গবাদিপশুর শীতকালীন পরিচর্যা কেমন হবে?

কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক কৃষি ও প্রকৃতি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পিএম, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
ফাইল ছবি

মো. আনসারুজ্জামান সিয়াম

বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাস বেশি শীত থাকে। গবাদিপশু মানুষের মতো শীতের তীব্রতা প্রকাশ করতে পারে না। তবে পশুর শরীরের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যই তা প্রকাশ করে। আমরা শীতে মোটা কাপড়, জ্যাকেট এবং রাতে কম্বল পরিধান করি। কিন্তু অবলা প্রাণী হিসেবে তাদের প্রতি যত্ন নেওয়াটাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

শীতকালে সাধারণত শীতল হাওয়া বয় বেশি। এ ছাড়া এ সময় গবাদিপশুর তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। এটি হাইপোথার্মিয়া নামে পরিচিত। শীতের সময়ে গবাদিপশু ও বাছুর নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টে ভোগে বেশি। এ সময় অ্যালার্জির বিভিন্ন রকমের সংক্রমণ দেখা যায়। এ ছাড়া প্রাণী বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল রোগে ভুগে থাকে। যেমন- গলাফোলা রোগ, তড়কা রোগ, ল্যাম্পি স্ক্রিন ডিজিজ, ক্ষুরা রোগ ইত্যাদি।

গোয়ালঘর অর্থাৎ গরুর বাসস্থান সব সময় বাইরের বাতাস থেকে মুক্ত রাখতে হবে। খামারে ব্যাকটেরিয়াল ও ভাইরাল রোগ যেন বৃদ্ধি না পায় এ জন্য অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সর্বদা চলমান রাখতে হবে। ঘরের ভেতরে যেন উষ্ণ গরম থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পাটের তৈরি বস্তা, কম্বল এবং গবাদিপশুর জন্য আধুনিক জ্যাকেট পাওয়া যায়; সেগুলো ব্যবহার করতে হবে। বেডিং উপাদান হিসেবে শুকনো খড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

খামারের চারদিকে পলিথিন দিয়ে এমনভাবে ঢাকতে হবে, যেন কুয়াশা অথবা বাতাস সহজেই প্রবেশ করতে না পারে। এ সময় ফুটরুট ও লিভার ফ্লুক বেশি দেখতে পাওয়া যায়। তাই নিয়মিত ডিওয়ার্মিং ও ভ্যাক্সিনেশন করতে হবে। এ ছাড়া সার্বিক প্রয়োজনে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি।

আরও পড়ুন
খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষিতে মনোযোগ বাড়াতে হবে 
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশদূষণ 

শীতকালে খাবার পানি গ্রহণ ক্ষমতা কমে যায় এবং প্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। খাবার পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানি দিতে হবে। এ সময় গবাদিপশুর এনার্জির পরিমাণ কমে যায়। তাই খৈল, ভুষি, গম ও চিটাগুড় ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া ভিটামিন, জিংক, ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। উৎপাদন ক্ষমতা যেন কমে না যায়, তাই ভিটামিন ই, এ, ডি, বি কমপ্লেক্স দিতে হবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি সরবরাহ করা যায়।

গর্ভবতী প্রাণীর ক্ষেত্রে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে। গর্ভধারণের শেষ ২-৩ মাস ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শে ক্যালসিয়াম, জিংক এবং ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সরবরাহ করতে হবে। নয়তো পেটের বাচ্চা প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্বল বাচ্চা জন্ম দেবে। এ ছাড়া ম্যাস্টাইটিস রোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না সেটা লক্ষ্যণীয় বিষয়।

অন্যথায় চিকিৎসা খরচ বাড়ার পাশাপাশি দুধ উৎপাদন কমে যাবে। গর্ভবতী গাভিকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস দিতে হবে। অতিরিক্ত ইউরিয়া দিয়ে উৎপাদিত ঘাস পরিহার করতে হবে। নয়তো পাতলা পায়খানা হবে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি খেতে দিতে হবে।

পরিশেষে শীতকালীন পরিচর্যাই পারে গবাদিপশুকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে। তাই শীতকালীন পরিচর্যার জন্য মালিককে সচেতন ও পরিচর্যামূলক মনোভাবাপন্ন হতে হবে। তাহলেই শীতের প্রকোপ থেকে বেঁচে যাবে নিরীহ প্রাণীগুলো।

লেখক: ৪র্থ বর্ষ, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার।

এসইউ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।