ঘোলের খোঁজে সলপে

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

ফাত্তাহ তানভীর রানা

একসময় পাবনার সলপের তৈরি ঘোল চলনবিলের সীমানা পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল।

প্রতিদিনের তৈরি ঘোল উল্লাপাড়ার সলপ রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে সকাল ৯টার মধ্যে কলকাতা গিয়ে পৌঁছাত। কালের বিবর্তনে ঘোলের এমন বিস্তৃত বাজার না থাকলেও এখনো এর চাহিদা আছে দেশে-বিদেশে।

এই ঘোলের সুনাম ১০০ বছরের! ১৯২২ সালে সাদেক আলী সলপে প্রথম ঘোল তৈরি করেন। এখনো তার বংশধররা ঘোলের আদি ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

আব্দুল মালেক ও আব্দুল খালেক তারই উত্তরসূরি। এ ছাড়া ঘোলের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আরও বিভিন্ন দোকান সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সেই দোকানগুলোর ব্যবসাও মন্দ নয়।

তবে সাদেক আলীর স্মৃতি বিজড়িত মালেক-খালেকের ঘোল খেতে হলে যেতে হবে সলপ রেল স্টেশনের ওপারে। সলপ বাজারে ঢোকার আগে রাস্তায় অনেক ঘোলের দোকান আছে।

আমার সহযাত্রী ছিলেন স্ত্রী। তার বান্ধবি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিরিন সুলতানা লাবণি ও লাবণির স্বামী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হাসান রাজু। সবাই ঘোল আর মাঠা খেলাম। আদি ও অকৃত্রিম স্বাদ! এমন ঘোল-মাঠা খাইনি কখনো। আহা! এমন মাঠা যদি রোজ পেতাম! ইচ্ছেমতো চারজনে ঘোল-মাঠা পান করলাম। সলপের ঘোল খুবই ঘন আর মাঠাও সুস্বাদু।

প্রতিকেজি ঘোল ৬০ টাকা আর প্রতিকেজি মাঠা ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। সলপের মানুষের মন ঘোলের মতোই শুদ্ধ। তারা দাম বেশি বলেননি, পরিবেশনেও ছিল আন্তরিক। সাধারণ মানুষ মালেকের ঘোলের দোকান চিনিয়ে দিতেও দ্বিধা করেননি।

ঘোলের খোঁজে সলপে

প্রতিদিন ভোরে গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে সংগৃহীত গরুর দুধ আড়াই থেকে ৩ ঘণ্টা জ্বাল দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় জ্বাল দেওয়ার পর পাত্রে করে সারারাত রেখে দেওয়া হয় সেই দুধ।

সকালে জমে থাকা সেই দুধের সঙ্গে চিনি ও অন্য উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু পানীয়। ঘোলের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে প্রতিবছর বৈশাখ মাসের প্রথম শুক্রবার সলপে ঘোল উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ঢাকা থেকে সলপ যেতে হলে সিরাজগঞ্জের কড্ডা মোড়ে নামতে হবে। যেতে পারেন সিরাজগঞ্জ, পাবনা বা রাজশাহীর গাড়িতে। সলপ থেকে সরাসরি ঢাকা গাড়ি থাকলেও তা উন্নতমানের নয়, তাতে শীতাতপ সুবিধা নেই।

আবার ট্রেনে গেলে সিরাজগঞ্জের কড্ডা বা মনসুর আলী স্টেশনে নামতে হবে। কড্ডার মোড় থেকে সিএনজি নিয়ে সরাসরি সলপ যেতে পারেন। আবার কড্ডার মোড় থেকে জামতৈল ব্রেক দিয়েও সলপ যেতে পারেন। কড্ডার মোড় থেকে সময় লাগবে ঘণ্টাখানেক। ট্রেনে জামতৈল স্টেশনে নামার সুযোগ আছে। সেখান থেকে ভ্যান, অটো বা সিএনজিতে সলপ যাওয়া যায়।

যাদের সঙ্গে নিজস্ব পরিবহন থাকবে, তারা কড্ডা থেকে জামতৈল-কামারখন্দ-সলপ যেতে পারবেন। কড্ডার মোড় থেকে সলপের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার।

যারা পাবনা, রাজশাহী বা বগুড়া থেকে আসবেন, তাদের উল্লাপাড়া দিয়ে সলপ ঢুকতে হবে। উল্লাপাড়া থেকে সলপ প্রায় ৯ কিলোমিটার।

লেখক: ব্যাংকার ও গল্পকার

জেএমএস/এসইউ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।