টেকসই আগামীর জন্য নারীদের সাত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৫৭ পিএম, ১৩ মার্চ ২০২২

টেকসই আগামীর জন্য নারীর প্রতি অসম্মানজক আচরণ ও যৌন হয়রানি বন্ধসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছেন নারীরা। ওয়ার্কার্স রিসোর্স সেন্টার (ডব্লিউআরসি) নারী কমিটির ব্যানারে এ দাবি জানানো হয়েছে।

ডব্লিউআরসি নারী কমিটি আয়োজিত ‘টেকসই আগামীর জন্য জেন্ডার সমতাই আজ অগ্রগণ্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা থেকে এসব দাবি জনানো হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সামসুন্নাহার ভূইয়া।

আলোচনা সভায় ডব্লিউআরসি নারী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো সাত দাবির মধ্যে রয়েছে-

* নারীর জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সনদ ১৯০ ও ১৮৯ অনুস্বাক্ষর করতে হবে।

* কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে শ্রম আইন ২০০৬ সংশোধন করে সুনির্দিষ্ট ধারা যুক্ত করতে হবে।

* নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ ও যৌন হয়রানি বন্ধসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

টেকসই আগামীর জন্য নারীদের সাত দাবি

* সব প্রতিষ্ঠানে শিশু পরিচার্য কেন্দ্র, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিশুদের জন্য সুষম খাদ্য ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

* শ্রম আইনের ৩৩২ ধারায় নারীর প্রতি অশ্লীল ও অভদ্রজনিত আচরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা জেন্ডার সংবেদনশীল নয়। ধারাটি নারীর প্রতি কর্মক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া নানা ধরনের হয়রানি ও সহিংসতাকে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরে না। এক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ ও জরিমানা বৃদ্ধি করতে হবে।

* সবক্ষেত্রে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানির বিষয়টি শূন্য সহিষ্ণুতা দেখানো ও এ লক্ষ্যে যৌন হয়রানিবিরোধী কমিটি গঠন করতে হবে।

* ট্রেড ইউনিয়নে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও তাদের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে হবে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সামসুন্নাহার ভূইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্বের কারণে নারীরা অনেক এগিয়েছেন। তবে সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক কথা নারীরা এখনো বলতে পারেন না। যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। নারীকে পেছনে রেখে, নির্যাতন করে, ধর্ষণ করে টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। সুন্দর সমাজ গড়ার জন্য আমাদের যে বাঁধাগুলো আছে, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে।

ডব্লিউআরসি নারী কমিটির চেয়ারম্যান শেহেলি আফরোজ লাভলী’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- আইএলও-এসডিআইআর’র চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার নিরান রামজুঠান, বিলস’র পরিচালক কোহিনুর মাহমুদ, আইএলও-এসডিআইআর’র প্রোগ্রাম অফিসার জামিল আনসার, জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ডাইভারসিটি’র চেয়ারপারসন শাম্মিন সুলতানা, ডব্লিআরসি’র চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, ডব্লিউআরসি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, এনসিসিডব্লিউই’র মেম্বার সেক্রেটারি চৌধুরী আশিকুর আলম, ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিল’র মীর আবুল কালাম আজাদ ও ডব্লিউআরসি বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য চায়না রহমান প্রমুখ।

এমএএস/এমআরএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]