সোনালু-কৃষ্ণচূড়া ফুলে মাতোয়ারা রাজশাহী কলেজ

ভ্রমণ ডেস্ক
ভ্রমণ ডেস্ক ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:০১ পিএম, ১৩ মে ২০২৩

এস আলী দূর্জয়

গ্রীষ্মের নির্মল বাতাসে দুলছে হলুদ-সোনালি রঙের থোকা থোকা সোনাঝরা সোনালু। ঋতুরাজকেও হার মানানো সৌন্দর্য নিয়ে ফুটেছে লাল কৃষ্ণচূড়া, জারুল।

গাছে গাছে পাখির কলতান, ফুলে ফুলে রঙিন প্রজাপতি ও ভ্রমরের ছোটাছুটি। গ্রীষ্মের এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সেজে ওঠেছে দেশসেরা বিদ্যাপিঠ রাজশাহী কলেজ।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনের ‘মোখা’ শহর কেন বিখ্যাত? 

৩৫ একর পরিসীমার এ কলেজ ক্যাম্পাসে সোনালু, কৃষ্ণচূড়া ও জারুলসহ গ্রীষ্মের বাহারি ফুল প্রকৃতি মেলে ধরেছে অপার সৌন্দর্য।

ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর, রবীন্দ্র-নজরুল চত্বর, বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্ণার ও বোটানিকেল গার্ডেনসহ পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে গ্রীষ্মে বাহারি রঙের ফুল ফুটলেও রক্তিম কৃষ্ণচূড়া ও সোনাঝরা সোনালু ফুলে চোখ আটকায় পথিকের।

কলেজের প্রধান ফটক পেরিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গেলেই দেখা মেলে কৃষ্ণচূড়ার। সূর্যের সবটুকু উত্তাপ যেন কেড়ে নিয়েছে টুকটুকে লাল এই কৃষ্ণচূড়া। এছাড়া কলেজ ক্যান্টিন থেকে সামনে কয়েক কদম এগিয়ে গেলেই দেখা যাবে পরিসংখ্যান বিভাগ।

আরও পড়ুন: চা বাগানসহ শ্রীমঙ্গল ভ্রমণে আরও যা দেখবেন 

এর সামনের কৃষ্ণচূড়া গাছে আগুনরাঙা ফুল প্রকৃতির সব রংকে ম্লান করে দিয়েছে। সকালের দিকে ক্যাম্পাসের পিচঢালা কৃষ্ণবর্ণ রাস্তাগুলো কৃষ্ণচূড়ার ঝরে পড়া রক্ত লাল পাপড়ি যেন পুষ্প শয্যা মনে হয়।

আর সোনালুর হলুদ-সোনালি রং গ্রীষ্মকে দিয়েছে অন্যমাত্রা। ক্যাম্পাসের রসায়ন ভবনের সামনে রাস্তা দিয়ে হাটতেই দেখা মিলবে হলুদে আচ্ছাদিত সোনালুর স্বর্গের। যেখানে রং ছড়াচ্ছে হলুদের বেশে প্রকৃতিতে আসা সোনালু ফুল।

মনে হয় কোনো রুপসী কন্যা এইমাত্র হলুদের পিঁড়িতে বসলো। পুরো গাছ থেকে হলুদ যেন বয়ে বয়ে পড়ছে। এই ফুলের মন মাতানো বৈশাখী হাওয়ায় কিশোরীর কানের দুলের মতো দুলতে থাকা সোনালু ফুলের থোকাগুলো নাড়িয়ে যায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীদের মন।

আরও পড়ুন: সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরে আসুন ভারতের ‘ছোট্ট স্কটল্যান্ডে’ 

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত রাইসা বলেন, ‘সোনালু ও কৃষ্ণচূড়া এই দুইটা ফুল যেন এই ক্যাম্পাসকে লাল হলুদ সমন্বয়ে ফুটিয়ে তুলেছে।’

‘এত রোদের মাঝেও যেন একটু শান্তির দেখা পড়ে যায় চোখে এই ফুলের দিকে তাকালে এ গাছ যেমন ছায়া দেয়, তেমনই মুগ্ধ করার মতো ফুল দেয়। ক্যাম্পাস যেন ভরে উঠেছে রং-বেরঙের ফুলে, সঙ্গে সুর দেয় নানান পাখির কলতান।’

সোনালু ফুলের আদি নিবাস হিমালয় অঞ্চল। তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমার অঞ্চলজুড়ে এর বিস্তৃতি আছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওযেলস ও কুইন্সল্যান্ডের উষ্ণ অঞ্চলে এদের প্রচুর দেখা মেলে।

আরও পড়ুন: ঢাকার কাছেই ঘুরে আসুন বাঁশ-কাঠের তৈরি ‘রূপগাঁও রিসোর্টে’ 

সোনালু গাছ সাধারণত ১৫-২০মিটার উঁচু হয়। পত্রঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে গিয়ে গাছ থাকে পত্রশূন্য। গ্রীষ্মে গাছের শাখা-প্রশাখাজুড়ে ঝুলন্ত মঞ্জুরিতে সোনালি-হলুদ রঙের ফুল ফুটে। এর ব্যাপ্তি থাকে পুরো গ্রীষ্মকালজুড়ে।

অন্যদিকে কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কারে। কৃষ্ণচূড়া গাছের উচ্চতা ১১-১২ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। তবে এর শাখা-পল্লব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়ানো থাকে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাংলাদেশে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। কুঁড়ি আসার কিছুদিনের মধ্যে পুরো গাছ ভরে যায় ফুলে ফুলে।

জেএমএস/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।