১ মণ ভুট্টার দাম ৬০০ টাকা, চাষে আগ্রহ বেড়েছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:৪৪ পিএম, ০১ মার্চ ২০২০

নওগাঁয় প্রতিবছর বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ। ধান, গম ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ ও পরিশ্রম কম এবং দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরা ভুট্টা আবাদে ঝুঁকেছেন। এ ছাড়া সরকারি প্রণোদনা ও সহযোগিতা দেওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন পাবেন এমনটাই আশা করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৭ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এ বছর ২৮৫ হেক্টর জমিতে বেশি পরিমাণ আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ২৫৫ হেক্টর, রানীনগরে ৪২০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর, বদলগাছীতে ৮০ হেক্টর, মহাদেবপুরে ১২০ হেক্টর, পত্নীতলায় ৩৫ হেক্টর, ধামইরহাটে ৩৯০ হেক্টর, সাপাহারে ২০ হেক্টর, পোরশায় ১৫ হেক্টর, মান্দায় ৬১৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৪৫ হেক্টর। এ ছাড়া প্রদর্শনী রয়েছে ৩০০টি। উন্নতমানের সুপার সাইন, মিরাক্কেল, ডন, ১১১ জাতের ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে।

গতবছর ৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ৬ হাজার ২২০ হেক্টর, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। ২০১৬-২০২০ সাল পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমিতে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ।

Vutta

জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে লকলকে সবুজ পাতায় স্বপ্ন বুনছেন ভুট্টা চাষিরা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও গাছে ফুল আসা শুরু করেছে। আবার কোথাও তরতাজা হয়ে গাছ বেরিয়ে আসছে। কোথাও মাঝারি ও বড় গাছ। আর এমন দৃশ্য উপজেলার মাঠজুড়ে। কম সময়ে ও ভূগর্ভস্তরের পানি কম ব্যবহার করতে রবিশস্য আবাদের জন্য কৃষকরা ভুট্টা চাষ করছেন। ভুট্টা চাষে প্রতি বিঘায় হাল, বীজ, সার, ওষুধ ও শ্রমিক দিয়ে প্রায় ৬-৭ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এ ছাড়া আলুর জমিতে ভুট্টার আবাদ করলে খরচ একটু কম হয়। ভুট্টার পর ওই জমিতে পাটের আবাদও হয়ে থাকে।

প্রতি বিঘায় ভালো মানের ভুট্টা হলে ফলন আসে ৩৫-৪০ মণ। এ ছাড়া কমপক্ষে ২০-২৫ মণের মতো ফলন হয়ে থাকে। যেখানে নতুন ভুট্টা বাজারে দাম পাওয়া যায় ৫০০-৬০০ টাকা মণ। ভুট্টার আবাদে রোগবালাই তেমন নেই। গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভুট্টা চাষিরা কিছুটা ক্ষতিতে পড়েছিলেন। এবার সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাড়তি আবাদ করেছেন। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন বলে আশাবাদী।

অপরদিকে বোরো আবাদ কিছুটা কমিয়ে দিয়ে ওইসব জমিতে ভুট্টা চাষ করা হচ্ছে। ধান লাগানো থেকে শুরু করে সার, ওষুধ, কাটা, মাড়াই পর্যন্ত ঘরে তুলতে উৎপাদন খরচ বড়েছে। এ ছাড়া বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম। আবার পোকার আক্রমণ হলে নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা কষ্টকর হয়ে ওঠে কৃষকদের পক্ষে। যার কারণে কৃষকরা বিকল্প হিসেবে ভুট্টার আবাদের দিকে আগ্রহী হয়েছেন।

Vutta

আত্রাই উপজেলার বিপ্রবোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, তিনি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। উপজেলার অধিকাংশ জমিতে মূলত দুটি ফসল হয়ে থাকে। ভুট্টার পর সে জমিতে পাটের আবাদ করা হয়। ধানের দাম কম পাওয়ায় বিকল্প হিসেবে ভুট্টার আবাদ করা হচ্ছে। গতবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রানীনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সোনাতন প্রামাণিক জানান, দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন তিনি। অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম। দামও ভালো পাওয়া যায়। একটু দেরীতে বিক্রি করলে মণে ৯০০ থেকে হাজার টাকা দাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া কৃষি অফিস থেকে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে থাকে।

Vutta

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৪০ হেক্টর। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর। যেখানে আদর্শ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী রয়েছে ৫০টি। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০ জন কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। কৃষকরা কিছু সময় দেরী করে বিক্রি করলে দামও ভালো পাবেন।’

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে কৃষকদের রবিশস্যসহ কম পানি দিয়ে কম সময়ে ফসল চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কৃষকদের ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

আব্বাস আলী/এসইউ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]