দেশের রহস্যময় স্থান ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২১

বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের একটি সংরক্ষিত স্থান হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। এর অর্থ হলো, যার কোনো তল নেই। বঙ্গোপসাগরের এই অঞ্চলটির নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি রহস্য।

আঠারশো শতকের শেষ দিকে ডুবে যাওয়া একটি বৃটিশ যুদ্ধজাহাজের খোঁজে এসেছিল দেশটির আরো কয়েকটি জাহাজ। এর সঙ্গে ছিল একদল জরিপকারীও। কোনো নিশানা না পেয়েই এর নাম দেয় সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

jagonews24

রহস্যময় এ স্থানটি সবার নজরে আসে ২০১৪ সালে। ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ হেক্টর এলাকা নিয়ে সংরক্ষিত এলাকাটি গঠিত। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গভীরতম এ উপত্যকা রেকর্ড আয়তন প্রায় ১৩৪০ মিটার। এর গড় গভীরতা প্রায় ১২০০ মিটার। এখানকার ডুবো গিরিখাত বঙ্গীয় উপবদ্বীপের অংশ। যা বিশ্বের বৃহত্তম ডুবো গিরিখাত।

jagonews24

ইতিহাসের তথ্য মতে, গঙ্গা -ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত বঙ্গোপসাগরের মধ্যকার এ গভীর খাদটি ‘গঙ্গা খাদ’ নামে পরিচিত। বিশ্বের বড় ১১টি বড় উপত্যকার একটি।

কথিত আছে, এখানেই ১৮৬৩ সালে গ্যাডফ্লাই নামে একটা ২১২ টন ওজন বিশিষ্ট গানবোট ভারত থেকে ইংল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ ধনরত্ন নিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ডু্বে যায়। তখন সেটির কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি।

jagonews24

সমুদ্রবিজ্ঞানীদের মতে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড একটি সামুদ্রিক অভয়ারণ্য। স্থানটিকে স্থানীয় জেলেরা বলে নাই বাম। কারণ তারা সাগরে ফুট কিংবা মিটারে হিসাব না করে বাম, দশ বাম, বিশ বাম। আর সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের গভীরতা সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই বলেই, নাই বাম বলে ডাকেন তারা।

প্রশান্ত মহাসাগরের গভীর খাদ মারিয়ানা ট্রেঞ্চের মতো। বঙ্গোপসাগরের অন্যতম মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে নানা জাতের সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি আছে বিশাল তিমি, ডলফিন, হাঙর, কচ্ছপ আর বিরল প্রজাতির কিছু জলজপ্রাণী। প্রায় দেড় হাজার বর্গমাইলের বিস্তীর্ণ এলাকাটি বিরল জীববৈচিত্রের নিরাপদ প্রজননকেন্দ্র।

jagonews24

এসব সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো তিমি, পপাস ডলফিন, পৃথিবীর বৃহত্তম ইরাবতী ডলফিন, গোলাপি পিঠের কুঁজো ইন্দো প্যাসিফিক ডলফিন ও মসৃন পিঠের (পাখনাহীন) ইমপ্লাইস ডলফিন।

এছাড়া এটি ডলফিন পরপাস ও তিমির প্রজননক্ষেত্রও। বিজ্ঞানীর জানাচ্ছেন এটিই পৃথিবীর একমাত্র সোয়াচ যেখানে এই তিন প্রজাতির সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী একসঙ্গে দেখা যায়।

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় এক স্থান হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। এখানে পানির কাছাকাছি সী-গাল পাখির অবস্থান দেখে বুঝতে পারবেন ডলফিন এবং তিমির অবস্থান। তিমির মধ্যে এখানে দেখতে পাবেন ব্রীড তিমি ও মিল্কি তিমি।

jagonews24

দৈত্যাকার তিমির উপস্থিতি মুহূর্তে শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিলেও সৃষ্টির এমন রহস্য কাছ থেকে দেখে নিজেকে পরম সৌভাগ্যবানই মনে হবে। এছাড়া সামুদ্রিক রহস্যময় জীব জগতের মধ্যে এখানে দেখতে পাবেন প্রায় ১০ প্রজাতির পাখি, ৩০ প্রজাতির মাছ সহ আরো নানা জাতের প্রাণী।

যেভাবে যাবেন

সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ড মংলা/ সুন্দরবন এর দুবলার চর/সোনারচর থেকে প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে সরাসরি মংলা। মংলা থেকে প্রতিদিনই মাছ ধরার ট্রলার যায় সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে উঠে পড়বেন যেকোনো একটি ট্রলারে। রাতে মাছ ধরার জন্য ট্রলারগুলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে। বিস্তারিত জেনেই ট্রলারে চড়বেন।

এছাড়া মংলা বন্দরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখবেন, যদি জাহাজে করে যাওয়ার সৌভাগ্য এবং সুযোগ মিলে কি-না। অবশ্যই আবহাওয়া জেনে বুঝে তবেই মাঝ সমুদ্রে ভ্রমণ করা উচিত।

জেএমএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]