এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যজনবলের সার্বিক চিত্র


প্রকাশিত: ০৯:৫৬ এএম, ০৫ জুন ২০১৫

রাজধানীসহ সারাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল মনিটরিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কম্পিউটারের মাউসে ক্লিক করেই কোন প্রতিষ্ঠানে কতোগুলো অনুমোদিত পদে কতোজন কর্মরত রয়েছেন, কেউ বদলি হয়েছেন কিংবা কতোজন ছুটিতে রয়েছেন এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সকল তথ্য-উপাত্ত সহজেই জানতে পারবেন।  
 
বিশেষ ধরনের সফটওয়ারের মাধ্যমে ইউনিয়ন সাব সেন্টার, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ এগিয়ে চলেছে।

ইতোমধ্যেই সাত বিভাগে কর্মরত সকলের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধুমাত্র  সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শেষ হলেই স্বাস্থ্যখাতের জনবলের সার্বিক চিত্র বেরিয়ে আসবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) শাখার সম্প্রতি প্রকাশিত হেলথ বুলেটিন ২০১৪ অনুসারে সারাদেশে স্বাস্থ্য বিভাগে অনুমোদিত পদের সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজার ২১৬টি। পূরণকৃত পদের সংখ্যা এক লাখ তিন হাজার ৮৪০টি। মোট পদের মধ্যে চিকিৎসকের সংখ্যা ২৩ হাজার ৬৬ জন। বর্তমানে পূরণকৃত পদের সংখ্যা ২১ হাজার ৫৫৩।  

স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মস্থলে চিকিৎসক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ সকলেরই অভিযোগ- পোস্টিং দেয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা বিশেষ করে চিকিৎসকরা কর্মস্থলে থাকেন না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, এ  নেতিবাচক ধারণার উত্তরণ ঘটিয়ে কর্মস্থলে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত সকলের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদফতর ডিজিটাল পদ্ধতিতে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, অধিদফতরের এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) বিভাগের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত সকলের তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

এমআইএস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যান্য কাজে ব্যস্ততার কারণে তাদের পক্ষে সঠিক মনিটরিং ও সুপারভিশন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া সফটওয়ারের মাধ্যমে কীভাবে নিয়মিতভাবে তথ্য-উপাত্ত পাঠাতে হবে সে সম্পর্কে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় তথ্য-উপাত্তে গড়মিল দেখা দিত।



কিন্তু এবার তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ করার পর সঠিক মনিটরিং ও সুপারভিশনের মাধ্যমে সকলের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতসহ দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় সব কাজ করা সম্ভব হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এতোদিন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমআইএস শাখা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করলেও বর্তমানে সে দায়িত্ব পালন করছেন ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আখতার জাগো নিউজকে বলেন, মে মাসজুড়ে তারা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।

বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পরিসংখ্যানবিদরা সফটওয়ারের মাধ্যমে বর্তমানে নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাঠাচ্ছেন। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো থেকে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলেই এক ক্লিকেই সব তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এমইউ/বিএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।