‘ঝরনার রানী’কে পাহারা দিচ্ছে একদল বানর

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ১২ জানুয়ারি ২০২১

চারপাশ নির্জন। বিন্দুমাত্র কোলাহল নেই। শুধু পানির কলকল শব্দ আর মাঝে মধ্যে ভেসে আসা গাছের পাতার শব্দ ও পাখির কিচিরমিচির। এমন পরিবেশের কথা কল্পনা করলেও হারিয়ে যেতে মন চায় বহুদূর। তবে এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে আপনাকে বহুদূর যেতে হবে না। বান্দরবানের গহীন অরণ্যে হারিয়ে গেলে দেখতে পাবেন প্রকৃতির অপার বিস্ময়।

jagonews24

সেখানকার জাদিপাই পাড়ায় অবিরাম বয়ে চলছে এক দুধসাদা ঝরনা। পাহাড় চূড়া থেকে ঝরনার পানি বেয়ে পড়ার দৃশ্য যতবারই দেখুন না কেন, প্রতিবারই আপনাকে মুগ্ধ হতে হবে। অনেকেই এ ঝরনাকে ‘ঝরনার রানী’ বলে আখ্যা দেন। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো- এ ঝরনার রানীকে পাহাড়ের উপর থেকে পাহারা দিচ্ছে বানরের দল।

জাদিপাই ঝরনাটিকে বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ঝরনা। অপরূপ এ ঝরনায় মুগ্ধ হতে পর্যটকরা দলবেঁধে ছুটে চলেন পাহাড়ে। বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার জাদিপাই পাড়ায় অবস্থিত ঝরনাটি। উঁচু পাহাড় আর চারদিকে গহীন অরণ্যের মাঝে অপূর্ব ঝরনার দৃশ্য মোহিত করে সবাইকে।

jagonews24

এর একপাশে বিশাল সুউচ্চ কেওক্রাডং পাহাড় আর বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর আদিবাসীদের গ্রাম পাসিং পাড়া। আদিবাসীদের পাড়াটি বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু গ্রাম। সেখানে ভেসে থাকে মেঘ, চাইলেই হাত বাড়িয়ে ধরা যায় মেঘকে। পাসিং পাড়ার নিচেই জাদিপাই পাড়ার অবস্থান।

বাংলাদেশের অন্য সব ছোট-বড় ঝরনা থেকে জাদিপাই অনেকটাই ভিন্ন। সিঁড়ির মতো স্তরে স্তরে পড়ে ঝরনার পানি। চারপাশে গহীন জঙ্গল থাকায় ঝরনার একেবারে সামনে না গেলে দেখা পাওয়া মুশকিল। পানির আওয়াজ ধরে জাদিপাই ঝরনার খোঁজ করতে করতে হাঁটতে হয়। বর্ষাকালে ঝরনার রূপ আরও বেড়ে যায়। ঝরনার গায়ে সূর্যের কিরণ পড়তেই রংধনুর মতো সাতরং চোখে পড়ে।

jagonews24

ঝরনার পাহাড়ি ঢালে দেখা মেলে বানরের দল। তারা পাহাড়ের মাথায় বসে ঝরনার নিচ পর্যন্ত চেয়ে থাকে। দেখলে মনে হবে, তারা ঝরনাটিকে পাহারা দিচ্ছে। পর্যটকদের দিকে তাকিয়ে থেকে তারা দেখে, কে কী করছেন? বানর ছাড়াও বিভিন্ন পশু-পাখির দেখা মেলে জাদিপাইয়ে।

কীভাবে যাবেন: বান্দরবান থেকে যেতে হবে কাইক্ষ্যংঝিরি। স্থানীয় বাসে যেতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা। বাসভাড়া ৮০ টাকা। চান্দের গাড়িতে রিজার্ভ গেলে ৫০০-৪২০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। কাইক্ষ্যংঝিরি থেকে রুমাবাজার পর্যন্ত নৌকায় যেতে লাগবে ৩০ টাকা। রিজার্ভ গেলে ১০০০ টাকা। রুমা থেকে যেতে হবে বগা লেক। চান্দের গাড়িতে যেতে লাগবে ২০০০ টাকার মতো।

jagonews24

এরপর বগা লেকে নেমে পাহাড় পেরিয়ে পেয়ে যাবেন হোস্টেল। সেখান থেকে শুধু হাঁটার পর। চিংড়ি ঝরনা, দার্জিলিংপাড়া, কেওক্রাডং, পাসিংপাড়ার পর জাদিপাই পাড়া পার হলেই দেখা মিলবে জাদিপাই ঝরনা।

থাকবেন কোথায়: বগা লেকে আদিবাসীদের কিছু কটেজ পেয়ে যাবেন থাকার জন্য। খরচ পড়বে ১০০-২০০ টাকা। এর চেয়ে ভালো থাকার জায়গা বগা লেকে পাওয়া যাবে না। আর জাদিপাইয়ে কোনো থাকার জায়গা নেই।

জেএমএস/এসইউ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]