতুন যে এলসিটার মাল দেশে আসবে বা নতুন যন্ত্রাংশের বিপরীতে যখন দেশে উৎপাদন হবে তখন তার ইফেক্টটা আসবে। আজ প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে কাল যদি ইমপ্যাক্ট আশা করেন তাহলে এটা আমার মনে হয় একটা ভুল প্রত্যাশা। এলসির একটা লিড টাইম আছে। কয়েক মাস- দু-তিন মাস; তারপর প্রোডাক্টের র-মেটেরিয়াল আসার পরে উৎপাদন পর্যন্ত একটা একটা লিড টাইম আছে। সেই লিড টাইমের পরে আমি আশা করি দাম কমে যাবে।’

আইসিটি ও টেলিকম খাতে আনা সংস্কার পরবর্তী সরকার বাতিল করে দেবে কি না এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সেটা করতেই পারে। তবে সেখানে আমরাও চ্যালেঞ্জ করতে পারবো- আমরা কোনো বাক্য বা কোনো শব্দ কেন লিখেছি। সুতরাং পরের সরকার এসে আনডু করে দেবে সেজন্য সংস্কার হবে না- এ ধরনের মনোবৃদ্ধি আমাদের মধ্যে নেই। আমরা এই পলিসিগত কার্যক্রম কন্টিনিউ করবো। যেটা করেছি সেটা আমরা স্পষ্টভাবে করে যাবো এবং আমরা চলে যাওয়ার পরে সেটা ডিফেন্ড করার জন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করব।’

আগামী সরকারের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘আমি মনে করি আমি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ রেখে যাচ্ছি না। বরং তাদের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করে যাচ্ছি। সব সমালোচনা সব চাপ সবকিছু- নিজের কাঁধে নিয়ে যাচ্ছি আমরা- তারা যাতে দেশের ডিজিটাল ইকোনমিকে এগিয়ে নিতে পারে। সবকিছু খুব সুন্দরভাবে আমি একা দায়িত্ব নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ সমাধান করে দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। প্রজেক্ট হিসেবে গত বাজেটে কোনো প্রজেক্ট নিইনি। আমি প্রজেক্টে বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি ইনস্টিটিউশনাল ক্যাপাসিটিতে।’

সম্প্রতি ৮৮ লাখ সিম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘হ্যাঁ ৮৮ লাখ সিম বন্ধ হয়ে গেছে। এটা সংখ্যায় বড় কিন্তু এই সিমগুলোর ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ অব্যবহৃত ছিল। আমাদের একটা আইন আছে, এজনের এনআইডির বিপরীতে এখন আর ১০ এর অধিক সিম থাকতে পারবে না। তবে একজনের এনআইডির বিপরীতে ৫টি সিমের যে তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে সেটি ভুল। মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি রিকোয়েস্ট করেছে যাতে ৫টির বেশি সিম থাকার সুযোগ বন্ধ করা হয়। আরেকবার অনুরোধ করেছিল একজনের আইডির বিপরীতে যাতে দুটি সিম থাকে। সেখানে আমরা ১০টি পর্যন্ত সিমের অনুমতি দিয়েছি।’

ইএইচটি/এমএএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।